• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

দিনরাত অবাধে বালু উত্তোলন হুমকিতে নদীতীরবর্তী জমি বাড়ি

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম)

| ঢাকা , শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলায় কোন জলমহল নেই। কিন্তু প্রতিদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদী তলদেশে ভূ-প্রকৃতি পরিবর্তন হচ্ছে। হুমকিতে পড়ছে আবাদি জমি ও নদী তীরবর্তী জনপদ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত কয়েকবছর ধরে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করলেও স্থানীয় প্রশাসন প্রভাবশালী এসব বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কার্যকরী কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বালু খেকোরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, চর রাজিবপুর উপজেলার নৌঘাট সংলগ্ন এলাকায় ৪ থেকে ৫টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন রাত বালু উত্তোলন করে আসছে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এতে নদীর তলদেশ ভেঙ্গে পলি পরে একদিকে নৌ-চলাচল ব্যাহত হচ্ছে অপরদিকে ভেঙ্গে যাচ্ছে আশপাশের জমিজমা।

২০১০ সালের বালুমহল আইনে বলা আছে, বিপণনের উদ্দেশে কোন উন্মুক্ত স্থান, চা বাগান, ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এছাড়া সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ-বাধ, সড়ক-মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন করা নিষিদ্ধ। তবে এ এলাকার বালু ব্যবসায়ীরা আইন বা নিয়ম না মেনে, নিজের সুবিধামতো বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

স্থানীয় মাতবর শাহজামাল জানান, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদীতে গভীর খাদ হয়ে চার পাশের জমি ভেঙ্গে সেই খাদে পড়ে, আশপাশের অনেক জমি নষ্ট হয়। এছাড়া বর্ষাকালে নদী ভাঙ্গে দিগুণ হারে। এলাকাবাসী আরও জানান, মাঝে মধ্যে ইউএনও স্যার এসে জরিমানা করে বালু তোলা বন্ধ করে দেন। কিন্তু আবার ২-১ দিন পর পুনরায় বালু তোলা শুরু করে।

উপজেলার পাখি উড়া বাজারের উত্তর পাশে রৌমারী উপজেলা সীমান্ত সংলগ্ন সোনাভরি নদীতে বিক্ষিপ্তভাবে ১৫ থেকে ২০টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে কোদালকাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য তোতা মিয়া, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম।

অবৈধভাবে নদী থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে বালু ব্যবসায়ী তোতা মিয়া বলেন, আমরা স্থানীয় প্রশাসন ম্যানেজ করেই বালু উত্তোলন করি। পত্রিকায় লিখে কোন লাভ হবে না। কোদালকাটি ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, অন্যরা বালু উঠায় তাই আমিও উঠাই। সকলে বন্ধ করলে আমিও বন্ধ করব।

এ ব্যাপারে চর রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, কয়েকদিন আগেই কয়েকজন বালু ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছি। এখনই যদি কেউ বালু উত্তোলন করে শীঘ্রই ব্যবস্থা নিব।