• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

পীরগঞ্জে বন্যায় ক্ষতি ৫০ কোটি

১৯ হাজার কৃষক-জেলে ক্ষতিগ্রস্ত

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ (রংপুর)

| ঢাকা , রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২০

রংপুরের পীরগঞ্জে এবারের বন্যায় চাষিদের বিভিন্ন ফসল ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকার। কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর উজান থেকে আসা পানির কারণে সৃষ্ট বন্যায় চাষিদের আমনধান, সবজি এবং রুপালী ফসল পুকুরে চাষকৃত মাছের ওই ক্ষতি হয়। ফলে (প্রান্তিক-ক্ষুদ্র ও মাঝারি) কৃষক ও মৎস্য চাষিরা হতাশায় ভুগছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম রবি শস্য (ভুট্টা,সরিষা,পেঁয়াজ ও আলু)যে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষক ও চাষিদের।

উপজেলার চতরা ইউপির ঘাষিপুর গ্রামের কৃষক হাফিজার রহমান বলেন, ২ বিঘা জমিতে লাউ চাষ করে ছিলেন। লাউ থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় হতো তার। বন্যার পানিতে লাউক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েেেছন তিনি। আমন ধান ক্ষেতও বিনষ্ট হয়েছে বন্যায়। এ অবস্থা শুধু হাফিজারের একার নয় । তার মতো অনেক হাফিজারের এমন ক্ষতি হয়েছে এবারের বন্যায়। উপজেলা কৃষি অফিসার ছাদেকুজ্জামান সরকার সংবাদকে জানান, পীরগঞ্জ উপজেলায় ২৫ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান ও সবজি চাষ হয়েছিল। তন্মধ্যে বন্যায় ১ হাজার ৯শ’ ৫০ হেক্টর জমির রোপা আমন (প্রায় ২০ কোটি )ও সবজি জাতীয় অন্যান্য ফসলের (প্রায় ১০ কোটি ) এই মোট প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও কৃষকের। ওই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে বন্যা পরবর্তী করণীয় এবং আগাম রবি শস্য চাষে চাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। প্রায় ১৪ হাজার চাষি কম-বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে । উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৫২৭ জন মৎস্য চাষি ৬৭৯ হেক্টর আয়তনের পুকুরে মৎস্য চাষ করেন। তন্মধ্যে ৩ হাজার ১শ’ ৬৮ জন মৎস্য চাষির পুকুরের কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা মূল্যের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ায় তারা সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। চৈত্রকোল ইউপির মৎস্য চাষি আব্দুস সালাম মিয়া জানান, ১ একর করে পৃথক ২টি পুকুরে তিনি মাছ চাষ করেছেন। বন্যার পানি আর পুকুরের পানি সমান্তরাল হওয়ায় দেড় থেকে ২ কেজি ওজনের ৪ লক্ষাধিক টাকার মাছ বেরিয়ে যাওয়ায় মোটা অঙ্কের টাকা লোকসান গুণতে হবে। সিআইজি দলের সদস্য ছাতুয়া গ্রামের মানিক মিয়াা বলেন,পরিবারের অভাব ঘোচানোর লক্ষ্যে নিজের ৪০ শতাংশ পুকুরে মৎস্য অফিসের পরামর্শ অনুয়ায়ী প্রদর্শনী মাছের চাষ মাছ করেছিলেন। মাছের উৎপাদন ভাল হয়েছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে যাওয়ায় তার আশায় গুড়ে বালি হয়েছে। চতরা ইউপির বদনা পাড়ার মৎস্য চাষি কায়কোবাদ ম-ল ছাবু জানান, তার ১ একর পুকুরে রুই কাতলাসহ কার্প জাতীয় অন্যন্য মাছচাষ করেছিলেন। মাছগুলো বন্যার পানিতে বেরিয়ে যাওয়ায় লক্ষাধিক টাকা লোকসান গুণতে হবে তাকে। পাঁচগাছী গ্রামের মৎস্য চাষি রাশেদুল ইসলাম জানান, তাদের প্রায় ২০ একর আয়তনের পুকুরের ২০-২৫ লাখ টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, বন্যায় উপজেলার সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কুমেদপুর, মদনখালী, টুকুরিয়া, শানেরহাট, পাঁচগাছী, চতরা ও কাবিলপুর ইউনিয়নে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।