• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, ২২ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

বিদ্যুৎ বিভাগে জনবল সংকট সাবস্টেশন নির্মাণে ধীরগতি

সংবাদ :
  • দিলীপ মণ্ডল, ঝালকাঠি

| ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

ঝালকাঠিতে ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ বিভাগে বিদ্যুতের মোট কর্মকর্তা কর্মচারীদের অর্ধেক পদই রয়েছে শূন্য। জনবলের অভাবে প্রকট আকার ধারণ করায় গ্রাহক সেবা দিতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে ঝালকাঠিতে নির্মাণাধীন ৩৩ কেভি সাবস্টেশনের কাজ ধীর গতিতে চলায় এর কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। ৩ মাস আগেই কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোন অগ্রগতি নেই নির্মাণ কাজের। জানা গেছে বরিশালেও একই সময় সাবস্টেশনের কাজ শুরু হওয়ায় এখানকার শ্রমিক নিয়ে সেখানে কাজ করানো হচ্ছে। ফলে ঝালকাঠির সাবস্টেশনের কাজ নিয়ে দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা।

ওজোপডিকো সূত্রে জানাযায়, ঝালকাঠিতে মোট কর্মকর্তা কর্মচারীদের পদ ৬৭টি। এরমধ্যে ৩৫টি পদই শূন্য। ঝালকাঠির মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ১৭ হাজার ৫শ। এই বিশাল গ্রাহকের মিটার রিডারের দায়িত্বে আছে মাত্র ৩ জন। যদিও দৈনিক মজুরি প্রদান হিসেবে আরও ২ জনকে নিয়ে গ্রাহকের বিল কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে জোড়াতালি দিয়ে। ১ জন মিটার রিডারের দায়িত্বে ১৮শ মিটার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ৩ হাজার ৫শ মিটার রয়েছে। কারিগরি জনবলেও সংকট থাকায় গ্রাহকের তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে বিলম্ব হচ্ছে। গ্রাহক ও সেবার মান বাড়লেও ঝালকাঠি বিদ্যুৎ বিভাগে জনবল বাড়ানো হয়নি। এছাড়াও স্টোর কিপারের পদ শূন্য ২ বছর। ঝালকাঠির ৫টি ফিডারে ৫ জন ফিডার ইনচার্জ থাকার কথা থাকলেও আছে ৩ জন। ৩ বছর ধরে সহকারী প্রকৌশলী ২ পদের মধ্যে ১টি পদ শূন্য। এসডিই ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন। ৫টি কম্পিউটার অপারেটর পদের মধ্যে ৩টি পদ খালি অনেক বছর ধরে। হিসাবরক্ষক পদ খালি দীর্ঘদিন। এ বিষয়ে ঝালকাঠির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, লোকবলের সমস্যা আছে। নিরসনের চেষ্টা চলছে। এজন্য চাহিদা চেয়ে পাঠানো হয়েছে কর্তৃপক্ষের কাছে।

অপরদিকে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সাবস্টেশনের কাজ বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। নামমাত্র শ্রমিক দিয়ে ধীরগতিতে কাজ চালাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খরচ বাঁচাতে ঝালকাঠির শ্রমিক নিয়ে বরিশালের সাবস্টেশনের কাজ করানো হচ্ছে। ফলে এ ভবনের কাজের রড মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে ট্রান্সমিটার ভবনের স্থানে মাটি কেটে ফেলে রাখায় বর্ষার পানি জমে আছে। ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনঅ্যান্ডটি এ কাজ করাচ্ছে বলে জানা যায়। কিন্তু তারা এখানে না এসে সাব কন্ট্রাক্ট দেয়ায় এ কাজ সঠিকভাবে করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন ভবনের কাজের স্থানে গিয়ে দেখা যায় কজন শ্রমিক বর্ষার জন্য বসে আছে। এ সময় কাজের সাইড কন্ট্রাকটর পরিচয় দেয়া উপস্থিত মো. জাকারিয়া নামের ব্যক্তির কাছে জানতে চাওয়া হয় দীর্ঘ সূত্রিতার কারণ কি কাজ বন্ধ কেন। তিনি জানান, আমি নুতন এসেছি। এসব বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। জানা গেছে, এ কাজ শুরুর পর ৬ মাস কাজের মেয়াদ ছিল।

কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ মাস পরেও কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সাবস্টেশন নির্মাণ হলে ফিডার বিভাজনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। এ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরিশাল আপগ্রেডেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন জানান, ঝালকাঠির কাজে ধীর গতি থাকার কারণ মাঝে আর্থিক সমস্যা ছিল।

একই সঙ্গে ঠিকাদার বরিশালেও সাবস্টেশন নির্মাণ করায় ঝালকাঠির শ্রমিক এখানে কাজ করাচ্ছে। তিনি জানান সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ এ কাজ শেষ হতে পারে। কিন্তু ঝালকাঠির শ্রমিক দিয়ে বরিশালের কাজ করানোর নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী এর কোন জবাব দেননি।