• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

পোকা দমনে জনপ্রিয় সেক্স ফেরোমন ফাঁদ

৪শ’ কৃষকের বিষমুক্ত সবজি চাষ

সংবাদ :
  • দেলোয়ার হোসেন, সীতাকুন্ডু (চট্টগ্রাম)

| ঢাকা , রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০১৯

image

সীতাকুন্ডু : ক্ষেতের চারপাশে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ তদারকি করছেন কৃষক -সংবাদ

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিষমুক্ত সবজি চাষে ক্রমশ চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। উপজেলায় এবছর ৪ শতাধিক চাষি সবজি ক্ষেতে পোকা নিধনে কীটনাশকের (বিষ) পরিবর্তে ফেরোমন ফাঁদের মতো প্রক্রিয়া ব্যবহার করেছেন। এতে এলাকার মানুষ বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি খাবার সুযোগ পাবে বলে কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের অভিমত। ফলে আশার আলো দেখছেন সাধারণ মানুষ।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুন্ডের চাষিরা এখন ধীরে ধীরে বিষ মুক্ত সবজি চাষে ঝুঁকছে। অনেক চাষি নিজেদের সবজি ক্ষেতে পোকা নিধনে কীটনাশক ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছেন। এর পরিবর্তে ফাঁদ বসিয়ে পোকা ধ্বংস করছেন তারা।

সরেজমিনে উপজেলার সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা ও মুরাদপুর ইউনিয়নে ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষকরাও এখন নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে আগ্রহী। এতে জনস্বাস্থ্য রক্ষা হবে।

উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল এলাকার কৃষক রবিউল হোসেন মাসুম জানান, সারাবছর নানারকম সবজি চাষ করে সংসার চালাই আমি। এ মৌসুমে ১ একর জমিতে লাউ, ঢেঁড়শ, তিতকরলা, বেগুন, ক্ষিরা,শসা চাষ করেছি। সবজি চাষ করতে গিয়ে নানারকম সমস্যায় পড়তে হয়। কখনো পোকা, কখনো ছত্রাক, কখনো রোগ-বালাই ক্ষেতের চরম ক্ষতি করে। এসব উপদ্রব থেকে বাঁচতে এক সময় নানারকম কীটনাশক ব্যবহার করতাম। কিন্তু কৃষি অফিসাররা বলেছেন, এসব কীটনাশক অতিরিক্ত পরিমাণ ব্যবহারে মানবদেহে দারুণ ক্ষতি হবে।

প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে এসব কীটনাশক আমাদের শরীরেও প্রবেশ করছে। তাই সবজি পোকা-মাকড় থেকে রক্ষায় এখন বিষমুক্ত ‘সেক্স ফেরোমন’ ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করছি। তিনি বলেন, এই পদ্ধতি বা ফাঁদ ক্ষেতে স্থাপন করলে আক্রমণকারী পোকারা এসে ফাঁদে পড়ে মারা যায়। একই এলাকার কৃষক মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে তিনি ৫০ শতক জমিতে বিষমুক্ত বেগুন চাষ করেছেন। আগে এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানতেন না। এখন কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানতে পেরে খুবই ভাল লাগছে। তিনি বলেন, ক্ষেতে পোকা নিধনে যে ফেরোমন ফাঁদ তিনি ব্যবহার করছেন তাতে স্র্রোতের মতো পোকারা এসে মারা পড়ছে। ফলে এই পদ্ধতিটি তার মনে ধরেছে। কৃষক মো. মাসুদও ৬০ শতক জমিতে ঢেঁড়শ চাষ করেছেন এই পদ্ধতিতে। এসব কৃষকরা সবাই সেক্স ফেরোমন ফাঁদের পোকা নিধন ও নানারকম জৈব সার ব্যবহার ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে পেরে খুশি বলে জানান।

টেরিয়াইল ব্লকে দায়িত্বরত উপজেলা কৃষি অফিসের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পিপাস কান্তি চৌধুরী বলেন, ফসলে পোকা দমনে ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব বালাই নাশক ব্যবহার শুরু করেছে কৃষক। এতে করে একদিকে যেমন স্বাস্থ্য সম্মত বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন হবে, অন্যদিকে ফসল উৎপাদনেও ভাল ভূমিকা রাখতে পারবে কৃষক। শুধু তারই ব্লকে অন্তত ১০ হেক্টর জমিতেই স্বাস্থ্যসম্মত বিষমুক্ত সবজির চাষ হয়েছে। এই পদ্ধতি দ্রুত প্রসার ঘটছে বলে জানান তিনি। সহকারী কৃষি ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র নাথ ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাফকাত রিয়াদ বলেন, একটা সময় সব ক্ষেতেই কীটনাশকের ব্যবহার ছিল মাত্রাতিরিক্ত। কিন্তু এখন আমরা কৃষকদের বিষমুক্ত সবজি চাষের সুফল বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। ফলে এই পদ্ধতি দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। এবার উপজেলায় ৪ শতাধিক চাষি বিষমুক্ত সবজি চাষ করছেন। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রায় ১২শ’ টি ‘সেক্স ফেরোমন’ ফাঁদ ব্যবহার করেছেন কৃষকরা। এছাড়া সারের বদলে গোবর সার বা জৈব সার ব্যবহার করেছেন। তারা বলেন, এক সময় এসব পদ্ধতি ব্যবহার করতে চায়নি কৃষকরা। এখন সবাই আগ্রহী হচ্ছে। এই পদ্ধতি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।