• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ আশ্বিন ১৪২৬, ২৪ মহররম ১৪৪১

সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

ভারত থেকে চোরাই পথে পোনা আনার পাঁয়তারা : উদ্বিঘ্ন চিংড়ি চাষি

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা

| ঢাকা , বুধবার, ২২ মে ২০১৯

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি মাসের ২০ তারিখ থেকে আগামী দুই মাস সাগরে মা বাগদা ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় ফের সংকটে পড়তে যাচ্ছে দেশের সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি শিল্প। সরকারি সিদ্ধান্তের এই সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষীমহল ভারত থেকে অবৈধ পথে ভাইরাস যুক্ত নিম্নমানের নপ্লি (ছোট পোনা) দেশে এনে নার্সিং করে বাজারে বিক্রির পায়তারা শুরু করেছে। ভারতীয় নপ্লি নার্সিং করা ভাইরাসযুক্ত চিংড়ি পোনা ঘেরে ছাড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হবে চাষিরা। ফলে হুমকির মুখে পড়বে দেশের চিংড়ি শিল্প।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য দফতর সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় ৬৬ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে ৫৫ হাজার ১২২টি ছোট বড় চিংড়ি ঘের রয়েছে। চলতি ২০১৯ মৌসুমে চিংড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৫শ’ টন। এসব ঘেরে চিংড়ি পোনার চাহিদা রয়েছে ৩৩৪কোটি। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৫৬টি এবং খুলনা অঞ্চলে ২৭টি মিলে দেশে মোট চিংড়ি পোনা উৎপাদনকারি হ্যাচারি রয়েছে ৮৩ টি। এছাড়া নার্সারি রয়েছে ১৮২টি।

মোস্তফা শ্রীম্প প্রডাক্ট (ব্র্যান্ড-সৌদিয়া) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কফিল উদ্দিন জানান, সাগরে এমনিতে মা বাগদা সংকট চলছে। টাকা দিলেও মিলছে না। মাদার (মা বাগদা) সংকটের কারনে কক্সবাজার ভিত্তিক চিংড়ি পোনা উৎপাদনকারি অধিকাংশ হ্যাচারি ভরা মৌসুমে উৎপাদনে যেতে পারছে না। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারভিত্তিক ৫৬টি হ্যাচারির মধ্যে বর্তমানে ২১/২২টি হ্যাচারি চালু আছে। এসব হ্যাচারিতে যে পরিমাণ পোনা উৎপদনে হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে বাজারে এখন চিংড়ি পোনার সংকট রয়েছে। এরই মধ্যে সরকার চলতি মে মাসের ২০ তারিখ থেকে আগামী দুই মাসের জন্য সাগরে মাদার (মা বাগদা) ধারার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে মাদার ধারা বন্ধ থাকলে বাজারে পোনার সংকট আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে চিংড়ি চাষের ভরা মৌসুমে ঘেরে পোনা ছাড়তে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে চাষিরা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের চিংড়ি শিল্প। যার প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতির ওপর। তিনি দেশের চিংড়ি চাষি ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সাগরে মাদার ধরা বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার দাবি জানান।

চিংড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ সূত্র জানায়, দুই মাস সাগরে মা বাগদা (মাদার) ধারা বন্ধ থাকার কারনে একমাস পরে বাজারে চিংড়ি পোনা সরবরাহ থাকবে না। আর কৃত্রিম পোনা সংকটের এ সুযোগে অবৈধ পথে ভারতীয় নিম্নামানের নপ্লি ঢুকবে বাংলাদেশে। অধিক মুনাফা লাভের আশায় স্থানীয় কিছু হাচারি ও নার্সারির মালিক অবৈধ পথে আনা নিম্নমানের এই ভারতীয় নপ্লি নাসিং করে তা বাজারজাত করবে। ফলে ভাইরাস যুক্ত নিম্নমানের এ ভারতীয় পোনা বাজার থেকে কিনে প্রতারিত হবে চিংড়ি চাষিরা। এ পোনা ঘেরে ছাড়ার কিছুদিন পর মাছে মড়ক দেখা দেয়। ফলে এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘেরের সমস্ত চিংড়ি মরে সাবাড় হয়ে যায়।

সূত্র আরো জানায়, মা বাগদা ধরা বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের এ সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থন্বেষী মহল ইতোমধ্যে ভারতীয় নিম্নামানের নপ্লি আনার পরিকল্পনা করছে। গত কয়েকদিন আগে সাতক্ষীরা শহরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এনিয়ে গোপন বৈঠকও করেছেন তারা।

বাংলাদেশ মৎস্যচাষি সমিতির সভাপতি সাবেক মৎস্য প্রতিমন্ত্রী ডা. আফতাবুজ্জামান জানান, চিংড়ি চাষের এ ভরা মৌসুমে মাদার ধরা বন্ধ থাকলে বাজারে পোনার সংকট দেখা দিবে। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভারত থেকে নপ্লি এনে তা বড় করে বাজারে বিক্রি করবে। এতে করে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম সরদার জানান, সাগরে দুই মাস মাদার ধরা বন্ধ থাকলে প্রথম একমাস ওই পেরা দিয়ে চলবে। তবে পরের এক মাস একটু অসুবিধা হবে। এ সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নিম্নমানের চিংড়ি রেণু, নপ্লি, পিএল ও চিংড়ি বিভিন্ন পন্থায় দেশের অভ্যন্তরে ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষে ব্যাপক মড়ক এবং রফতানি বন্ধের জন্য এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে বা যাচ্ছে। বিদেশি চিংড়ি রেণুু, নপ্লি, পিএল ও চিংড়ি সীমান্ত দিয়ে আমাদের দেশে অনুপ্রবেশ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরাস্থ বিজিবি ৩৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে।