• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৭ জিলহজ ১৪৪১, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

পাউবোর অপরিকল্পিত খালে ধসে পড়ল এলজিইডির পাকা রাস্তা!

সংবাদ :
  • শেখ রাজীব, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)

| ঢাকা , সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২০

image

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : পাউবোর খালে ধসে পড়ছে এলজিইডির পাকা সড়ক -সংবাদ

পানি উন্নয়ন বোর্ডের খনন করা অপরিকল্পিত খালে ধসে পড়ল এলজিইডির ২০০ মিটারের বেশি পাকা সড়ক। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চর আন্ধারমানিক রেল লাইন-চরকৃষ্ণপুর থেকে সেলিম ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত এক বছর আগে এ সড়কটি নির্মিত হয়। গত তিন মাস ধরে তিন চাকার যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত মেরামত করা না হলে যে কোন মুহূর্তে পায়ে চলার পথও বন্ধ হয়ে যাবে।

এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে গোয়ালন্দের ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর আন্ধারমানিক রেললাইন-চর কৃষ্ণপুর হয়ে সেলিম ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত চেইনেজ ১০০০ মিটার থেকে ১৬৩৫ মিটার পর্যন্ত পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়। ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কের পাকা কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করার পর গতবছর ১২ মে পোস্টওয়ার্ক গ্রহণপূর্বক চূড়ান্ত বিল প্রেরণ করে। রাস্তার দুই পাশে মাটির কাজ শেষে দৃশ্যমান সুন্দর করে সম্পন্ন করা হয়। রাস্তার চেইনেজ ১৩৫০ থেকে ১৫৫০ মিটার পর্যন্ত অংশের বাম পাশর্^ দিয়ে পদ্মা নদীর শাখা খাল প্রবাহিত হয়েছে। গত বর্ষার আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই শাখা নদীতে গভীর করে খাল পুনর্খনন করে। অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা ঘেঁষে খাল পুনর্খনন করায় ভরা বর্ষায় খালটি দিয়ে পানির তীব্র স্র্রোত বয়ে যায়। এতে রাস্তার ১৩৫০ থেকে ১৫৫০ মিটার অংশের বাম পাশের পেভমেন্টসহ ভেঙ্গে নিচে ধসে পড়ে।

এরপরও কাজ না হওয়ায় পরবর্তী যোগদানকারী গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশলী মো. বজলুর রহমান খান চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি পুনরায় নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবগত করে পত্র দেন। নির্বাহী প্রকৌশলী এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ২১ জানুয়ারি রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে পত্র লিখেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কেবল সড়ক নয়, সড়কের পাশে রোপিত গাছ এবং খালের পাড়ের ফসলি জমিও ধসে পড়ছে। এ সময় এলাকার লোকজন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মাহমুদপুর এলাকার মুদি দোকানি রোস্তম মোল্লা (৭০) বলেন, গত বন্যার কিছুদিন আগে প্রায় ৭ ফুট গভীর ও ৩০ ফুট করে প্রস্থে খাল কাটায় বর্ষায় পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। বর্ষার পানি কমতে শুরু করায় ধীরে ধীরে পাকা রাস্তার পাড় ধসে পড়তে থাকে।

স্থানীয় বরাট ভাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুপা আক্তার ও লিয়ারসহ কয়েকজন জানায়, তারা রাস্তাটি দিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করে। আগে প্রতিদিন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, মাহেন্দ্র, রিকশা, ভ্যান এমনকি ছোট ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়মিত চলাচল করত। স্কুল-কলেজের অনেক শিক্ষার্থী তিন চাকার গাড়িতে আসা যাওয়া করত। পাকা রাস্তার অর্ধেকের বেশি অংশ খালে ধসে পড়ায় এখন তিন চাকার গাড়ি আসা যাওয়া করে না। তাদের প্রতিদিন ২ থেকে ৩ কিলোমিটার পথ হেটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী বজলুর রহমান খান সংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে একাধিকবার পাউবোকে অবগত করেছি। দ্রুত মেরামত করা সম্ভব না হলে রাস্তাটি দিয়ে পথচারীদেরও চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবায়েত হায়াত শিপলু সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের খাল খনন প্রকল্পের আওতায় পাউবো খাল পুনর্খনন করেছে। এলজিইডির প্রকৌশলীর মাধ্যমে পাউবোকে অবগত করে প্রাথমিকভাবে মাটি ফেলে চলাচলের ব্যবস্থা ঠিক রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফ সরকার বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট খাল পুনর্খনন প্রকল্পের ঠিকাদারের সঙ্গে আলাপ করে রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পাইলিং করে মেরামতের ব্যবস্থা নিচ্ছি। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে মনে করছি।