• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭, ৬ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

বরেন্দ্রাঞ্চলে নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষ্যম্যের শিকার

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০১৯

image

রাজশাহী : ক্ষেতে কাজ করছেন নারী শ্রমিকরা-সংবাদ

বরেন্দ অঞ্চলের গোদাগাড়ী উপজেলার চৌদুয়ার গ্রামের নারী শ্রমিক পদ্মাবতীর (৪৫) আক্ষেপের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আট ঘণ্টা কাজ করি। মজুরি পাই মাত্র দুই’শ টাকা। অথচ একই সময় পুরুষ শ্রমিকরা কাজ করে পান সাড়ে তিন’শ থেকে চার শত টাকা। আমরা নারী বলে আমাদের মজুরি কম। কাজ পাই না, তাই বাধ্য হয়ে পুরুষের অর্ধেক মজুরি নিতে হয়।’

ধান রোপণ, ধান কাটা, ফসল তোলাসহ সব সময়ই বরেন্দ্রের গোদাগাড়ী উপজেলার আদিবাসী নারীদের অনেকেই চাষাবাদের কাজে নিয়োজিত করেন। পুরুষদের চেয়ে নারীদের মজুরি কম বলে চাষিরা নারী শ্রমিকদেরই বেশি নিয়োজিত করেন।

কথা হয় আরেক আদিবাসী নারী শ্রমিক মামনী খালকুর সাথে। দুই মেয়ে, এক ছেলে ও শ্বশুরসহ মোট ছয়জনের সংসার তার। তিনি বলেন ‘ছয়জনের অভাবী সংসার এক স্বামীর পক্ষে চালনো সম্ভব নয়। তাই তিনি সংসারের হাল ধরতে স্বামীর সঙ্গে অল্প মজুরিতে পরের জমিতে কাজ করেন। তাদের মতো উপজেলার কয়েক শ’ নারী শ্রমিক মজুরি বৈষম্যের শিকার হলেও তাদের হয়ে কথা বলার কেউ নেই।

নারী শ্রমিকদের মজুরি কেন পুরুষ শ্রমিকের অর্ধেক এমন প্রশ্নে শ্রী মংলা সরদার নামের এক শ্রমিক বলেন ‘জমির মালিকরা মনে করে নারীদের চেয়ে পুরুষরা শক্তিশালী। কম সময়ে বেশি কাজ করতে পারবে। তাই নারীদের তুলনায় পুরুষদের মজুরি বেশি।

এ বিষয়ে চৌদুয়ার গ্রামের প্রধান শ্রী জহুরলাল পান্না বলেন, অনেক আগে থেকেই এই মজুরি বৈষম্য চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা উচিত। সেই নারী শ্রমিকদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন শাপলা বলেন ‘পুরুষের চেয়ে নারী শ্রমিকের মজুরি অর্ধেক হওয়া সত্যি দুঃখজনক। তবে এই বৈষম্য নিরসনে সচেতনতামূলক সভা ও মানববন্ধন করা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই। দিনদিন উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। পাল্টে যাচ্ছে সবকিছু। তবে আগের মতোই রয়ে গেছে আদিবাসী পুরুষ ও নারী শ্রমিকদের বৈষম্য। পুরুষদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমান কাজ করলেও পারিশ্রমিক পাচ্ছেন পুরুষদের অর্ধেক। আর পুরুষরা পাচ্ছেন নারীদের দ্বিগুণ। উৎপাদনের বিভিন্ন খাতে দেশ এগিয়ে গেলেও কৃষিক্ষেত্রে এখনও চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন নারীরা। এ ধরনের মজুরি বৈষম্য নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ না নেয়ায় হতাশ নারী শ্রমিকরা। এদিকে, মহিলা বিষয়ক অধিদফতর নারী দিবসে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কেবল সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে। নারীদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম নেই কোন সংস্থার। এমনকি উপজেলায় কত সংখ্যক নারী শ্রমিক নিয়োজিত আছেন, তারও কোন জরিপ নেই মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের কাছে।