• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫, ৫ সফর ১৪৪০

পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরীতে প্লাবন ভাসছে চকরিয়া পেকুয়ার নিমাঞ্চল

৩ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী, যান চলাচল ব্যাহত

সংবাদ :
  • এম. জিয়াবুল হক, চকরিয়া (কক্সবাজার)

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন ২০১৮

image

চকরিয়া (কক্সবাজার) : পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি -সংবাদ

তিন দিনের টানা বর্ষণে মাতামুহুরী নদীতে থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভাসছে চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল। গত রোববার থেকে উজানের পাহাড়ি এলাকায় ঢল নামতে শুরু করলে পৌরসভাসহ দুই উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নে অন্তত ৩০ হাজারের বেশি বসতঘরে পানি উঠেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়কগুলো। উপজেলার অভ্যন্তরীণ জিদ্দবাজার-মানিকপুর সড়ক, চিরিঙ্গা-বদরখালী সড়ক, কেবি জালাল উদ্দিন সড়ক ও বরইতলি-মগনামা সড়কসহ কয়েকটি আঞ্চলিক সড়কের ওপর দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আঞ্চলিক সড়কে জীবন ঝুঁকি নিয়ে অল্প সংখ্যক গণপরিবহন চলছে। এসব এলাকার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার অমবস্যার জোয়ারে নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেলে চকরিয়া পৌরসভার একাংশ পাহাড়ি ঢলে ও বৃহৎ অপর অংশ জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী রয়েছে হাজারো পরিবার।

সরেজমিন ঘুরে দখো গেছে, পাহাড়ি ঢলের প্রবেশমুখ সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন ও কাকারা ইউনিয়ন ৪-৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। পাহাড়ি এলাকায় বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বেড়িবাঁধ ভাঙার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, সাহারবিল, চিরিঙ্গা, পূর্ব বড় ভেওলা, বিএমচর, পশ্চিম বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, ফাঁশিয়াখালী, বদরখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী ইউনিয়ন ও চকরিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মজিদিয়া মাদরাসা পাড়া, ভাঙ্গারমুখ, দিগরপান খালী, এক নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া, ছাবেত পাড়া, কাজীর পাড়া, ৩নম্বর ওয়ার্ডের বাটাখালী সেতুর পাশের কয়েকটি গ্রামের অন্তত শতাধিক বসতঘর পানিতে ডুবে গেছে। অপরদিকে পেকুয়ার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা, হরিনাফাড়ি, বিলহাছুরা, শিলখালী ইউনিয়নের হাজীর ঘোনা, মাঝের ঘোনা, জনতা বাজার, উজানটিয়া, মগনামা, রাজাখালী, টৈটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

চকরিয়া পৌরসভার বাসিন্দা জিয়া উদ্দিন ফারুক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দাবি সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত নালা নির্মাণ না করা ও নালা পরিষ্কার না করায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ২ নং ওয়ার্ডের শমসের পাড়াসহ নিকটস্থ মহল্লাগুলোতে। ওই এলাকার সিংহভাগ ঘরে পানি উঠেছে। এছাড়া বাটাখালী ব্রিজ থেকে থানার মোড় হয়ে মগবাজার পর্যন্ত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আজিমুল হক আজিম জানিয়েছেন, টানা ভারি বর্ষণের কারণে রোববার সকালে মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামে। পানির প্রবল স্রোতে তার ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা তলিয়ে যায়। দুইদিনের ভারী বর্ষণে ও নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ার কারণে ইউনিয়নের নদীর তীর এলাকার লোকজন চরম দুর্ভোগে রয়েছে।

চিরিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, ভারি বর্ষণে মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢল নামার কারণে বিভিন্ন শাখাখাল ও সুøইচ গিয়ে দিয়ে তাদের লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে নদীর পানি। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদীতে ঢলের পানি গতি বাড়বে। এতে বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করবে। এ অবস্থায় উপকুলের বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে চিংড়িজোনের হাজারো মৎস্য প্রকল্প পানিতে ভেসে যেতে পারে।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার জানিয়েছেন, ঢলের প্রভাবে তার ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, পহরচাঁদা অংশে বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে লোকালয়ে ঢুকছে ঢলের পানি।

লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা কাইছার বলেন, ভারী বর্ষণে রোববার থেকে তার ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে চকরিয়া সরকারি কলেজ, আমজাদিয়া মাদরাসা হাটু সমান পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। ইউনিয়নের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন বলেন, বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি মাতামুহুরী নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় তার ইউনিয়নে নদীর তীর এলাকায় ভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে ১৫-২০টি বসতঘর নদীতে তলিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ওসমান বলেন, তিনদিনের ভারী বর্ষণে তার ইউনিয়নের বেশিরভাগ নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে আভ্যন্তরিক বেশ কটি সড়ক। ছিকলঘাট-কাকারা-মাঝেরফাড়ি সড়কের উপর দিয়ে মাতামুহুরী নদীর পানি লোকালয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে তার ইউনিয়নের ৮০ ভাগ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এতে জনসাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, গতকাল উপজেলা বরইতলী ও কাকারা ইউনিয়নে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। বন্যাকবলিত পরিবারগুলোকে প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবার দিতে সব চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি। চকরিয়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপারে জেলা প্রশাসককে অবহিত করে জরুরি ত্রাণ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাফর আলম বলেন, চকরিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকার জনগনের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। যাতে রমজানের এইদিনে কোন মানুষকেই না খেয়ে থাকতে না হয়। তিনি বলেন, বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।