• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৩ মে ২০২০, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ রমজান ১৪৪১

দখলের প্রতিযোগিতায় খরস্রোতা মাথাভাঙ্গা এখন মরা খাল

সংবাদ :
  • আব্দুস সালাম, চুয়াডাঙ্গা

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০

image

চুয়াডাঙ্গা : মাথাভাঙ্গা নদীর দুই পাড়ে ফসলের আবাদ -সংবাদ

চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্র্রোতা মাথাভাঙ্গা নদী নাব্যতা হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। জেলার দামুড়হুদা উপজেলার নদীর দুইপাশের ঢাল কর্ষণ ও কোমড় দিয়ে মাছ শিকারের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শুস্ক মৌসুমে নদীটিতে পানি থাকে না বললেই চলে। ফলে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ৫০ কিলোমিটার এই নদীর দুই পাশের ঢাল জুড়ে চলছে চাষাবাদ।

দামুড়হুদার কোষাঘাটা,বিষ্ণুপুর, কেশবপুর,দামুড়হুদা,রঘুনাথপুর, দর্শনার জয়নগর হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে এক সময়ের খরস্র্রোতা এই মাথাভাঙ্গা নদী। বর্ষা মৌসুমে পানিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ থাকে বাকি নয় মাস নদী শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়ে থাকে। বর্ষা শেষে পানি শুকানো শুরু হলে স্থানীয়রা নদীর দুই পাশের ঢাল জবর দখল করে চাষাবাদের প্রতিযোগিতা শুরু করে স্থানীয়রা। এ সময় সরু নালা হয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে থাকে। কোথাও কোথাও হাটু পানি কোথাও কোমর পানি থাকে। ঢাল কর্ষন করে ধান, গম, ভুট্টা,তামাক,পিয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করে থাকে। এছাড়াও মৌসুম হিসাবে লাল শাক, কপি, পালনশাক, টমেটো, মুলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষাবাদ করে থাকে। কর্ষণ করায় ধোঁয়াট এসে ও কোমড়, বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করে স্রোত আটকানোর কারণে পলিজমে নাব্যতা হারিয়ে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নদীর স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে অবৈধভাবে মাছ শিকারের জন্য কোমর, বাধ উচ্ছেদ করলেও নদীপথ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ ও নদী রক্ষা করতে নদীটি পুনর্খনন প্রয়োজন। পুনর্খনন করে দুই পাড়ের জমি কর্ষণ বন্ধ করলে আবার নাব্যতা ফিরে পাবে। সেই সঙ্গে পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা পাবে। পানির বহুমুখী ব্যবহারসহ দেশীয় মাছের জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম মুনিম লিংকন জানান, সি এস রেকর্ড ধরে নদীর ঢাল দখল মুক্ত করে কর্ষন বন্ধ করে প্রয়োজনীয় স্থানে দ্রুত খনন করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।

দামুড়হুদা উপজেলা মৎস্য অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আযুব আলী জানান, জমি কর্ষণের কারনে ধোঁয়াট এসে পলি জমায় ৮০ ভাগ ভরাট হওয়ার কারণ। এছাড়াও কোমড় ও বাঁধের কারণে স্র্রোত আটকানোর কারণে নদী ভরাট হয়ে থাকে। নদীতে পানি না থাকায় আবাসস্থলের অভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। ঢাল কর্ষণ, কোমড় ও বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ করে পুনর্খনন করলে আবার নাব্যতা ফিরে পাবে। তেমনিভাবে মাথাভাঙ্গা নদীতে বৃদ্ধি পাবে দেশীয় প্রজাতির মাছ।