• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪১

ঝুপড়ি ঘরে সয়লাব সাগরকন্যা কুয়াকাটা : কমছে পর্যটক!

সংবাদ :
  • কাজী সাঈদ, কুযাকাটা (পটুয়াখালী)

| ঢাকা , রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯

image

কুযাকাটা (পটুয়াখালী) : কুয়াকাটা সৈকতে রাতারাতি গড়ে ওঠা ঝুপড়ি ঘর -সংবাদ

পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটা সৈকত এখন বস্তিবাসীর দখলে। সাদা বালুর চরে অসংখ্য নতুন ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ময়লা আর্বজনায় নাকাল গোটা সৈকত। বিশ্বের কোন দর্শনীয় সৈকতের পারে এমন দৃশ্য নেই এমনটাই জানিয়েছেন কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকরা।

সরেজমিনে জানা গেছে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ রক্ষায় ৪৮নং পোল্ডারে বেড়িবাঁধ সংস্কারে করার জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে চীনা কোম্পানি কাজ করছে। ফলে বেড়িবাঁধে বসবাসকারীদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে স্থাপনরা অপসারণ করতে বলা হয়। যার ফলে রাস্তার ওপরে থাকা ছোট ছোট ঘরগুলো বালুর চরে গিয়ে আবার ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেছে। এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র কাউন্সিলররা নিষেধ করা স্বত্ত্বেও প্রায় ২ শতাধিক পরিবার সৈকতে ঘর নির্মাণ করেছে। পর্যটন মৌসুমের শুরুতে এমন নোংরা পরিবেশ দেখে পর্যটকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দ্রুত এ ঝুপড়ি ঘর অপসারণ না করলে কুয়াকাটা থেকে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে এমন আশঙ্কা করেছেন ট্যুরিজম ব্যবসায়ীরা।

কুয়াকাটা চৌরাস্তা থেকে পশ্চিম দিকে বেড়িবাঁধের ওপরে থাকা প্রায় দুই শতাধিক ছোট ছোট ঘর ভেঙ্গে নিয়ে রাতের আধারে সৈকতে নির্মাণ করেছে। চীনা কোম্পানি ওই বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য গতবছর কাজ শুরু করে। ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েও অনেক জেলে পরিবার সাগরে মাছ ধরার অজুহাতে বাধা নিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে বসবাস করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ভূমি প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় ওই ঘরগুলো নির্মাণ করছে স্থানীয় জেলেরা।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক নাদিয়া সুলতানা জানান, নোংরা পরিবেশ আর সাগর পাড়ে বস্তির মতো ঘরবাড়ি, ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা জেলেদের নৌকা, জাল থেকে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এসব দেখতে দেশি বিদেশি পর্যটক আসবে না।

কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট এ্যাসোসিয়েশন (কুটুম)’র সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লব অভিযোগ করে বলেন, সৈকতের এমন অব্যবস্থাপনা ঝুপড়ি ঘরবাড়ি নোংরা পরিবেশ এসব সী-বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির অদক্ষতার কারণে আমাদের দেখতে হয়। বিশ্বর কোন সৈকতে এই পরিবেশ নেই। পর্যটকদের সুবিধার জন্য সুন্দর পরিবেশ করার জন্য এসব দ্রুত অপসারণ করা দরকার।

এ ব্যাপারে কুয়াকাটা বীচ-ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান বলেন, সৈকতের ঝুপরি ঘরগুলো খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অপসারণ করা হবে। আর সৈকত সৌন্দর্য বর্ধণের জন্য আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করব।