• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জৈষ্ঠ্য ১৪২৫, ১৮ রমজান ১৪৪০

জোড়াতালিতে চলছে চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর সংযোগ সেতু

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

image

চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সংযোগ সড়কে মাথাভাঙা নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ সেতু -সংবাদ

চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত মাথাভাঙ্গা নদীর ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। এতে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর জেলার মধ্যে যোগাযোগ বিছিন্ন হতে পারে। ইতিমধ্যে ৩ বছরের ব্যবধানে ব্রীজের মাঝখানে দুটি স্থান ধ্বসে গেছে। কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রীজটি সচল রাখা হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত নতুন ব্রীজ নির্মাণ করে হাজারও মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার দাবি জানিয়েছেন । তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, নতুন ব্রীজ নির্মাণের দরপত্র গ্রহন করা হয়েছে কার্যাদেশ শেষে শীঘ্রই ব্রীজ নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রানকেন্দ্র বড়বাজারে পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মাথাভাঙ্গা নদী। ১৯৬২ সালে মাথাভাঙ্গা নদীর উপর নির্মিত হয় ব্রীজটি। যা চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর জেলার একমাত্র সংযোগ সেতু। মাথাভাঙ্গা ব্রীজ নামে পরিচিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৪০ মিটার। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকবাহিনী বোমা ফেলে ব্রীজের পূর্ব দিকের কিছু অংশ উড়িয়ে দেয়। সেই সময় উক্ত ভাঙ্গা অংশ পূন:নির্মাণ করে চলাচলের উপযোগী করা হয়। তারপর থেকে সেতুটি ব্যবহার হয়ে আসছিল। ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর ব্রিজের মাঝের অংশ ধ্বসে যায়। ধ্বসে যাওয়া অংশে ইস্পাতের পাটাতন দিয়ে মেরামত করা হয়। এ অবস্থায় চলাচলের এক পর্যায়ে ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি আবারও ব্রীজের একটি অংশ ধ্বসে পড়ে। এই ঝুকির মধ্যে দিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। বড় বড় যানবাহন ব্রীজের উপর উঠলে দুলতে থাকে ব্রীজটি। এতে সাধারন মানুষ ভীতির মধ্যে রয়েছে। ঘটতে পারে যে কোন সময় বড় ধরনের দূঘটনা।

এলাকার বাসিন্দা, পথচারী, গাড়ীর ড্রাইভারসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, ব্রীজের পিলারের অনেকস্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। পলেস্তারা ধ্বসে নদীতে গোসল করতে আসা মানুষের গায়ে পড়ছে। ব্রীজের উপর ছোট বড় গাড়ি উঠলে ব্রীজটি কাপতে থাকে। ভয় বুকে নিয়ে আমাদের ব্রীজটি পার হতে হয়। তাছাড়া এর উপর দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর জেলার একমাত্র সংযোগ সেতু। সেতুটি ভেঙ্গে গেলে দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

চুয়াডাঙ্গা সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রর্কৌশলী জিয়াউল হায়দার বলেন, চুয়াডাঙ্গার প্রধান নদী মাথাভাঙ্গার উপর অবস্থিত এই ব্রীজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পুরাতন ব্রীজের পাশেই নতুন ব্রীজ নির্মাণ করা হবে। নতুন ব্রীজ নির্মাণের জন্য দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। প্রাকলিত ব্রীজ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। চলতি অর্থ বছরেই এর কাজ উদ্ধোধন করা হবে। নির্মাণ কাজ হলে শুরু শেষ হতে সময় লাগবে ২ বছর।