• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

ফুলবাড়ী পৌরসভার জনপ্রতিনিধিসহ ৮৮ কর্মচারীর বেতন নেই ৬ মাস

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)

| ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

দিনাজপুরের প্রথম শ্রেণির ফুলবাড়ী পৌরসভার ৪৩ জন স্থায়ী ও ৪৫ জন চুক্তিভিক্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৩ জন জনপ্রতিনিধি কাজ করছেন নিত্যদিন। কিন্তু বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না ৬ মাস ধরে। ফলে তাদের মানবেতর দিন কাটছে পরিবার-পরিজন নিয়ে।

ফুলবাড়ী পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ৪৩ জন স্থায়ী ও ৪৫ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এদের সঙ্গে নির্বাচিত হয়ে কাজ করছেন পৌর মেয়রসহ ১২ জন পৌর কাউন্সিলর। কিন্তু পৌরসভার আয়ের পথ তেমন না থাকায়, শুধুমাত্র পৌরবাসীর পৌর কর, পৌর এলাকায় চলাচলকারী রিকশা-ভ্যানের লাইসেন্স কর, ট্রেড লাইসেন্স ফি এবং হাটবাজার থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়েই মেটাতে হয় কর্মরত-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনÑভাতা। আয়ের ক্ষেত্র কম হওয়ার কারণেই কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ মেয়র ও কাউন্সিলরদের বেতন-ভাতা বকেয়া পড়ছে বলে কর্মকর্ত ও কর্মচারীদের দাবি।

পৌরসভার কর আদায়কারী পরিমল চন্দ্র রায় বলেন, দীর্ঘ ৬ মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ার কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন পার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দোকানদাররা বাকিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দিতে দিতে হয়রান হয়ে পড়েছেন। ফলে দোকানদাররা বাকিতে পণ্য দিতেও চান না। আর বাকিতে পণ্য কিনে কবে বেতন পাবো আর কবে পরিশোধ করবো- এমন নির্ধারিত দিন ও তারিখ দিতে পারি না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী কর্মচারী বলেন, দীর্ঘ মাস ধরে বেতন-ভাতা না পেলেও নিয়মিতভাবে দাপ্তরিক কাজ করতে হচ্ছে। বেতন-ভাতার অভাবে সংসার চালাতে গিয়ে বিভিন্নভাবে ঋণদেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। ইতোপূর্বে পাঁচ মাস বেতন-ভাতা বকেয়া থাকার পর শুধুমাত্র গত এপ্রিল মাসের (এক মাসের) বেতন-ভাতা পেয়েছেন। চলতি সেপ্টেম্বরসহ বকেয়া পড়ে রয়েছে ৬ মাস। কবে বেতন-ভাতা পাবেন এর কোন নিশ্চয়তা নেই।

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. লুৎফুল হুদা চৌধুরী লেমন বলেন, পৌরসভায় আয়ের ক্ষেত্র কম হওয়ার কারণেই বেতন-ভাতা বকেয়া পড়ছে। তবে যখনই আয় হচ্ছে তখনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। তবে আয়ের ক্ষেত্র বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

পৌর মেয়র মো. মুরতুজা সরকার মানিক বলেন, প্রথম হচ্ছে পৌরসভার তেমন আয়ের ক্ষেত্র নেই। নেই কোন মার্কেট, নেই বাস-ট্রাক টার্মিনালসহ ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এ কারণে কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ জনপ্রতিনিধিদের বেতন-ভাতাসহ সম্মানী দিতে হয় বিভিন্ন খাতের আয়কৃত রাজস্ব থেকে। এসব খাতের আয় খুবই কম হওয়াসহ বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বে প্রায় ৭ লাখ টাকায় বেতনভাতা মেটানো যেতে, কিন্তু এখন দিতে হচ্ছে ১৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে। আয়ের খাত বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। আয় বাড়লেই এমন সমস্যা থাকবে না।