• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০, ১৪ সফর ১৪৪২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৭

তাঁত পণ্য বিক্রি করতে না পেরে দিশেহারা তাঁতিরা

সংবাদ :
  • আব্দুল কুদ্দুস, সিরাজগঞ্জ

| ঢাকা , সোমবার, ১৮ মে ২০২০

image

সিরাজগঞ্জ : এনায়েতপুর হাটে বিক্রির জন্য কাপড়ের পসরা সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় তাঁতিরা -সংবাদ

করোনা ভাইরাস নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে সিরাজগঞ্জে তাঁত শিল্পের ওপর ব্যাপক প্রভাব পরেছে বলে তাঁত মালিক সূত্রে জানা গেছে। জেলা জুড়ে প্রায় দেড় লক্ষাধিক তাঁত কারখানা রয়েছে আ এই শিল্পে কর্মরত রয়েছে প্রায় ৩ লাখ নারী-পুরুষ শ্রমিক। করোনার কারণে এ বছর উৎপাদিত অবিক্রিত কাপড় নিয়ে বিপাক পরেছে জেলার তাঁত মালিকগণ । তারা জানান, প্রতিবছর বাংলা নববর্ষ, দুই ঈদকে সামনে রেখে শুরু হয় তাঁত পণ্য বিক্রির মৌসুম। সারাবছরের উৎপাদিত তাঁত পণ্য এই সময়েই বিক্রি হয়ে থাকে। আর এই অর্থ দিয়ে সারাবছর চলে। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে উপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পেরে মালিকগণ আর্থিক সঙ্কটে পরেছেন। এ বছর তাঁত পণ্য বিক্রি করতে না পেরে জেলায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তাঁত মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে । তারা জানান, এ অবস্থায় সরকারি সুবিধা না পেলে এই শিল্প পুজি সঙ্কটে পরবে। ফলে অধিকাংশ মালিকের পথে বসার উপক্রম হবে এবং বেকার হবে কয়েক লাখ শ্রমিক।

এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে এই শিল্পে সরকারি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তাঁত মালিকগণ। জেলার বেলকুচি উপজেলার তাঁত মালিক সন্তোষ কুমার, আবু সামা ইত্তেফাককে জানান তাঁরা সারা বছর ধরে তাঁত পণ্য উৎপাদন করে নববর্ষ, ঈদে বিক্রি করে সারাবছর চলে । কিন্তু এবছর বিক্রি করতে না পেরে তারা বিপাকে পরেছেন । তারা জানান ঘরে মাল রেখে সারাবছর ধার- দেনা করে সাংসারিক খরচ চলাতে হবে। আবার নতুন করে কারখানা চালাতে পুজির প্রয়োজন। তাই অতি সত্ত্বর তারা সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছে। তারা জানান, এখন পর্যন্ত কোন সহযোগিতাই পাননি। এ ব্যপারে জেলা তাঁত মালিক সমিতির নেতা বৈদ্যনাথ রায় জানান আমরা গত ১২ মে আমাদের সভাপতি হাজি এম এ বাকি, হাজি বদিউজ্জামান, হাজি আব্দুল বাতেন জেলার তাঁত শিল্পের সমস্যা নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাত করি এবং আমাদের সমস্যা তাঁক অবহিত করেছি এবং সাহায্যের আবেদন দিয়েছি । তিনি আমাদের জানিয়েছেন ইতোমধ্যেই জেলার তাঁত শিল্পে সহযোগিতার জন্য আবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য যে এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে জেলাজুড়ে প্রায় দেড় লাখ তাঁত কারখানা বন্ধ থাকায় জেলার তাঁত মালিকগণ পরেছে লোকসানের মুখে। আর বেকার হয়ে পরেছে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৩ লাখ নারী-পুরুষ শ্রমিক । জানা গেছে, এ বছর নববর্ষ উপলক্ষে এই জেলায় প্রায় ১শ’ কোটি টাকার তাঁত পণ্য উৎপাদিত হয়েছিল । কিন্ত এবছর কাপড় বিক্রি না হওয়ায় পুরোটাই লোকশান গুণতে হচ্ছে তাঁত মালিকদের। তাঁত পণ্য বিক্রি না হওয়ায় মালিকরা দিশেহারা হয়ে পরেছে। তারা জানান বিক্রি না হলেও ব্যাংকের টাকা, মহাজনী ধারদেনার টাকা সুদসহ পরিশোধ করতে হচ্ছে । ফলে তারা মহা ফাঁপরে পরেছেন । তাঁত মালিকগণ এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ।