• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ১৬ জিলহজ ১৪৪১, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রশস্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাতিরপুল কবরস্থান রক্ষার দাবি

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

| ঢাকা , সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২০

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বাড়িউড়া এলাকায় ১৬শ’ শতাব্দীতে নির্মিত বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের সংরক্ষিত নিদর্শন ‘হাতিরপুল’ ও প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকা দুটি কবরস্থান ও একটি মসজিদ রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনে এই দাবি জানানো হয়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি বর্তমানে দুই লেনের। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে এটিকে দুটি সার্ভিস লেনসহ ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি বছরেই এর কাজ শুরু হবার কথা রয়েছে। এজন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন সম্প্রতি সড়কের উত্তর পাশের জায়গা অধিগ্রহণ করতে মাপজোক করে। এরপরই টনক নড়ে আশপাশের গ্রামের মানুষের। এলাকাবাসীর পক্ষে বাড়িউড়া গ্রামের বাসিন্দা জসীম উদ্দিনের করা আবেদনে বলা হয়, বাড়িউড়া বাজারের পূর্ব প্রান্তে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘেঁষা উত্তর পাশে ঐতিহাসিক হাতিরপুলটির অবস্থান। ১৬৫০ সালে মোঘল আমলে সরাইলের দেওয়ান শাহবাজ আলী সরাইল থেকে শাহবাজপুর হয়ে হরষপুর যাতায়তে হাতির বিশ্রামের জন্য একটি ছাউনি নির্মাণ করেন, যা পরে ‘হাতিরপুল’ নামে পরিচিত হয়ে উঠে। ইট ও চুন-সুড়কি ব্যবহার করে তৈরি করা এই পুলটি সরাইলের এক ঐতিহ্য, যা এখন প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ। অপরদিকে সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ থেকে বারিউড়া হয়ে শাহবাজপুর গ্রাম পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উত্তর পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত তিন শ’ বছরের পুরনো দুটি কবরস্থান। সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া, ইসলামাবাদ ও বছিউড়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের মৈন্দ গ্রামের বাসিন্দারা সেখানে মরদেহ সমাহিত করেন। এই দুটি কবরস্থান ছাড়া সাধারণ মানুষের বিকল্প আর কোন বড় কবরস্থান নেই। মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজে গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনা ও কবরস্থানের জায়গা চলে যাওয়ার খবরে তারা এখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বাড়িউড়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ি ও সর্দার হাবিব রহমান বলেন,এত বড় কবরস্থান আশাপাশের কয়েক গ্রামের আর কোথাও নেই। হাতিরপুলও আমাদের ঐতিহ্য। ফলে এলাকার মানুষ চায় মহাসড়কটি দক্ষিণ দিকে প্রশস্ত করা হোক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামীম আল মামুন বলেন, সার্ভে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নয়, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে এটি করা হয়। এলাকাবাসীর দাবির বিষয়টি সম্পর্কে ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ওয়াকিবহাল। এসব বিবেচনা করেই মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজের প্রকল্প চূড়ান্ত হবে। এ ব্যাপারে পৌর মেয়র রবিউল ইসলাম রবি বলেন, ওই পুকুর পাড়ের প্যালাসাইড নির্মাণ কাজ বিষয়ে আমার মনে নেই। কাগজপত্র দেখলে বলতে পারব। তবে এক প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ অন্য কোথাও কাজ করার নিয়ম নেই।