• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৫, ১৭ শাবান ১৪৪০

ছেলেকে মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচাতে মন্ত্রীর কাছে মায়ের আকুতি

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, বাগেরহাট

| ঢাকা , রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০১৯

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কামারগাতি গ্রামের দিনমজুর কামাল হালদারের ছেলে মামুন হালদার (২০) নারায়ণগঞ্জে দারোয়ানের চাকরি করতে গিয়ে জাল টাকাসহ র‌্যাবের হাতে আটক মামলায় জেল হাজতে রয়েছে। এ ঘটনার সঠিক তদন্ত চেয়ে মামুনের মাতা মাহিরা বেগম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে ডাকযোগে আবেদন করেছেন। মাতা মাহিরা বেগম ওই আবেদনে বলেন, আমাদের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে একই গ্রামের প্রয়াত আহম্মেদ শেখ ওরফে কুটির ছেলে সহিদ শেখ ও পার্শ্ববর্তী বারোদাড়ীয়া গ্রামের মহিউদ্দিন সেখের ছেলে ইউনুছ সেখ তাদের কারখানায় দারোয়ানের চাকুরি দিবে বলে গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় নিয়ে যায়। এবং পরপর দুই মাসের বেতন বাড়িতে পাঠিয়েছে এবং মোবাইল ফোনে পিতা-মাতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে মামুন। এপ্রিল মাসের পর আর বেতনও পাঠায় না এবং মোবাইল ফোনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে না।

এ অবস্থায় আমরা সহিদ সেখের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে বলে ধৈর্য ধরেন মামুন বেতন পেলে টাকা পাঠাবে এবং যোগাযোগ ও করবে। সে অনুযায়ী অপেক্ষা করতে থাকলে হঠাৎ একদিন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লাহ থানা থেকে পুলিশ মোবাইল ফোনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা জানতে পারি জাল টাকাসহ আমাদের সন্তান মামুন গ্রেফতার হয়েছে। থানায় খোঁজ নিয়ে এবং মামলার নকল বের করে জানতে পারি বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ গত ২৪ এপ্রিল ২০১৮ তারিখ ফতুল্লাহ দঃ সস্তাপুরস্থ মনির রোডের ৬তলা বিশিষ্ট খান মঞ্জিলের একটি কক্ষ থেকে র‌্যাব সদস্যরা তাকে আটক করে।

এ ঘটনায় র‌্যাব-২ এর নায়েব সুবেদার বাদী হয়ে ফতুল্লাহ মডেল থানায় একটি মামলা করেন। থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে গত ২৯ এপ্রিল বাগেরহাটের কচুয়া এলাকা থেকে ইউনুছ সেখকে আটক করে নিয়ে যায়। বর্তমানে ইউনুছ সেখ জামিনে মুক্তিও পেয়েছে। অথচ আমার সহজ সরল ছেলেটি জেল হাজতে বন্দী জীবন যাপন করছে। এখন আমরা জানতে পেরেছি দারোয়ানের চাকরিতে নেয়া আমার ছেলে মামুনকে জাল টাকার কারখানার মালিক দেখিয়ে জাল টাকার মূল কারবারিরা আড়াল হওয়ার চেষ্টা করছে। আর মোটা-অংকের অর্থ ব্যয় করে জাল টাকার মূল কারবারিরা জামিনে বেরিয়ে আসছে। বিষয়টি যথাযথ তদন্ত দাবি করছি এবং আমার ছেলেকে তাদের কারখানার দারোয়ানের চাকরি দিয়ে যে প্রতারণা করেছে তার বিচার দাবি করছি। বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কানারগাতি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউনুছ ও সহিদসহ এই এলাকার একটি চক্র ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে জাল টাকার ব্যবসা করে আসছে। ই্উনুছকে পুলিশ এসে আটক করে নিয়ে গেছে।

দরিদ্র মামুন এ চক্রের খপ্পরে পড়েছে। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লাহ মডেল থানার ওসি মো. মঞ্জুর কাদেরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, র‌্যাব সদস্যরা মামুন ও কমলা বেগম নামে দুইজন কে জাল টাকা ও জালটাকা তৈরির সরঞ্জামসহ হাতে-নাতে গ্রেফতার করে থানায় সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেছে। মামলাটির তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।