• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

পটুয়াখালী শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ৩ কিমি. নালা

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, পটুয়াখালী

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২০

image

পটুয়াখালী : নতুন ড্রেন নির্মাণ কাজ করছেন পৌরশ্রমিকরা-সংবাদ

এক সময় পটুয়াখালী পৌরসভার বেশিরভাগ অঞ্চল বর্ষাকালে পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং নগরবাসী অবর্ননীয় দুর্ভোগে পড়েন। শহরের পূর্বদিকে লোহালিয়া নদী এবং উত্তরদিকে লাউকাঠি নদী থেকে জোয়ারের পানি সহজেই শহরে প্রবেশ করছিল এবং বৃষ্টির পানিতে পৌরবাসীর দুর্ভোগ যুক্ত হয়েছিল।

এদিকে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ হলেও জলাবদ্ধতা দূর হচ্ছে না। পানি নিষ্কাসনের জন্য নর্দমার ব্যবস্থা খুব অপ্রতুল হওয়ায় নিম্নাঞ্চলসহ বেশিরভাগ সড়ক, এমনকি শহরের বাসা-বাড়িও প্লাবিত হচ্ছিল। পৌরসভা বর্ষাকালে পৌর শহরের লোকজনকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষায় প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার নতুন নর্দমা তৈরির প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

পৌরসভা সূত্র জানায়, ১৮৯২ সালের ১ এপ্রিল পৌরভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই পৌরসভায় বর্তমানে ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষের বসবাস। পৌরসভায় পাকা সড়ক রয়েছে ১৭৬ কিলোটিার, কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার, ইট বিছানো সড়ক রয়েছে ২১ কিলোমিটার এবং অরসিসি ও সিসি সড়ক রয়েছে ৪৩ কিলোমিটার। পৌরসভায় ২৩ দশমিক ৭৫ কিলোটিার নর্দমা রয়েছে। এর মধ্যে ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার রয়েছে পাকা নর্দমা, ৭ দশমিক ২৫ কিলোমিটার আরসিসি এবং ১১ কিলোমিটার কাঁচা নর্দমা রয়েছে। এরসঙ্গে রয়েছে ১৪টি কালভার্ট এবং ৪৭টি কাঁচা খাল। এদিকে পৌরসভায় পানিনিষ্কানের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় দীর্ঘদিন আবহাওয়া জনিত কারণে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীর পানি জেয়ারের সময় বৃদ্ধি পেয়ে পৌরশহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে প্লাবিত হয়ে থাকে। দুর্ভোগের শিকার পৌরবাসী শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি তোলে। এই অবস্থায় পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে ২৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালী শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে। এই প্রকল্পের আওতায় ছয়টি জলকপাট, নয়টি কালভার্ট, ১৭টি আউটলেট, ২৫টি ইনলেট, পাকাবাঁধ ৯৫০ মিটার উঁচু করা, সিট পাইলিং ও অন্যান্য কাজ করা হয়। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে কাজ শেষ হয়।

কিন্তু শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করার পরও বর্ষা মৌসুমে পৌরশহরে জলাবদ্ধতা নিরসন হয়নি। পৌর শহরের পানিনিষ্কানের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় পৌরবাসীর ভোগান্তি কমেনি। এই অবস্থায় পৌরসভা পানি নিষ্কাসনের জন্য নর্দমা নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

পটুয়াখালী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী এইচ.এম সোলায়মান বলেছেন, পৌরসভা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিপি) অর্থায়নে ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘উপকূলীয় শহর পরিবেশ অবকাঠামো প্রকল্প’ শীর্ষক এই ২০১৭ সালের জুন মাসে কার্যক্রম শুরু হয়। এক বছরের এই প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুলাই মাসে শেষ হওয়ার কথা। তবে এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়নি।

প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি পৃথক নর্দমা নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে জৈনকাঠি বাঁধঘাট পর্যন্ত ১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ নর্দমা, পটুয়াখালী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে পিডিএস খাল পর্যন্ত ৩৯৭ মিটার দীর্ঘ নর্দমা, ফায়ার সার্ভিস কার্যালয় থেকে পুলিশ সুপার কার্যালয় পর্যন্ত ৫৬১ মিটার দীর্ঘ নর্দমা, আয়কর অফিস থেকে সলিম কবরস্থান পর্যন্ত ৪৫৬ মিটার দীর্ঘ নর্দমা এবং মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ থেকে পাবলিক লাইব্রেরি কার্যালয় পর্যন্ত ৫৬৬ মিটার দীর্ঘ নর্দমা নির্মাণ রয়েছে এই প্রকল্পে। এই নর্দমাগুলো লোহালিয়া ও লাউকাঠি এই দুইটি নদী এবং পৌর শহরের দক্ষিণ দিকে বহালগাছিয়া খালের সঙ্গে যুক্ত হবে।

তিনি বলেন, নর্দমার নির্মাণের ক্ষেত্রে জায়গা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রকল্পের কাছ শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে প্রকল্পের সময়সীমা ইতোমধ্যে আরও এক বছর বেড়েছে এবং আমরা আশা করি এই বছর জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। আর এই প্রকল্পের নর্দমা নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরে পৌরসভার বেশিরভাগ অঞ্চল জলাবদ্ধতা মুুক্ত থাকবে এবং পৌরবাসিন্দারা প্রকল্পটি থেকে উপকৃত হবেন।

পৌরসভার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা নির্মল কুমার রক্ষিত বলেন, জোয়ারের সময় নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই তা পৌরশহরে প্রবেশ করতো। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়ে আসছে। তবে এখন পর্যাপ্ত নর্দমা নির্মাণ হচ্ছে। আমরা আশা করছি এরপর জলাবদ্ধতা দুর হবে।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাবেক সভাপতি পিযুষ কান্তি হরি বলেন, নর্দমাগুলো নির্মাণ হলে পৌরহরের জলাবদ্ধতা নিরন হবে। তবে পানি যাতে নর্দমা দিয়ে নদী-খালে নেমে যেতে পারে তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা ভাল হলে জলাবদ্ধতা থাকবে ন। পৌরবাসী দুর্ভোগ কমবে।

পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা পৌরশহরের জলাবদ্ধতা দূর করতে নতুন নর্দমা নির্মাণ করছি। এই প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে শহরে জলঅবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না এবং নাগরিকরা উপকৃত হবেন বলে আরা আশা করছি। আমরা সবার জন্য সমানভাবে নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।