• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১

বাঁধ ভাঙতে থাকলে তলিয়ে যাবে দুই ইউপির ৭ গ্রাম

সংবাদ :
  • স্বপন ব্যনার্জী, পটুয়াখালী

| ঢাকা , বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৯

image

পটুয়াখালী : এভাবেই ভাঙছে ছোট বিঘাই ইউনিয়নের নদী পাড়ের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ -সংবাদ

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ও বড় বিঘাই এই দুইটি ইউনিয়নের নদীর পাড়ের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভাঙনে মুখে। ভাঙনের ফলে বাঁধের ওপর নির্মিত উপজেলা সদরের সঙ্গে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরাসরি সংযোগ সড়কটিও ভাঙতে থাকে। গত ৩ মে রাতে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে জোয়রের সময় গুলিসাখালী নদীর প্রবল চাপে ভাঙতে থাকা বাঁধ আরো ভেঙে এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বিলীন হচ্ছে বাঁধের ওপর নির্মাণ করা বিটুমিন কাপেটিংএর পাকা ইউনিয়ন সংযোগ সড়কটি। যে কোন সময় বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়লে ভেসে যাবে সড়ক। ফলে জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বড় বিঘাই ইউনিয়ন।

এছাড়াও বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে, ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে জোয়ারের পানিতে প্রবেশ করে ছোট বিঘাই ও বড় বিঘাই এই দুইটি ইউনিয়নের সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পরবে দুই ইউনিয়নবাসি। পটুয়াখালীর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ছোট বিঘাই ও বড় বিঘইি ইউনিয়নের গুলিসাখালী নদীর পাড়ের কৃষকের ফসল রক্ষাসহ দুর্যোগ ও প্লাবন থেকে মানুষকে রক্ষায় নব্বই দশকে পাউবো এই বাঁধ নির্মাণ করেছিল। এরপর বাঁধটি রক্ষাবেক্ষন করছে এলজিইডি।

এলজিইডি, পটুয়াখালী সদর উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, পল্লী সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন-১৬ প্রকল্পে এলজিইডি পটুয়াখালীর উপজেলা সদর হতে খাটাসিয়া পর্যন্ত ২৫ দশমিক ০৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করে এলজিইডি। বিটুমিন কাপেটিং এই সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০০ সালে এবং শেষ হয় ২০০৫ সালে।

এই সড়কটি উপজেলা সদরের সঙ্গে চারটি ইউনিয়নের সরাসরি সংযোগ সড়ক। তবে ছোট বিঘাই ইউনিয়নের কাজির হাট সেতু এলাকা থেকে বড় বিঘাই ইউনিয়নের এই সড়কটির দুইটি অংশ গুলিসাখালী নদী ভাঙনে পড়েছে। এর মধ্যে কাজির হাট সেতু এলাকায় ১০০ মিটার ও বাঁশতলা এলাকায় ৩৫০ মিটার মোট ৪৫০ মিটার নদী ভাঙনে ঝুঁকিতে রয়েছে।

রোববার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গুলিসাখালী নদীর পানির চাপে ছোট বিঘাই ইউনিয়নের কাজির হাট সেতু এলাকার সড়কের বাঁধ ভেঙ্গে বাঁধের উপর পাকা সড়কটি নদীতে ভেসে গিয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই ক্ষতিগ্রস্থ সড়কের পশ্চিম দিকে ইউনিয়নের হরতকিবাড়ীয়া, তুষখালী, ভাজনা, মাটিভাঙা ও ফুলতলা এই পাঁচটি গ্রাম এবং দক্ষিণ দিকে বড় বিঘাই ইউনিয়নের কেওরাবুনিয়া ও সিকাবুনিয়া এই দুই গ্রাম মোট সাত গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হলে সাতটি গ্রামের ফসলী ক্ষেত তলিয়ে যাবে। এই অবস্থায় এলাকার লোকজন খুব সাবধনতার সঙ্গে বাঁধের উপর দিয়ে চলাচল করছেন। ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

ছোট বিঘাই ইউনিয়নের হরতকিবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আসলাম শেখ (৬০) জানায়, গত বছর নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে জোয়ারে সময় তার প্রবল বেগে বাঁধের উপর বাঁধাগ্রস্ত হয়। এর পরই বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে জোয়ারের পানিতে ফসলি ক্ষেত ডুবে যাবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে বরি ফসলের।

বড় বিঘাই ইউনিয়নের কেওয়াবুনিয়া গ্রামের ছিদ্দিক মোল্লা (৬০) জানায়. নদী ভাঙনে বাঁধ ভেঙে গেলে সড়কও ভেসে যাবে। জেলা শহরে যাতায়াত করতে নৌকা ব্যবহার করতে হবে।

ছোট বিঘাই ইউপি চেয়রম্যান মো. আলতাফ হাওলাদার বলেন, তাদের এলাকায় ভাঙনের মুখে রয়েছে সড়ক। বিষেশ করে কাজির হাট ও বাঁশতলা এলাকায় নদী ভাঙন বেড়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে জোয়ারের পানির চাপে বাঁধ ভেঙে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে জোয়ারের পানিতে ফসলেও ক্ষতি হওয়ার আশংকা করছে এলাকাবাসি।

বড় বিঘাই ইউপি চেয়রম্যান ওয়াহিদুজ্জামান মজনু মোল্লা বলেন, নদী ভাঙনে সড়ক বিলীন হলে ইউনিয়নের সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। বিকল্প সড়ক পথ না থাকায় ইউনিয়নের লোকজন বাধ্য হয়ে নৌকায় নদী পার হয়ে চলাচল করতে হবে। এছাড়াও দুই গ্রামের ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি বরাবরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, এখন নতুন নির্দেশনা এসেছে। পাউবোর বাঁধের ওপর এলজিইডি করা সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা নতুন করে নির্মাণ সব কাজ এলজিইডি করবে। কাজেই এই বাঁধ ও বাধের ওপর সড়ক এলজিইডি করবে।

এলজিইডি, পটুয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী তীর্থজিৎ রায় বলেন, বাংলাদেশ সরকার (জিওবি) এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এজেন্সী (জাইকা) এর আর্থিক সহায়তায় এলজিইডি এই সড়ক নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করবেন। এই প্রকল্পের আওতায় নদী ভাঙনের ৪৫০ মিটার বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়কও নির্মাণকাজ শুরু করার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।