• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৫, ১২ শাওয়াল ১৪৪০

নাব্য হারিয়ে খরস্রোতা বড়াল এখন আবাদি জমি

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশ, রাজশাহী

| ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

image

রাজশাহী : চাষের জমি মরা বড়াল -সংবাদ

রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট, বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়ার মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা বড়াল নদী এই গ্রামেরই আয়না, এ অঞ্চলের নারীরা প্রসাধন ঠিক করত স্বচ্ছ জলে ভাসা নিজের প্রতিচ্ছবিতে। প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চলে হলুদ, আমের জন্য বিখ্যাত ছিল। সেই সময় বাণিজ্য করতে আসত বড় বড় নৌকা।

সেই সময় বড়াল ছিল এই অঞ্চলের মানুষের জেগে ওঠার প্রেরণা। ব্যবসা কেন্দ্র। কিন্তু নাব্যতা হারিয়ে এখন শীর্ণ খালে পরিণত হয়েছে। নদীর বুকে বোরো, তিল, কলাই, মরিচ, বেগুনের আবাদ হচ্ছে। উজানে বাঁধ দিয়ে ইরিগেশনের জন্য সেচ দেয়া, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং যাতায়াতের জন্য নদীর বুকে একাধিক সেতু নির্মাণ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া প্রমত্তা পদ্মা শুকিয়ে ধূ-ধূ বালুচরে পরিণত হওয়ায় পদ্মার শাখা বড়াল নদী আজ মৃতপ্রায়। নদীর বুকে পলি জমে উঁচু হয়েছে। দু’পাড় ছেপে গেছে। নদীর পাড়ে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। নদীর চর ভূমিগ্রাসীরা দখল করে নিয়েছে।

জানা যায়, রাজশাহীর চারঘাট থেকে পদ্মার শাখা নদী হিসেবে বড়াল নদীর উৎপত্তি হয়ে রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট, নাটোরের বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বাঘাবাড়ি হয়ে হুড়া সাগরের বুকে মিশে নাকালিয়ায় যমুনায় পড়েছে।

এক সময় যোগাযোগের সুবিধার কারণে বড়াল নদীর দুই পাড়ে আড়ানী বাজার, রুস্তমপুর পশুহাট, পাঁকা বাজার, জামনগর বাজার, বাশবাড়িয়া বাজার, তমালতলা বাজার, বাগাতিপাড়া থানা, দয়ারামপুর সেনানিবাসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গড়ে উঠে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৯৮১-৮২ অর্থ বছরে নদীর তীরবর্তী উপজেলাগুলোকে বন্যামুক্ত করার জন্য উৎসমুখ চারঘাটে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়।

আড়ানী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সাহাবাজ আলী বলেন, বাড়ল নদীর বিভিন্ন স্থানে সøুুইসগেট ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সøুুইসগেট ও বাঁধ নির্মাণের ফলে ক্রমান্বয়ে বড়াল নদী শুকিয়ে শীর্ণ খালে পরিণত হয়েছে। এখন বড়ালের তলদেশে বিভিন্ন আবাদ করা হচ্ছে। বর্ষায় নদীতে কিছু পানি জমলেও শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই শুকিয়ে মরা নদীতে পরিণত হয়।

আড়ানী গোচর গ্রামের কৃষক কলিম উদ্দিন বলেন, বড়ালে পানি না থাকায় এলাকার কৃষকরা নদীর বুক জুড়ে ফসল আবাদ করেন। পরিণত হয় গবাদি পশুর চারণ ক্ষেত্রে। এক সময় যে বড়ালের পানির সেচে নদীর তীরবর্তী মানুষ তাদের জমিতে ফসল ফলাত। এখন সে নদীর বুকে অগভীর নলকূপ বসিয়ে চলে ধান চাষ। আড়ানী সরকারি মনোমোহীনি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল হাসান জুয়েল বলেন, বড়াল নদীতে পানি না থাকায় এ নদীর পারে গড়ে উঠা ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রগুলো তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। সেচসহ প্রতিদিনের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করায় পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এখনই সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করে পুনর্খনন করা না হলে বড়াল তার ঐতিহ্য হারিয়ে মরুকরণ প্রক্রিয়া তরান্বিত হতে পারে।

বাঘা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা সামিমুল ইসলাম বলেন, শুষ্ক মৌসুমের বড়ালে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে বড়ালে ধারে খেতে পানি দিতে অসুবিধা হয় কৃষকদের। তবে দ্রুত খনন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।