• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৪০

টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়ক নির্মাণে ধীরগতি : যানজট

সংবাদ :
  • বিমান বিহারী দাস, টাঙ্গাইল

| ঢাকা , বুধবার, ২২ মে ২০১৯

image

টাঙ্গাইল : কালিহাতীর এলেঙ্গা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে সৃষ্ট যানজট -সংবাদ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এলেঙ্গা থেকে জামালপুর জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ ধীরগতিতে চলার কারণে রোদে ধুলো আর বৃষ্টিতে কাদা হওয়ায় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘœ ঘটছে। এতে প্রতিদিনই নাকাল হতে হচ্ছে ঘাটাইল, মধুপুর, ধনবাড়ী উপজেলাসহ ময়মনসিংহ ও জামালপুর জেলাগামীদের। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেই।

টাঙ্গাইল-জামালপুর মহাসড়কের কালিহাতীর এলেঙ্গা থেকে জামালপুর সদর হয়ে সরিষাবাড়ী পর্যন্ত সড়কসহ ঘাটাইল উপজেলা সদরের পৌর এলাকার হাসপাতাল মোড় দিয়ে বীর ঘাটাইল পর্যন্ত অংশের এক কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ চলছে ঢালাইয়ের মাধ্যমে। এ কাজের ধীরগতির কারণে প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটের কারণে এক কিলোমিটার রাস্তা পার হতে যানবাহনের সময় লাগছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। ফলে দীর্ঘ যানজটের ঘানি টানতে হচ্ছে চালক ও যাত্রীদের। ভোগান্তি হচ্ছে জনসাধারণের। এর পাশাপাশি রোদ ও ধুলার কারণে চরম দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে যাত্রী, পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাসহ সড়কের আশপাশের ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে সামান্য বৃষ্টিতে কাদার সৃষ্টি হয়ে সব যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে সড়কটি। সড়কের একপাশ যান চলাচলের উপযোগী না করেই অপরিকল্পিতভাবে অন্য অংশের কাজ শুরু করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

ওই মহাসড়কের পাশেই উপজেলা প্রশাসন, ঘাটাইল সেনানিবাস, পৌর প্রশাসন, একটি সরকারি কলেজ, দুটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি বালিকা বিদ্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ১৫টি কিন্ডারগার্টেন, ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। এছাড়া ২০টি সড়কের যানবাহন ঘাটাইল হয়ে চলাচল করে। এ কারণে প্রতিদিন ঘাটাইলে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। তাই শিক্ষক, শিক্ষার্থী রোগী, প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি ও এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত ব্যক্তিদের এই ভোগান্তি প্রতিদিনের। এই ভোগান্তি শুধু পৌর এলাকার নয়, উপজেলার হামিদপুর থেকে দেউলাবাড়ী পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার মহাসড়কের আশপাশের ব্যবসায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, যানবাহনের যাত্রী, পথচারী, হাটবাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ জনগণের।

ঘাটাইল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল মোমেন বলেন, মহাসড়ক ঘেঁষে আমাদের বিদ্যালয়টি ধুলাবালি, কাদা ও যানজট মাড়িয়েই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। কাজটি দ্রুত করার দাবি জানান তিনি। মহাসড়কের পাশের কয়েক ব্যবসায়ী বলেনÑ যানজট, ধুলাবালি ও কাদার কারণে এখন ব্যবসা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টারের পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, তিন মাসে দুইশ’ গজ কাজও শেষ হয়নি। এ কাজ কবে শেষ হবে আর কবে এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাব, তা আল্লাহই জানেন।

গত এপ্রিলে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সড়কের উন্নয়ন কাজের ধীরগতি এবং ধুলা, কাদা ও যানজট নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে বক্তারা দ্রুতগতিতে কাজের সমাপ্তি ও জনসাধারণের ভোগান্তি দূরীকরণে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জনভোগান্তি দূরীকরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

ঘাাটাইল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, সড়কের কাজে ধীরগতির কারণে ব্যবসায়ীরা চরম বেকায়দায় রয়েছেন। ধুলা ও কাদার কারণে তারা ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারছেন না। সড়কের একপাশ চলাচলের উপযোগী না করে কাজ শুরু করায় এই ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া কাজটি দ্রুত শেষ করে জনগণের ভোগান্তি দূর করতেও কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিমুল এহসান কাজের ধীরগতির কথা স্বীকার করে বলেন, কাজের গতি বাড়াতে মহাসড়কের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের স্থানীয় পর্যায়ের কোন কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল একনেকের ২১তম সভায় অনুমোদিত হয় টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা-জামালপুর জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮৯ দশমিক ৮২ কোটি টাকা। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ ২০২০ সালনাগাদ প্রায় ৭৭ দশমিক ৬০ কিলোমিটার মহাসড়কটি চার লেনে পরিণত করবে।