• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৭ জুন ২০২০, ২৪ জৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

অগ্নিঝরা ’৭১

বরগুনায় মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দিবস আজ

সংবাদ :
  • চিত্তরঞ্জন শীল, বরগুনা

| ঢাকা , বুধবার, ১১ মার্চ ২০২০

সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যে বরগুনায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয় ১১ মার্চ থেকে। বিচ্ছিন্ন ভাবে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র আয়োজনে এর আগে থেকেই প্রশিক্ষণ শুরু হলেও ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ বরগুনা থানায় স্কাউট লিডার আ: আলিম হিমুর নেতৃত্বে, ছাত্র ইউনিয়নের আর একটি গ্রুপ পশু হাসপাতাল ময়দানে বরগুনা থানার দারোগা অজাদুর রহমানের নেত্রীত্বে প্রশিক্ষণ শুরু করে।

৭ মার্চ ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন,তোমাদের উপর আমার অনুরোধ রইল : প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে, সব কিছু, আমি যদি হুকুম দেবার না পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে।

সবাই বুঝতে পারে দেশ চূড়ান্ত পরিণতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর উজ্জিবিত বরগুনাবাসী বঙ্গবন্ধুর আহবানে একাত্মতা ঘোষণা করে রাস্তায় নেমে আসে। সন্ধ্যায় বরগুনা শহর থানা সদর এমকি গ্রামেও তাৎক্ষণিক ভাবে মিছিল বের করা হয়। এবারে আর কোন দফা নেই এক দফা এক দাবী বাংলাদেশের স্বাধীনতা। মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নেয়ার জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বরগুনার বিভিন্ন স্থানে ট্রেনিং শুরু হয়। ছাত্র জনতা এ ট্রেনিংএ অংশ নেয়। ট্রেনিং সেন্টার ছিল বরগুনা জেলা স্কুল, পুরাতন থানা, বন্দর খেলার মাঠ ও থানা সদরের বিভিন্ন স্থানে। বরগুনা সদরে তৎকালীণ টিএসআই আসাদুজ্জামান খান আজাদ ও সার্কেল অফিসের রিডার ছাত্র-যুবকদের ট্রেনিং দিতে শুরু করেন।পরেব রগুনার বিভিন্ন থানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠে ছড়িয়ে পরে। বরগুনা সদরে তখন ছাত্রদের ট্রেনিং দানে জেলা স্কুলের স্কাউট লিডার আবদুল আলিম হিমু, বামনার বুকাবুনিয়ায় আঃ মজিদ মাষ্টার বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তৎকালীন ছাত্র লীগের পাশা পাশি ছাত্র ইউনিয়নের ছেলেরাও আলাদা গ্রুপ করে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নেয়।ছাত্র লীগের টিএও জাহাঙ্গির,সাবেক সাংসদ মো. দেলোয়ার হোসেন,সুখরঞ্জন শীল, বর্তমান ব্যাঙ্কার মো. মোশাররফ হোসেন, ছাত্র ইউনিয়নের মো. আলমগীর হোসেন, সৈয়দ গোলাম রব,বর্তমান এডভোকেট মো. শাহজাহান, আ. মোতালিব, কর বিভাগের কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন,খসরু মাতুব্বর,মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা স্বর্গীয় ঞ্জান রঞ্জন ঘোষের গদি ঘরটি ব্যাবহার হত। বামনা থানায় মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং সুরু হয় বামনা প্রথমিক বিদ্যালয় মাঠে। এম এন এ আসমত আলী সিকদার কার্যক্রমের সূচনা করেন। তৎকালীন আনসার কমান্ডার মীর মকবুল হোসেন মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং শুরু করেছিলেন। যদিও সে পরবর্তীতে রাজাকার কমান্ডারও হয়েছিল।এদিকে বুকাবুনিয়ায় স্কুল মাঠেও মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং শুরু হয়। এ কার্যক্রম শুরু করেন মোবারক আলী মল্লিকও আবদুল মজিদ মাষ্টার।আমতলী থানার সার্কেল অফিসার উন্নয়ন আতাহার আলী বিশ্বাস মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিংএ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি তার অফিসে এ বিষয় সভা করেন। এ সভায় এ বি এম আসমত আলী আসমত আলী কেরানী,পাশা তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।আমতলীতে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং, থাকা ও খাওয়া কার্যক্রমে বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী কালীপদ মজুমদার উলেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনটি কমিটি গঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। থানার ভার প্রাপ্ত কমকর্তা সিদ্দিকুর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ শুরু করেন।পটুয়াখালীতে পাক বাহিনী আক্রমণ শুরু করলে ক্যাম্প নিয়ে যাওয়া হয় আরপাঙ্গাশিয়ায়।সেখান থেকে ছকিনায়। বজলুর রহমান,আনসার কমান্ডার আমিন উদ্দিন,পুলিশ কমান্ডার মোক্তার আলী এ ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করেন। সিও আতাহার আলী সরকারী কাজে বরাদ্ধকৃত ১২ লাখ টাকা মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে দেন। তালতলীতে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজনও সক্রিয় ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। রাখাইন পাড়া আগা ঠাকুর পাড়ায় মুক্তিযোদ্ধদের একটি ক্যাম্প ছিল। মার্চ মাসের শেষের দিকে বেতাগীর সাবরেজিষ্টার দলিল উদ্দিন উদেগী ভূমিকা গ্রহন করেন। হুমায়ুন কবির হিরু ,আবদুল মন্নান মৃধা,সুখ রঞ্জন বাবু, আবদুস সোবাহান, আবদুল মোতালিব, নাজেম আলী,কার্যক্রম পরিচালনা করেন।