• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জৈষ্ঠ্য ১৪২৫, ১৮ রমজান ১৪৪০

বগুড়ায় র‌্যাফেল ড্র’র নামে ফের চলছে জমজমাট জুয়ার আসর

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, বগুড়া

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

লটারি নামের জুয়ার জন্য এবার বগুড়ায় বাণিজ্য মেলার মেয়াদ বাড়ানোর হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডেইলি র‌্যাফেল ড্র’র নামে এই লটারি নামের জুয়া তুমুল সমালোচনার মুখে মাঝে কয়েকদিন বন্ধ থাকলেও গত বৃহস্পতিবার থেকে আবার তা শুরু হয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে বিক্রি অবৈধ ডেইলি র‌্যাফেল ড্র’র টিকিট বিক্রি করতে দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে এই অবৈধ লটারি শুরু করা হয়। লটারি নামের এই জুয়াড়ি চক্র এতই ক্ষমতাধরে যে, মাঝে কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর আবার একইভাবে ম্যানেজ প্রক্রিয়ার তা শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, মাঝে বন্ধ থাকার দিন পুষিয়ে নিতে এবার মেলার সময়সীমাও বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, মেলার সময়সীমা বাড়ানো সঙ্গে লটারির কোন সর্ম্পক নেই। কারণ লটারি সম্পূর্ণ অবৈধ। আয়োজকদের আবেদনে মেলার সময়সীমা বাড়ানোর অনুমতি দেয়া হচ্ছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি বগুড়ায় মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার শুরু হওয়ার পর মেলার নাম সামনে রেখে পরের দিন থেকেই ডেইলি র‌্যাফেল ড্র’র নামে জুয়া শুরু হয়। এর ফাঁদে পরে নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হতে শুরু করে। আর প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে প্রতিদিন এই লটারি থেকে অর্ধকোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পুরানো। ইতোপূর্বেও এই অবৈধ লটারি ও জুয়াকারবারিদের নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবার র‌্যাফেল ড্র’র নামে অবৈধ ডেইলি লটারি শুরু হওয়ার মূলত সাধারণ মানুষ প্রভাবশারী জুয়াড়ি চক্রের হাতে জিম্মি ও অসহায় হয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নামে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা হলেও এর প্রধান লক্ষ্য ‘স্বপ্ন ছোঁয়া’ র‌্যফেল ড্র’ নামের অবৈধ লটারি। সাধারণ লোকজনকে লটারি কিনতে প্রলুব্ধ করতে প্রতিদিন আকর্ষনীয় পুরস্কারের বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করে প্রায় আড়াই শতাধিক যানবাহনে এই অবৈধ র‌্যাফেল ড্র’র টিকিট বিক্রি করা হয়। মেলার স্থান শহরের খান্দার এলাকাতেও হলেও শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট সহ প্রতি উপজেলার আনাচে কানাচে চলে যাচ্ছে টিকিট বিক্রির ভ্রাম্যমান যানবাহন। এতে শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ের সাধারণ মানুষ টিকিট কিনতে প্রলুদ্ধ হচ্ছেন। ২০ টাকা মূল্যের র‌্যাফেল ড্র’র টিকিটের ‘ড্র’ আবার কেবল অপারেটরের মাধ্যমে টিভিতে প্রচার করা হয়। প্রশাসন সূত্র জানায়, কেবল অপারেটরের মাধ্যমে এ ধরনের প্রচার সঠিক নয়। আর এতসব প্রলোভনের মুখে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে দামী পুরস্কার পাওয়ার লোভে প্রতিদিন যারা কয়েক লাখ টিকিট কিনছেন তাদের বেশির ভাগই সাধারণ লোকজনসহ শিশু কিশোর। অনেকে লোভে পড়ে জামানো টাকা দিয়ে এক বা একাধিক র‌্যাফেল ড্রর পুরো টিকিট কিনছেন। দিনমুজর শ্রেণীর লোকজন দিনমান ৩-৫শ’ টাকা আয় করে এর অর্ধেকের বেশিই র‌্যাফেল ড্র’র টিকিট কেনার জন্য ব্যয় করে নিঃস্ব হচ্ছেন। জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ মেলার সময় সীমা বাড়ানোর আবেদন পাওয়ায় তা বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেয়ার কথা স্বীকার করলেও জানিয়েছেন, তারা শুধু মেলার সময়সীমা বাড়ার অনুমোদন দিচ্ছেন। লটারির নয়। কারণ এ ধরনের লটারি অবৈধ। বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা জানিয়েছেন, আবার লটারি চালু হয়েছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে তারা এটা বন্ধে ব্যবস্থা নিবেন।