• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩০ মহররম ১৪৪২, ০২ আশ্বিন ১৪২৭

বাঘারপাড়ায় তরমুজের ভালো ফলন করোনায় প্রভাবে বিক্রিতে ভাটা

সংবাদ :
  • লক্ষ্মণ চন্দ্র মণ্ডল, বাঘারপাড়া (যশোর)

| ঢাকা , রোববার, ১৭ মে ২০২০

যশোর-মাগুরা মহাসড়কের দু’পাশে অবস্থিত উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের একটি গ্রাম গাইদঘাট। দেশে জনপ্রিয় বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে উৎপাদিত বিষমুক্ত ফসল বিদেশে রফতানি হয়ে থাকে। এখানে মাঠের পর মাঠ জুড়ে মাচায় চাষ হয়েছে ব্লাকবেবি ও সাগর কিং তরমুজ। মাঁচায় ঝুলছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। তবে করোনার কারণে বাজারজাত করা নিয়ে চিন্তার রেখা দেখা দিয়েছে চাষিদের কপালে।

সরেজমিনে গাইদঘাট গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা গেছে মাঁচায় বোঁটায় ঝুলে আছে তরমুজ। এখানে কথা হয় তরমুজ চাষি প্রসান্ত মণ্ডলের (৩২) সঙ্গে। তিনি জানান, ২০১৮ সালে ঝিনেদা থেকে বীজ এনে প্রথম ৪০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেন। নতুন অবস্থায় চাষের নিয়ম না জেনে চাষ করায় সে বছর তার লাভ হয়েছিল ২৬ হাজার টাকা। ২০১৯ সালে চাষ করেছিলেন ৮৬ শতক জমি। এবারের লক্ষ্যমাত্রা বেশি থাকলেও করোনার কারণে মাত্র ৪৬ শতক জমিতে চাষ করেছেন।

আরেক চাষি দয়াল মণ্ডল (৫৫) জানান, মার্চ মাসে বীজ রোপণ করে মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে এখন তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে। জুন-জুলাই মাস পর্যন্ত এই তুরমুজ বিক্রি করা যাবে। তিনি জানান, ১ বিঘা জমিতে তরমুজ ফলাতে খরচ হয় ৪০-৫০ হাজার টাকা। তরমুজ বিক্রি হয় ১ লাখ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা।

৪০ শতক জমিতে তরমুজ লাগিয়েছেন কৃষক উৎপল মণ্ডল(৩৭)। তিনি বলেন, এবার করোনার কারণে তরমুজের আবাদ কম হয়েছে। এছাড়া এবার তরমুজের গাছ ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় আমাদের খুব ক্ষতি হয়েছে। একই কথা বলেন আর এক চাষী প্রিয়তোষ সেন(৫৫)।

চাষিরা জানায়, তুলনামূলক অন্যান্য ফসলের চেয়ে অনেক লাভজনক। পোকা-মাঁকড়ের আক্রমণ একেবারেই কম থাকায় কীটনাশকের প্রয়োজনীয়তা প্রায় নেই। এছাড়া একই সেডে তরমুজের পরে করলা এবং মেটে আলু চাষ করা যায়। পরের ফসল গুলিতে মাঁচার খরচ না লাগার দরুণ লাভের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এদিকে ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৭ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাষীদের অভিযোগ কৃষি বিভাগ থেকে এ বিষয়ে আমরা কোন সহযোগিতা পাইনি।