• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ মহররম ১৪৪২, ১১ আশ্বিন ১৪২৭

জনবলসহ নানা সংকটে বন্ধ ৫ রেলস্টেশন : দুর্ভোগে যাত্রীরা

সংবাদ :
  • মাহফুজুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা

| ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২০

image

চুয়াডাঙ্গা : বন্ধ পড়ে থাকা মোমিনপুর রেল স্টেশন-সংবাদ

জনবল সঙ্কটসহ নানা সমস্যার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে চুয়াডাঙ্গা জেলার ৫টি রেলস্টেশনের কার্যক্রম। স্টেশনগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অত্র এলাকার কয়েক হাজার মানুষ রেলের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পণ্য পরিবহনে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা। স্টেশনগুলো বেশিরভাগ সময় জনশূন্য থাকায় বেড়েছে মাদক সেবীদের আনাগোনা। আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় রেলের মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে ভবনের অবকাঠামো। তবে লোকবল নিয়োগ দিয়ে দ্রুতই স্টেশনগুলো চালু করা হবে এমনটাই জানালেন রেলকর্তৃপক্ষ।

১৮৬২ সালে কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার্থে দেশের প্রথম রেললাইন স্থাপন করা হয় দর্শনা-চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা হয়ে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গায় ৪৩ কিলোমিটার রেলপথে ৯টি রেলস্টেশন রয়েছে। স্টেশনগুলো হলো আনসারবাড়ীয়া, উথলী, দর্শনা হল্ট, দর্শনা, জয়রামপুর, চুয়াডাঙ্গা, মোমিনপুর, মুন্সীগঞ্জ ও আলমডাঙ্গা। খুলনা-ঢাকা, খুলনা-রাজশাহী, খুলনা-সৈয়দপুর ও খুলনা-গোয়ালন্দ এই ৪ রুটে ১৪টি আন্তঃনগর, ৬টি লোকাল, ঢাকা-কলকাতা মধ্যে ২টি মৈত্রী ট্রেনসহ বেশ কয়েকটি মালমাহী ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলার কয়েক হাজার মানুষ এই রেলপথ দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু জনবল সঙ্কটের কারণে গত ১০ বছরে একে একে বন্ধ হয়ে গেছে আনসারবাড়ীয়া, জয়রামপুর, মোমিনপুর, মুন্সীগঞ্জ ও আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের কার্যক্রম। অনেক স্টেশনে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা নেই। কোন ট্রেন কখন আসবে তাও জানতে পারে না যাত্রীরা। গেটম্যান গেট দিলে তখন বুঝাযাই ট্রেন আসছে। এর বাইরে ট্রেনের টিকিট কাটা নিয়েও পড়েন দুর্ভোগে। এক সময় এইসব স্টেশনগুলো যাত্রীদের পদচারণায় মুখর ছিল। যাত্রী সুবিধা না থাকায় এখন আর তেমন স্টেশনমুখী হয় না এলাকার মানুষ।

২৫ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টায় মোমিনপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন যাত্রী ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছে। তাদেরই একজন পার্শ্ববর্তী মাঝহাদ গ্রামের ময়নার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তারা কোটচাঁদপুর যাবে, সেজন্য মহানন্দা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে ট্রেন কখন আসবে বা কোথায় আছে তা জানার সুযোগ নেই। গেট ফেললে বোঝা যাই যে ট্রেন আসছে। তারা বলেন এখানে যাত্রীদের বসার কোন ব্যবস্থা নেই। স্টেশন মাস্টারের রুম তালাবদ্ধ। পরে কথা হয় স্টেশনের গেটম্যান সাইদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, গেট ফেলার জন্য আমরা দুইজন পালাক্রমে ডিউটি করি। ১ জন স্টেশন মাস্টারের এখানে পোস্টিং আছে। তার নাম নজরুল ইসলাম। তবে তাকে পাওয়া যায়নি। অপরদিকে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন আলমডাঙ্গা। গত একবছর ধরে স্টেশনটি ক্লোজ ডাউন অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী এখান থেকে দেশের বিভিন্নস্থানে যান। স্টেশনটি পুরোদমে চালুর দাবিতে আলমডাঙ্গাবাসী আন্দোলন সংগ্রাম করলেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বর্তমানে আলমডাঙ্গা স্টেশনে ৩ জন বুকিং সহকারী ও ১ জন পোটার দায়িত্ব পালন করছেন। একই অবস্থা বিরাজ করছে মুন্সীগঞ্জ, জয়রামপুর ও আনসারবাড়ীয়া রেলস্টেশনে। বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টেশনগুলোতে স্টেশন মাস্টার, সহকারী স্টেশন মাস্টার ও ৪ জন পয়েন্টম্যান থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে এসব স্টেশনে একজন স্টেশন মাস্টার ও ১ জন গেটম্যান, আবার কোন স্টেশনে শুধুমাত্র একজন গেটম্যান ছাড়া কোন জনবল নেই। ফলে অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে স্টেশনগুলো। এই সুযোগে মাদকসেবীরা দিতে রাতে আখড়া বসাই স্টেশনে। চুরি হয়ে যাচ্ছে রেলের মূল্যবান মালামাল। ভবনের দরজা, জানালা উধাও হয়ে যাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা স্টেশন মাস্টার পলাশ উদ্দিন বলেন, জেলায় ৯টি রেলস্টেশন রয়েছে।

এর মধ্যে ৫টি স্টেশনের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রীদের বেশ সমস্য হচ্ছে। তারা ট্রেনের সময় টিকমতো জানতে পারছে না। তবে খুব দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টেশনে জনবল নিয়োগ দিবে। জনবল নিয়োগের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টেশনগুলো পুনরায় চালু হবে। তাহলে স্টেশনগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে এমনাই প্রত্যাশা চুয়াডাঙ্গাবাসীর।