• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ রবিউস সানি ১৪৪১

দেশজুড়ে বাড়ছে বনসাই চর্চা

সংবাদ :
  • এম. এ কাশেম সরকার, তারাকান্দা (ময়মনসিংহ)

| ঢাকা , সোমবার, ০৮ এপ্রিল ২০১৯

image

তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) : দৃষ্টিনন্দন বনসাই -সংবাদ

উদ্ভিদের শোভাবর্ধন করে বনসাই। বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষকে আকারে ছোট করে টবে পালন করা হয়। প্রাচীন চীনা শব্দ ‘পেনজাই’ থেকে জাপানি ‘বনসাই’ শব্দের প্রকৃত অর্থ অগবীর পাত্রের গাছ। জাপানি ভাষার ‘বন’ বলতে বোঝায় অগভীর ট্রে বা সিরামিকের পাত্র। আর ‘সাই’ হচ্ছে গাছ। এই দুইয়ে মিলে ‘বনসাই’ নামকরণ। তবে জাপানিরা বনসাই নাম দেওয়ার আগে এটিকে ‘হাচি-নো-কি’ (গামলার গাছ, নামে ডাকত। বলা হয়ে থাকে, বনসাই চীন দেশে উদ্ভূত এবং জাপানে বিকশিত। আপাতভাবে চীনকে বনসাইয়ের জনক বলা হলেও তা সঠিক নয়। খ্রিস্টের জন্মের চার হাজার বছর আগে মিসরীয় ইাতহাস থেকে জানা যায়, তৃতীয় ফরাও রামসেস পাথর কেটে পাত্র বানিয়ে তাতে জলপাই, খেজুরসহ অন্যান্য গাছ লাগিয়ে মন্দিরে সরবরাহ করতেন এবং রাজা- বাদশাহদের উপঢৌকন পাঠাতেন। এত প্রতীয়মান হয় বনসাইয়ের জনক মিসরীয়রাই।

বনসাই তৈরিতে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। বনসাই শিল্পে যথেষ্ট অবদান রাখছে দেশের বনসাই চাষিরা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত বনসাই মেলায় তার প্রমাণও মেলে। আমাদের দেশের সব ধরনের গাছ বনসাই তৈরির জন্য উপযুক্ত নয়। অপেক্ষাকৃত কষ্টসহিষ্ণু গাছ যেমন বট, পাকুড়, কৃষ্ণচূড়া, বকুল, তেঁতুল, দেবদারু জলপাই ইত্যাদি গাছ বনসাই তৈরির জন্য উপযুক্ত বলে জানা যায়।

চীন-জাপান আর বাংলাদেশই কেবল নয়, বর্তমানে বনসাই গোটা এশিয়াতেই ব্যাপকভাবে সমাদৃত। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এটি ধনী ও শৌখিন লোকের ড্রইংরুমে অনায়াসে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে। এত মূলত দুটি জিনিস বোঝাতে চায় তারা।

এক, তাদের রুচিবোধ বেশ উঁচু, দুই তার রয়েছে অঢেল অর্থবিত্ত। নইলে আকাশছোঁয়া দামে ‘পৈাষ মানানো’ একটি বুনো গাছ কিনে ঘরের ভেতর বন্দি করে রাথার মানেটাই বা কী!

চড়া দামে কেনা বনসাই ধনিক শ্রেণীর মানুষের ঘরের শোভা বর্ধন করবে, তা নিয়ে অবশ্য কারো মাথাব্যথা থাকার কারণ নেই। এটা একান্তই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে মাথাব্যথটা হতে পারে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে। ড্রইংরুমে বনসাই লালনের পাশাপাশি যদি বনসাই-প্রেমীরা প্রত্যেকেই পাঁচটি কারেও গাছ লাগাতেন তাহলে সর্বসাধারণ উদ্বুদ্ধ হয়ে হাজার হাজার গাছ লাগিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারত। বিষযটি বিবেচনায় নিয়ে আসুন, সবাই মিলে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশটাকে সবুজে মুড়িয়ে দেই। তাহলে বনসাই প্রেমও বিফলে যাবে না।