• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ১৬ জিলহজ ১৪৪১, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

দখলদারদের বাধায় ২টি খালের খনন কাজ বন্ধ!

সংবাদ :
  • কাজী মনিরুজজ্জামান, শরীয়তপুর

| ঢাকা , সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২০

image

শরীয়তপুর : ভেদরগঞ্জে খালের পাড়ে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নেয়ায় বন্ধ খনন কাজ -সংবাদ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়ন ও চরকুমারিয়া ইউনিয়নে দুটি খালের খনন কাজ বন্ধ রয়েছে। খাল দুটিতে থাকা অবৈধ স্থাপনার মালিকদের ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধার কারণে ঠিকাদার খাল দুটির খনন কাজ শেষ করতে পারছেন না। আর খালে পানির প্রবাহ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন গ্রামবাসী।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের সখিপুর বাজার থেকে কাশিমপুর পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার খাল খননের জন্য ২০১৮ সালের মার্চ মাসে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। ৬ কিলোমিটার খালের জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ওই উপজেলার চরকুমারিয়া ইউনিয়নের শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক হতে ডিএমখালী বাজার পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার খাল খননের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয় একই সময়। ওই খালটি খননের জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩৬ লাখ টাকা। পাউবো ঠিকাদার নিযুক্ত করে শহীদ অ্যান্ড ব্রাদার্স ও ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের যৌথ মালিকানার দুটি প্রতিষ্ঠানকে। দুটি খালের খনন কাজ শেষ করা কথা ছিল ওই বছর ৩০ জুনের মধ্যে। কিন্তু সখিপুর-কাশিমপুর খালের চার কিলোমিটার খনন কাজ করা হলেও দুই কিলোমিটার খনন করতে বাধার মুখে পড়েছে পাউবো ও ঠিকাদারি। সখিপুর বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে খালটি পদ্মার শাখা নদীতে গিয়ে মিশেছে। ওই বাজারের ব্যবসায়ীরা খালের জায়গা দখল করে ও খালের তীর ঘেঁষে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। বাজারের ব্যবসায়ীদের বাঁধার মুখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারছে না। কাজ শেষ করার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ঠিকাদার আবেদন করে এক দফা সময় বাড়িয়েছে। আগামী এপ্রিলের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করার নির্দেশ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সখিপুর বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন খালের জমি দখল করে ৪০টির মতো স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। খালে পানির প্রবাহ না থাকায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। যারা খালের জমি দখল করেছেন তারা অনেক প্রভাবশালী কেউ তাদের কাজে বাঁধা দিতেও সাহস পাচ্ছে না। খালের মধ্যে স্থাপনা থাকা প্রতিষ্ঠানের মালিক নুরুদ্দিন ফকির ও মাহমুদুর রহমান জানান, খালের জমি নিয়ে মামলা চলছে। খালের নকশা পরিবর্তন হওয়ায় কিছুটা জটিলতা রয়েছে। মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না আমাদের স্থাপনা খালের ওপর রয়েছে। সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মানিক সরদার বলেন, খালটি খনন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে নৌ চলাচল ও সেচের কাজে পানি ব্যবহার করা যাবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কিছু জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এ কারণে খালের বাজারের অংশর খনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি সরকারের এ প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে নেয়ার জন্য।

চরকুমারিয়া এলাকার শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক থেকে ডিএমখালি বাজার পর্যন্ত খালের দৈর্ঘ্য আড়াই কিলোমিটার। ওই খালটি ভরাট হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি থাকে না। এ কারণে পাউবো খালটি খননের উদ্যোগ নেয়। ২০১৮ সালের মার্চে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু দুই বছরেও স্থানীয় বাধার কারণে খালটির খনন কাজ শুরু করতে পারেনি ঠিকাদার। খনন কাজ করার জন্য এরই মধ্যে দু’দফা সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ওই খালের দুই তীরে গ্রাম,তীরের পাশে রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করে। খালটি খনন করা হলে ওই রাস্তা ও খালের কাছাকাছি মানুষর বসত বাড়ি ভেঙ্গে যেতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে খাল খননে বাধা দিচ্ছে গ্রামবাসী। ওই এলাকার ইউপি সদস্য শাজাহান ঢালীর নেতৃত্বে গ্রামের মানুষ খাল খননে বাধা দিচ্ছেন।

শাজাহান ঢালী বলেন, আশপাশের আরো কয়েকটি খাল ভেকু মেশিন দিয়ে খনন করা হয়েছে। তখন দেখেছি খালের পাশে মানুষের বাড়ি,গাছ-পালা ও রাস্তা ভেঙ্গে পড়েছে। এ কারণে ভেকু মেশিন দিয়ে এখানে খাল খনন করতে দেয়া হবে না। চরকুমারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মোল্যা বলেন, ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খনন করার প্রকল্প দিয়েছেন পাউবো। কিন্তু ভেকু মেশিন দিয়ে খনন করলে খালের আশপাশের জমি-বাড়িঘর ও রাস্তা ভেঙ্গে পরবে। এ কারণে স্থানীয় জনগণ বাধা দিচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ক মতিউর রহমান মামুন বলেন, প্রকল্প এলাকায় আমার যন্ত্রপাতি ও শ্রমিক বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। তাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাউবোতে ধরণা দিয়ে কোন সহায়তা পাচ্ছি না। ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আল নাসীফ বলেন, খাল খনন নিয়ে কিছু সমস্যার কথা জানিয়ে ঠিকাদার আবেদন করেছিল। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন সহায়তা করছে। তারপরও কোন জটিলতা থাকলে আমরা কাজ করব। আর খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার কাজও শুরু করা হবে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবিব বলেন, কয়েকটি খাল খনন নিয়ে জটিলতা রয়েছে। আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি শীঘ্রই এ জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পরব।