• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১ মহররম ১৪৪২, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭

নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় ২৬ বাড়িঘর ভাঙচুর

ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১৯ জনের জেল

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, সদরপুর (ফরিদপুর)

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ জানুয়ারী ২০১৯

image

সদরপুর (ফরিদপুর) : নির্বাচনোত্তর হামলায় ভাঙচুর করা বাড়ি -সংবাদ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা নির্বাচনী এলাকায় ভয়াবহ তান্ডব সংঘর্ষ চালিয়ে নৌকার সমর্থকদের ঘড়-বাড়ি ভাঙচুর ,লুটপাট সহ এলাকা ছাড়া করে দিয়েছে অনেক পরিবারকে। এছাড়া হুমকি-ধমকি সহ অনেককেই মারধর করছে, অনেকেই এলাকার বাইরে প্রানের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বিশেষ করে সদরপুরের চরমানাইর ইউনিয়নের রারিখাল, খাসচরমানাইর গ্রামের আতামোল্যা, সুরুজ মেম্বর, সাহেদ, সনুমোল্যা, সিকান, হান্নান, মজিবর, হোসেন মাদবর, ইদ্রিস মাদবর সহ ঐ গ্রামের ২৫/২৬ টি বাড়ি-ঘড় ভাঙচুরসহ লুটপাট করে আসবাস, মালামালসহ টাকা পয়সা নিয়ে গেছে, এমনকি গৃহপালিত পশু ও বাদ যায়নি। সদরপুরের নয়রশির কালামের বাড়ি আক্রমন করে ঘড়-বাড়ি কুপিয়ে বাংচুর করে, কালামের স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়। এছাড়া সদরপুর বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে। এই নিযে প্রশাষনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা সরোজমিন পরিদর্শন করে জরুরী ব্যাবস্থা গ্রহন সহ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বিভিন্ন এলাকায় আর্মস পুলিশ টহল দিচ্ছে। ভাঙার কয়েকটি ইউনিয়নেওহমলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘঠেছে এসব এরাকার সংখ্যা লঘু সম্প্রাদায়ের অনেক লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলেও জানা যায়। এসব এলাকায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এই নিয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাজী জাফরল্লাহ অভিযোগ করে বলেছেন, নির্বাচনের পরে বিজয়ী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের ৮৪টি বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন।

গত বুধবার দুপুরে ভাঙ্গা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে পরবর্তী সহিংসতার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ফরিদপুর-৪ আসন (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাস) উপজেলায় এখনো স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার গুন্ডা বাহিনীর আক্রমের কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় মধ্যে রয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ভাঙ্গা নির্বাচনী জনসভায় নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। এই অঞ্চলে মানুষ নেত্রীর কথায় নৌকায় ভোট দিয়ে ছিলো। এখন এই ভোট দেয়াটাই তাদের জন্যে পাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন- ভাঙ্গা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুর রহমান মিরন, সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা, চরভদ্রাসন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আব্দুল কাউসার প্রমুখ। প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে ৪৯ হাজার ৯৪৫ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাজী জাফর উল্লাহকে পরাজিত করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। অপর দিকে সহিংস কর্মকান্ড ঘটানোর জন্যে ১৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদাদত। ফরিদপুরের সদরপুরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার দায়ে সদরপুর ইউনিয়নের সাতজনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত মঙ্গলবার সকালে ও বিকেলে ভাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সহিংসতার কারনে তাদের আটক করে সদরপুর থানা হেফাজতে রাখা হয়। পরে ইউএনও সদরপুর কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আটককৃত প্রত্যেককে ২মাসের বিনাশ্রম জেল দেওয়া হয়।

আদালত পরিচালনা করেন ফরিদপুর জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মো. বায়েজিদুর রহমান। দন্ডিতরা হলেন, মো. জিন্নাত হোসেন (২৪), মো. শওকত মোল্যা (২৫), গফফার মাতুব্বর (২৩), ফয়সাল মাতুব্বর (২৬), আসাদ মোল্যা (২৪), ফরহাদ মজুমদার (২৩), রাহেল মোল্যাসহ (২২) ১৯ জনকে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। গনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২এর অনুচ্ছেদ ৯০(খ)এর অধীন প্রণীত জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরনবিধি ২০০৮ এর বিধি ১১এর গ ধারা মোতাবেক এ কারাদন্ড দেয়।