• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৮ি জিলহজ ১৪৪১, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

দশমিনায় ১০ কোটির সড়ক তেঁতুলিয়ায়, বিলীন হচ্ছে বাঁধ

সংবাদ :
  • স্বপন ব্যানার্জী, পটুয়াখালী

| ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২০

image

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকার জলবায়ু তহবিলের অর্থায়নে নির্মিত দেড় কিলোমিটার বিটুমিন কাপেটিং সড়কটি সড়ক নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। কোস্টাল ক্লাইমেট রেজিরিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (সিসিআরআইপি) প্রকল্পের আওতায় তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের বন্যানিয়ন্ত্রন বেড়িবাঁধের ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কটি নির্মাণ করা হয়। এদিকে সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় বিলীন হচ্ছে বেড়িবাঁধটিও। সড়কটি নির্মাণের দুই বছরের মধ্যে নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সড়ক নির্মাণ অপরিকল্পিত ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশ অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত এই সড়কের সাথে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরলে সদর ইউনিয়নের অন্তত পাঁচটি গ্রামে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হবে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলের চাষাবাদে ক্ষতি মুখে পরবে কৃষক।

এলজিইডি, দশমিনা উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, কোস্টাল ক্লাইমেট রেজিরিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (সিসিআরআইপি) প্রকল্পের আওতায় এই সড়কটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রোথ সেন্টার (জিসি) থেকে দশমিনা সদর ইউনিয়নের হাজিরহাট জিনি পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার বিটুমিন কাপেটিং সড়কটি নির্মাণ করে এলজিইডি। জলবায়ু তহবিলের এই সড়কের নির্মাণ ব্যয় হয় ১০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের মার্চে সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

এদিকে সড়কটি নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার দুই বছরের মধ্যে সড়কের হাজিরহাট এলাকার দেড় কিলোমিটার বিটুমিন কাপেটিং সড়ক নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

শনিবার সরেজমিন গিয়ে হাজির হাট এলাকায় দেখা যায়, সড়কটি তেঁতুলিয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সড়কটির কোথাও সম্পূর্ণ ভেসে গেছে, আবার বেশ কয়েকটি স্থান ভেঙে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নদীর পাড়ে বাঁশ ও গাছের গুড়ি বসিয়ে লোহার মোটা গুনা দিয়ে টানা দিয়ে বেঁধে বাঁধ ও সড়ক রক্ষার চেষ্টা করা হলেও নদীর প্রবল ¯্রােতে তা ভেঙে বিলীন হচ্ছে। স্থানীয়রা এই ঝুকিপূর্ণ সড়ক দিয়েই চলাচল করছেন।

হাজীর হাট এলাকার কৃষক সোবাহান সিপাই জানায়, এই বাঁধ তাদের ফসল ও জোয়ারের জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করে আসছে। কিন্তু বাঁধের উপর সড়ক নির্মাণ করা হলে সড়ক পথেও যোগাযোগ সহজ হয়। তবে তেঁতুলিয়া নদীর গ্রাসে বাঁধ ভাঙছে, বিলীন হচ্ছে সড়কটি। বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরলে জোয়ারের প্লাবনে ফসলী ক্ষেত ডুবে আবাদের ক্ষতি হবে। স্থানীয় মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করলেও ,বর্তমানে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে সড়কটি নির্মাণে অপরিকল্পিত ও অনিয়রে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা জলবায়ু ফোরামের সভাপতি পিএম রায়হান বাদল জানান, অপরিকল্পিতভাবে সড়কটি নির্মাণ করার ফলে দুই বছরের মাথায় এসে সড়কটির অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধটি যখন নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে, তখন এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের উপর সড়ক নির্মাণ করা উচিৎ হয়নি। সড়কটি নির্মাণের সময়ই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছিল। দশমিনা ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, এনিতেই তেঁতুলিয়া নদীর প্রবল ¯্রােত। তার উপর বেড়িবাঁধটি পুরোনা এবং নদী ভাঙনে বাঁধটি নদীর কাছাকাছি চলে এসেছে। এই অবস্থায় নদীতে প্রতিরক্ষা বাঁধ না দিয়েই বাঁধের উপর সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। অপরিকল্পিত ভাবে বাঁধ নির্মাণ করায় এই অবস্থায় পড়েছে সড়কটি। ফলে ১০ কোটি টাকার সড়ক নদী গর্ভেবিলীন হচ্ছে। বিলীন হচ্ছে বেড়িবাঁধটিও।

তিনি আরো জানান, বাঁধ ভেঙে গেলে সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পরবে। এছাড়াও ফসলের ক্ষতির মুুখে পরবে ইউনিয়নের কাউনিয়া, হাজিকান্দা, কাজীকান্দা, পূর্ব দশমিনা , পূঁজাখোনা এই পাঁচটি গ্রারে কৃষক। নদীর পাড়ের এই গ্রামগুলোতে ফসল আবাদেও বাঁধাগ্রস্ত হবে।

এলজিইডি, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন বলেন, তিনি নতুন এসেছেন। বিষয়টি তিনি জানেনা। তবে তৎকালীন দশমিনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মুঠোফোনে জানান, বলেন, ২০১২ সালে এলজিইডি সিসিআরআইপি প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এবং সমীক্ষা চালানো হয়। ২০১৮ সালে সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হয়। সমীক্ষা চালানোর সময় বেড়িবাঁধটি নদী থেকে অনেক ভিতরে ছিল। পরে নদী ভাঙনে বাঁধটি নদীর কাছাকাছি চলে আসে।

পানি উন্নয় বোর্ড, পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ২০১০ সালে বেড়িবাঁধটি নির্মিত হয়। পরে বাঁধটি উপর এলজিইডি সড়ক নির্মাণসহ রক্ষাবেক্ষন করছে। তারপরও যেহেতু বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে, এ কারনে বিকল্প বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।