• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৫, ১২ জমাউল আওয়াল ১৪৪০

বিদ্যুত-গ্যাসের সহজলভ্যতায় নীরব পল্লী এখন শিল্পনগর

সংবাদ :
  • মো. শাহআলম, হবিগঞ্জ

| ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

image

হবিগঞ্জ (সিলেট) : একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মূল ফটক -সংবাদ

হবিগঞ্জ জেলার নবগঠিত শায়েস্তাগঞ্জ, মাধবপুর ও বাহুবল উপজেলার নিরব নিভৃত পল্লীগুলোতে এখন একের পর শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে গড়ে ওঠছে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা। গ্রামীণ পরিবেশের জায়গায় এখন বিরাজ করছে শহরের পরিবেশ। বিদ্যুত ও গ্যাসের সহজলভ্যতা আর মহাসড়ক দিয়ে সহজে যোগাযোগের কারণে উদ্যোক্তারা বেছে নিয়েছেন পাহাড় ঘেষা এই জনপদকে। রেল অথবা সড়কযোগে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যাবার পথে মাধবপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধার চত্বর নামক স্থানে এসে রাস্তার দুই দিকে তাকালে কেবল চোখে পড়বে নতুন নতুন শিল্প- কারখানা। হঠাৎ দেখলে মনে হবে যেন কোন শিল্পনগরী। সিলেট বিভাগের প্রবেশদ্বার মাধবপুর উপজেলার জগদিশপুর, নোয়াপাড়া, বেজুড়া, শাহপুর, বাঘাসুরা, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর, বিরামচর, উবাহাটা ও বাহুবল উপজেলার মিরপুর, নতুন বাজার গ্রামে এসব শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে। গড়ে উঠা শিল্প-কারাখানার মধ্যে রয়েছে, স্কয়ার, হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক (প্রাণ-আরএফএল), আকিজ গ্লাস, যুমনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, টান্সকম গ্রুপ, চারু সিরামিক ইন্ডা. লিমিটেড, আরএকে সিরামিক,বাদশা গ্রুপ, সিপি বাংলাদেশ, স্টার সিরামিক্স, তাসহিদ কটন মিলস, মেঘনা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ, বেঙ্গল গ্রুপ, মার কোম্পানি, এন জে গ্রুপ, চায়না- বাংলা সিরামিক, এজি সিরামিক, সায়হাম গ্রুপ, এফএসএল গ্রুপ, এস এম গ্রুপ, রাখিন গ্রুপ, কে-কো কেমিক্যাল, ম্যাটাডোর গ্রুপ, সেলিম গ্রুপ,এফএল গামের্ন্টস, টিকে গ্রুপ, রূপায়ন গ্রুপ উল্লেখ্যযোগ্য। হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রায় শতাধিক শিল্প- কারাখানা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে মাধবপুর উপজেলায় ৬০টি শিল্প-কারাখানা গড়ে উঠেছে। প্রাণ-আরএফএলের মিডিয়া ম্যানেজার জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ঢাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এই এলাকায় শিল্প- কারখানাগুলো গড়ে উঠেছে। শিল্প-কারখানা গড়ে উঠায় এলাকার লোকজনের কর্মসংস্থান যেমন সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি তাদের জীবন যাত্রার মানও উন্নত হচ্ছে। ২০১৪ সালে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক নামে (প্রাণ-আরএফএল) যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এখানে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করছে। এর মধ্যে ৮০ ভাগ স্থানীয় লোকজন কাজ করছে। ৫০/৬০ভাগ নারী শ্রমিক রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও এসব এলাকায় একটি গাড়ির শব্দ শোনা গেলে গ্রামের মানুষ বেড়িয়ে আসত দেখার জন্য। আর এখন সেখানে আধুনিক কলকারখানার শব্দে ঘুম ভাঙ্গে এলাকাবাসীর। আধুনিক জীবনধারা থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিল এলাকাবাসী। এখন সে এলাকার চেহারা পাল্টে গেছে পুরোপুরি। ৫-৬ বছর আগের এলাকার সঙ্গে এখানকার তফাৎ এখন আকাশ পাতাল ব্যবধান। এখানে ক্রমেই বাড়ছে কলকারখানা; উৎপাদন হচ্ছে দেশীয় অনেক নতুন নতুন পণ্য। তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার লোকের কর্মক্ষেত্র। তারা আরও জানান, কিছুদিন আগেও এসব এলাকায় কেউ জমি কিনতে চাইতো না। প্রতি একর বিক্রয় হত লাখ টাকায়। বর্তমানে সেই জায়গায় প্রতি শতক জমি বিক্রি হচ্ছে আড়াই লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পযর্ন্ত। কোন কোন স্থানে দশ লাখের বেশি টাকা দিয়ে শতক কিনছেন কোম্পানি মালিকরা। এলাকার কর্মক্ষম লোকেরা আগে যেখানে ঘুরে বেড়াত কাজের সন্ধানে এখন তারা দল বেঁধে কাজ করছে এসব কোম্পানিতে। সব মিলিয়ে এক সময়ের নিস্তব্ধ পল্লীগুলো যেন এখন পরিণত হচ্ছে শিল্পনগরীতে।