• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৭ জিলহজ ১৪৪১, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক হুমকিতে জনস্বাস্থ্য-পরিবেশ

সংবাদ :
  • সুব্রত দাস, রাজশাহী

| ঢাকা , সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২০

image

রাজশাহী : স্বাস্থ্যবিধি না মেনে দল বেঁধে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন কৃষকরা -সংবাদ

বরেন্দ্র অঞ্চলে বর্তমান সময়ে বছরে ধানের তিনটি ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। ধানের পাশিপাশি আলু, বেগুন, পটল, টমেটোসহ নানান সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। সে সাথে বাড়ছে কীটনাশক প্রয়োগের মাত্রাও।

গ্রামে বছরে বারো মাসই এসব সবজি চাষ হচ্ছে। সবজি চাষ করে ইতোমধ্যে অনেক কৃষক স্বাবলম্বীও হয়ে উঠেছেন। আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠলেও বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও।

ধানসহ সবজি চাষে দেশে পরনির্ভরতা কমলেও কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে গ্রামের জনস্বাস্থ্য যেন বড় হুমকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, কীটনাশকের গন্ধ বাতাসের সঙ্গে নাক-মুখ দিয়ে প্রবেশ করলে নানা জটিল রোগ হতে পারে। এবং মানব দেহের, ফুসফুস, লিভার এবং কিডনি আস্তে আস্তে অকেজো হয়ে পড়তে পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের কৃষিবিদ ও গবেষক জহরুল ইসলামের মতে, জীবন ধারণ এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য বিশুদ্ধ ও পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন হলেও দেশে বর্তমানে ভেজাল খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি শাক-সবজিতেও কীটনাশক ব্যবহারের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে ফসল উৎপাদনে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক।

এতে ফসল বিষাক্ত হয়ে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে, নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরা শক্তি। হুমকিতে পড়েছে প্রাণবৈচিত্র ও জনস্বাস্থ্য, বাড়ছে রোগব্যাধির প্রকোপ।

তাই দ্রুত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বদলে পরিবেশবান্ধব জৈব পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করে মানুষের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য ফিরিয়ে দেয়াও জন্য কৃষকদের মাঝে প্রচারণা চালাতে হবে। পাশাপাশি যততন্ত্র ডিলার নিয়োগ দেয়া বন্ধ করে কীটনাশকে ব্যবহার কমাতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণের তথ্য মতে, রাজশাহী মহানগরীসহ জেলার ১১ উপজেলায় দুই হাজার ৮০০টি খুচরা কীটনাশক বিক্রেতা ও ৫৬০টি পাইকারি কীটনাশকন-বালাইনাশক ডিলার রয়েছে। এর বাইরে লাইসেন্স নেই এমন ডিলারদের সংখ্যাও কম নয়। উপজেলাগুলো হলো, তানোর, গোদাগাড়ী, পবা, মোহনপুর, বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, চারঘাট, বাঘা, শাহ মুখদম ও রাজপাড়া।

রাজশাহীর তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. দুরুল হোদা বলেন, কীটনাশক প্রয়োগের যথাযথ সর্তক থাকতে হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যাল (রাবি) বন ও প্রাণী বিভাগের অধ্যাপক বিধান চন্দ দাস বলেন, এসব বিষ ফসলে ব্যবহারের উপকারী কিছু জীব-কীট প্রতঙ্গগুলো মারা যাচ্ছে। শুধু তাই না সঙ্গে অন্য অন্য প্রাণী যারা এসব পোকা মাকড় খাই এমন পশু পাখিরাও মারা পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষেতে ব্যবহার করা বিষ শুধু ফসলে উপরে পড়ছে তা নয়, ক্ষেতে পানির ওপরে পড়ে ছড়িয়ে পড়ছে খাল-বিল নদী নালাই। এতে জলপ্রায়ীর উপরও এর প্রভাব পড়ছে। এসব জল প্রায় যেমন আমরা মাছ খাই। এসব মাছ খাওয়ার কারণে মানব দেহের ওপরে চলে যাচ্ছে এসব ক্ষতিকর বিষ।