• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ জিলকদ ১৪৪১

পাহাড়ি ঢল-টানা বৃষ্টিতে ৪ জেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২০

image

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) : পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দী লোকালয় -সংবাদ

কলমাকান্দায় প্লাবিত অর্ধশতাধিক গ্রাম

প্রতিনিধি, কলমাকান্দা (নেত্রকোনা)

দুই দিনের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার ৮টি ইউয়িনের অর্ধশতাধিক গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তাছাড়া আউশের বীজতলা ও কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট নিমজ্জিতসহ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। গত সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, নেত্রকোনা জেলা-কলমাকান্দা সড়কের গুতুরা থেকে বাহাদুরকান্দা পর্যন্ত সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ সে.মি. উব্দাখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের সংযোগ সড়কের অধিকাংশ স্থানে ২-৩ ফুট ওপর দিয়ে পানি বইছে এবং উপজেলায় ডোরিয়াকোনা সার্বজনীন কবরস্থান ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে কলমাকান্দা সদর, বাসাউড়া, মন্তলা, চানপুর, আনন্দপুর, রঘুরামপুর, বিশরপাশা, নাগডড়া, পাঁচগাঁও ধারাপাড়া, নয়াচৈতা, রামনাথপুর, নক্লাই, নতুনবাজার, তেলীগাও, বাঘারপাড়, বিষ্ণুপুর, শিবনগর, বাউশাম, সুন্দরীঘাট, ভাষানকুড়া, রহিমপুর, কান্তপুর, নলছাপ্রা, পাঁচকাঠা, ভাবানীপুর, শিবনগর, বালুছড়া, ইয়ারপুর, গোড়াগাও, গোয়াতলা, কৈলাটি, শুনই, গোবিন্দপুর, বড়ইউন্দ, কেশবপুর, সালেঙ্গা, কুতিগাও, ভাটিপাড়াসহ আরও অনেক গ্রামের খাল-বিল ও জলাশয়সমূহ পানিতে ডুবে গেছে। উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের মহাদের নদীতে তীব্র পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর গর্ভে ১০টি বসতঘর ধসে পড়েছে বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক ও আতাউল হক গণি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফারুক আহম্মেদ জানান, গত শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭০ মি.লি. এবং এরপর থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ৫৫ মি.লি. এ নিয়ে ১২৫ মি.লি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে গত দু’দিনে। এ পানিতে প্রায় ১৪ একর আউশ ধানের বীজতলাসহ প্রায় ৫১০ হেক্টর আউশ ধান চাষকৃত জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। দ্রুত পানি সরে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল খালেক বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, বন্যার্তদের মধ্যে নগদ টাকা ও চাল বিতরণ করা হবে। তাছাড়া এ দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে তারা জানান।

সাটুরিয়ায় ১০ বাড়ি-শতাধিক

বিঘা আবাদি জমি বিলীন

মো. লুৎফর রহমান, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ)

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার বরাইদ ইউনিয়নের ছনকা গ্রামে ১০ বাড়িসহ শতাধিক বিঘার আবাদি ফসলসহ ধলেশ্বরী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে আরও তিনটি গ্রামসহ স্কুল মসজিদ। সাটুরিয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বরাইদ ইউনিয়ন পরিদর্শন করে দেখা গেছে এবার নতুন করে ১০টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যাদের বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে তাদের নামের তালিকা করা হয়েছে। তাদের নতুন করে ঘর তোলার জন্য সাহায্য করা হবে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নকে তিন ভাগ করে ধলেশ^রী নদী দখল করে নিয়েছে। একটি গ্রামকে তিন ভাগে ভাগ করে প্রতি বছর শত শত ঘর বাড়ি গিলে খাচ্ছে ধলেশ^রী নদী। কয়েকদিন ধরে ধলেশ^রী নদীর পানি বাড়তে থাকায় ছনকা গ্রামের ইতোমধ্যে ১০ বাড়ি ও শতাধিক জমির আবাদি ফসল নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সাটুরিয়ার ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, সাটুরিয়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে এ সময়ে নদী ভাঙন চলে। নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চলে ভাঙন। যাদের ঘর বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে তাদের সাহায্য করা হবে বলে তিনি জানান। সাটুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ ফটো জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান।

উলিপুরে পানিবন্দি ৪৫ হাজার

প্রতিনিধি, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলো হচ্ছে বুড়াবুড়ি, বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা, হাতিয়া এবং পশ্চিম প্রান্তে তিস্তা অববাহিকায় বজরা, গুনাইগাছ, থেতরাই ও দলদলিয়া। পানিবন্দী এসব ইউনিয়নের মানুষের মাঝে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বীজতলা, পাট, ভুট্টা, কাউন, চিনা ও শাকসবজির ক্ষেত। বন্যা কবলিত এলাকার গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক প্লাবিত হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন কবলিত মানুষজন ভিটে মাটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সবকটি নদ নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদের বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। ইতোমধ্যে ৮০ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সাঘাটায় তলিয়ে গেছে ৩ ইউপি

প্রতিনিধি, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী জুমারবাড়ী ইউনিয়ন, সাঘাটা ইউনিয়ন, ঘুড়িদহ ইউনিয়ন, ভরতখালী ইউনিয়ন ও হলদিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হুমকীর সম্মুখীন হয়ে পড়েছে হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর ও নলছিয়া মৌজার সংযোগ সড়কটি।

গত শনিবার সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বন্যা কবলিত এসব এলাকা পরিদর্শন করেন। বন্যা কবলিত এলাকায় পাট, আমন বীজতলা, পটল, শাক-সবজি, বর্ষালী রোপা আমন ক্ষেত সহ শত শত একর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জ্বিত হয়েছে। পানিবন্ধী পরিবারেরা গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দিঘলকান্দি ও পাতিলবাড়ী মৌজার প্রায় ২শ’ পরিবারের ঘরবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের শিকার এসব পরিবার অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী প্রধান জানান, আমার ইউনিয়নের সকল মানুষই পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত পানিবন্ধী পরিবারের জন্য সরকারী ভাবে কোন ত্রাণ সহায়তা পাওয়া যায় নি। জুমারবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রোস্তম আলী আকন্দ জানান, আমার ইউনিয়নের ব্যাঙ্গারপাড়া, থৈকড়েরপাড়া, কাঠুর, পূর্ব আমদিরপাড়া, কুন্দপাড়া গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব পানিবন্দী মানুষের জন্য সরকারী ভাবে কোন আর্থিক সাহায্য পাওয়া যায় নি।