• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

দশমিনায় ১৫টি আশ্রয়নের ঘর বসবাসের অনুপযোগী

কর্মসংস্থান না থাকায় অন্যত্র চলে গেছে অনেকে

সংবাদ :
  • আহাম্মদ ইব্রাহিম অরবিল, দশমিনা (পটুয়াখালী)

| ঢাকা , রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২০

image

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৫টি ইউনিয়নে ১৫টি আশ্রয়ন প্রকল্পে ৮ শতাধিক পরিবারের নামে বরাদ্দ থাকলেও কর্মসংস্থান না থাকায় অন্যত্র চলে গেছে। প্রকল্পের অধিকাংশ ঘর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় পরিবারের কেউ থাকতে চাচ্ছে না। ফলে ঘরগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় দাড়িয়ে আছে। তবে কিছু পরিবার অন্যত্র গিয়ে মাথা গোঁজার ঠাই না পেয়ে পুনরায় ফিরে এসেছে। কোন কাজকর্ম না থাকায় পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

উপজেলায় আদর্শ গ্রাম, গুচ্ছ গ্রাম ও আশ্রয়ন এই ৩টি প্রকল্পের বাসিন্দাদের এখন বেহাল দশা। উপজেলার সহায় সম্বলহীন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ যাদের বেঁচে থাকার জন্য এবং একটু মাথা গোঁজার ঠাই হিসাবে বিগত ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সদর ইউনিয়নের কাটাখালী, নিজাবাদ-লক্ষ্ণীপুর ও রনগোপালদী ইউনিয়নে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হয়। আশ্রয়ন প্রকল্পে আশ্রিতরা ঘর পেলেও জীবন ও জীবিকার জন্য তাদের কপালে কোন কাজ জোটেনি। বর্তমানে নির্মিত ঘরগুলো সংস্কার না করায় বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকটা অযতœ ও অবহেলায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলো পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আশ্রয়নের অনেক পরিবার পরিজন জীবন ও জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ঘর ফেলে রেখে অন্যত্র চলে গেছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি আশ্রয়ন প্রকল্প যুরে এসে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র থেকে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে আশ্রয়ন,আদর্শ গ্রাম ও গুচ্ছ গ্রাম নামে ১৫টি প্রকল্প রয়েছে। এই সব আশ্রয়ন প্রকল্পে অসহায় ভিটামাটিবিহীন প্রায় ৮ শতাধিক পরিবার বসবাস করছিল। উপজেলার একমাত্র বহরমপুর ইউনিয়নে আশ্রয়ন প্রকল্প না থাকলেও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে ১টি আশ্রয়ন প্রকল্প থাকলেও সেটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাটাখালী, নিজাবাদ-লক্ষ্ণীপুর এবং রনগোপালদী ইউনিয়নে ৩টি আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণ করে দেয়। ৪টি ব্যারাকে ১২০টি পরিবারকে মাথা গোঁজার ঠাই করে দেয় সরকার। নির্মানের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন মেরামত করা হয়নি। ফলে ঘরগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। নির্মিত ঘরের টিনের চালা,দরজা-জানালা ভেঙ্গে পড়ছে। বিগত সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অধিকাংশ ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে কিংবা ভেঙ্গে পড়েছে পাশের ঘরের ওপর। ভাঙ্গা ঘরে বসবাস করতে না পেরে জীবন ও জীবিকার তাগিদে অধিকাংশ প্রকল্প এলাকার বাসিন্দারা অন্যত্র চলে গেছে। ঘর নির্মাণের ১ বছরের মধ্যেই স্থাপিত গভীর নলকূপ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ে। বর্তমানে যারা বাস করছে তারা নিতান্তই বাধ্য হয়েই বসবাস করছে। ভিটে মাটি না থাকায় মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাই হিসাবে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরই একমাত্র ভরসা। ভাঙ্গা ঘরেই কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে। আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসরত মোস্তফা-হেলেনা দম্পতির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকার ঘর দিলেও কাম কাইজের কোন ব্যবস্থা করে দেয় নাই, কি খামু, কি নিয়া বাইচ্চা থাকমু হের কোন খবর নাই,সরকার পরিবর্তন অইলেও আমাগো কোন ভাগ্যের পরিবর্তন হইল না।

প্রকল্পের স্থানে কোন কাজ না থাকায় উপজেলা সদরে কাজের জন্য ছুটতে হয়। প্রকল্প এলাকায় মাছ চাষের জন্য ১টি পুকুর, গবাদী পশু,হাঁস,মুরগি পালন ও শাক-সবজি উৎপাদনের জন্য সামান্য খণ্ড জমি থাকলেও তা কোন কাজে আসছে না। পুকুর থাকলেও মাছ নেই,খন্ড জমি থাকলেও ফসলাদি উৎপাদন করা হয় না। বিগত ২০ বছরের মধ্যে প্রকল্পে বসবাসরত বাসিন্দাদের কেউ খোঁজ খবর নেয়নি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইকবাল মাহমুদ লিটন বলেন, প্রত্যেকটি আশ্রয়ন প্রকল্পের অবস্থা করুন,বিষয়টি পরবর্তী মাসিক সমন্বয় সভায় বলা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পের ঘরগুলো সংস্কারের জন্য লিখিতভাবে অবহিত করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।