• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭ ১৯ রজব ১৪৪২

বেপরোয়া ভাটা মালিকেরা উচ্ছেদের পরও বহাল

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, শরীয়তপুর

| ঢাকা , বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১

image

শরীয়তপুর : বন্ধ করে দেয়া ইটভাটায় ফের পুড়ছে ইট -সংবাদ

শরীয়তপুরে ১৯টি ইটভাটা চলছে অবৈধভাবে; যার মধ্যে ৮টি ভাটার নেই ছাড়পত্র আর ১১টি ভাটার ছাড়পত্রের নবায়ন বন্ধ রেখেছে পরিবেইশ অধিদপ্তর। বাকি ৪০টি ভাটা বৈধতার কাগজ পত্র দেখালেও তার বেশির ভাগই গড়ে উঠেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট আইন উপেক্ষা করেই। কৃষি জমি, জনবসতি, হাটবাজার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘেঁষেই চলছে এসব ভাটার কার্যক্রম। কেটে নেয়া হচ্ছে কৃষি জমির টপ সয়েল (উপরিভাগের অংশ)। তারপরও তারা পাচ্ছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র!

নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, নেই জেলা প্রশাসনের লাইসেন্সও কিন্তু তারপরেও চলছে ইট ভাটাটি! কিভাবে তা সম্ভব? বছরের পর বছর এভাবে চললেও পেছনের কাহিনী আমরা বুঝে উঠতে পারি না। আমার বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ১শ’ মিটার দূরত্বে ইটভাটাটি। এটি জনঘন বসতিপূর্ণ এলাকা। স্বাস্থ ঝুঁকি তো আছেই কিন্তু কেউ তো বন্ধও করতে পারছে না। এটার রহস্যও আমাদের ভাবায়- কথাগুলো বলে আবারও অনিশ্চয়তার ভাবনা ফুটে ওঠে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ১০১নং উত্তর দেওভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া মেরিনের চোখে মুখে।

প্রধান শিক্ষক যে অবৈধ ইটভাটার কথা বলছিলেন সেটির নাম মেসার্স মদিনা ব্রিকস। সদর উপজেলার বুড়িরহাটের দেওভোগ এলাকায় মালিকানা বদল করে ২০১৭ সালে নতুনভাবে চলছে। রোববার ভাটায় গিয়ে দেখা গেলো শ্রমিকদের কর্ম ব্যস্ততা। ইট তৈরি, পোড়ানো এবং তা বিক্রি চলছে ধুমধাম ভাবেই। দেখে বোঝার উপায় নেই ভাটাটি পুরোপুরি অবৈধভাবে চলছে। কিন্তু ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে মদিনা ব্রিকসে অভিযান চালায় প্রশাসন। পরিবেশের ছাড়পত্র আর জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স না থাকায় স্কেবেটর মেশিন দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয় অবকাঠামো। জরিমানা করা হয় ২ লাখ টাকা। বন্ধ ঘোষণা করা হয় ইট তৈরি ও পোড়ানো। নেয়া হয় মুচলেখাও। মৌসুমের শুরুতে অর্থাৎ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তার নেতৃত্বে চলে অভিযান। সেই আগের মতোই কাগজপত্র না পেয়ে ভাটা চালানোর দায়ে করা হয় ৩ লাখ টাকা জরিমানা। লাভ কি? বীরদর্পে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে মদিনা ব্রিকস।

ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সুমন হাওলাদার বলেন, আমি ভাটায় দুই মাস ধইরা চাকরি করি। সব কিছু আমার জানা নাই। কাগজ পত্র আমার কাছে নাই। কয় দিন আগে মেজিসটেট সারে আইসা কাগজপত্র চাইছিল দিতে পারি নাই। তিন লাক টাকা জরিমানা করছে। আগে তো আরও কয়েক বার বন্ধ করা হয়েছে তারপরও কেন চালাচ্ছেন জবাবে তিনি বলেন, শুনছি গত বছর ভাইংগা দিছিল কিন্তু আমরা কাম করি আমাগো এইসব দেখার কথা না। মালিক সব জানে তার সাথে কথা কন।

হাইকোর্টের আদেশে ২০১৯-২০ অর্থবছরে অবৈধ ৮টি ইটভাটায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় শরীয়তপুরের প্রশাসন। কোন ধরনের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভেক্যু মেশিন দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় ভাটার অবকাঠামো। ফায়ার সার্ভিসের সাহায্যে পানি ছিটিয়ে নষ্ট করা হয় ভাটার সব ইট। এ বছর মৌসুমের শুরু থেকেই ইট পোড়ানোর কাজ শুরু হয় ওইসব ভাটায়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর ৫৯ টি ইটভাটা রয়েছে। যার মধ্যে ১১টি ভাটার ছাড়পত্র নবায়ন নেই আর ৮টি ইটভাটা মালিকরা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছে কার্যক্রম। এই ১৯ ইটভাটার জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স ইস্যু করা হয়নি।

মদিনা ব্রীকস, মেসার্স শরীয়তপুর ব্রিক ফিল্ড, মেসার্স যমুনা ব্রিকস, মের্সাস কির্তীনাশা ব্রিকস, মেসার্স জে.আই.বি ব্রিকস, মেসার্স ঢালী ব্রিকস, মেসার্স আর.বি.এম ব্রিক, মেসার্স তন্ময় ব্রিক, হাওলাদার ব্রিক।

ফেম ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং, মেসার্স খান ব্রিক ফিল্ড, মেসার্স এমবিএম ব্রিক, মেসার্স বিশ^ ওলি ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং, মেসার্স ভান্ডারি ব্রিক ফিল্ড, ন্যাশনাল ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং, মোল্লা ম্যাক্স ব্রিক, হ্যাপি ব্রিকস ও ফরাজি এন্ড মজুমদার ব্রিক।

ডামুড্যা উপজেলার বাহেড্যা গ্রামের কৃষি জমিতে গড়ে ওঠা মেসার্স হাওলাদার ব্রিক ফিল্ড নামের ইটভাটাটি দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কোন রূপ বৈধতা ছাড়াই চলছে। এবারও তৈরি হয়েছে ইট। ভাটায় গিয়ে পাওয়া গেলো ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক বেনী আমিন কালু হাওলাদারকে। সাংবাদিক দেখেই চটে যান তিনি। অবৈধ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন চালাচ্ছেন এটা কিভাবে সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আপনাদের মতো সাংবাদিকদের ম্যানেজ করেই চলেছি। সব কিছু জেনেও আপনি এতো প্রশ্ন করছেন কেন? আপনারা না দেখাইলে তো আর সমস্যা হয় না। এ মৌসুমডায় ইটগুলি পোড়াইতে পারলে আর ভাটা রাহুম না।

জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান বলেন, অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। প্রশাসনে নির্দেশ উপেক্ষা করে যারা কার্যক্রম চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনভাবেই পরিবেশ বা জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করার কারো অধিকার নেই।