• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৫ রবিউল সানি ১৪৪০

ছাত্রীর সম্ভ্রমের মূল্য এক লাখ, অর্ধেক মাতবরদের পকেটে!

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ (রংপুর)

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

পীরগঞ্জে এক ধর্ষিতা ছাত্রীর ইজ্জতের মূল্য ১ লাখ টাকা নির্ধারনের পর মাতবররা নিলো ৫০ হাজার টাকা। গত শনিবার রাতে ওই মাতবররা ঘটনাটির লিখিত আপোষরফা থানায় দিতে এলে পুলিশ কৌশলে ধর্ষক জহেরুল ইসলামকে (৪৪) গ্রেফতার করেছে। অপরদিকে ধর্ষিতার পরিবারকে দেয়া ৫০ হাজার টাকা মাতবররা ফেরত চেয়ে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ধর্মদাসপুরে ওই ঘটনায় বুধবার ধর্ষিতার বাবা থানায় মামলা করেছিলেন।

মামলা, শালিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষিতা উপজেলার বড়আলমপুর ইউনিয়নের ধর্মদাসপুরের ভূমিহীন দিনমজুরের মেয়ে। সে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে প্রতিবেশী জহেরুল ইসলাম (৪৮) তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় এক শিশু জহেরুলের আপত্তিকর দৃশ্য দেখে ফেলে। বিষয়টি জানাজানি হলে ধর্ষক ও তার লোকজন ওই ছাত্রীর পরিবারকে হুমকি দিয়ে ২ সপ্তাহ বাড়িতেই অবরুদ্ধ করে রাখে। একপর্যায়ে কৌশলে গত ৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে নিয়ে বাবা পীরগঞ্জ থানায় এসে মামলা করেন। পরদিন ধর্ষিতাকে রংপুর মেডিকেলে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। অপরদিকে মামলাটি মীমাংসার নামে শুক্রবার রাতে ধর্ষকের ইউক্যালিপটাস গাছের বাগানে একই গ্রামের মাতবর কাঠ ব্যবসায়ী আবু তাহের মিয়া, শিক্ষক শাহীন মিয়া ও জাকিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করে এবং ওইদিনই ধর্ষক জহেরুলের কাছে সম্পূর্র্ণ টাকা নেয়। ধর্ষিতার পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আপসনামায় স্বাক্ষর নিয়ে মাতবররাও স্বাক্ষর দিয়ে আপসনামাটি শনিবার রাতে থানায় নিয়ে আসে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাইদুল ইসলাম কৌশলে ধর্ষক জহেরুলকে গ্রেফতার করে গত রোববার কোর্ট হাজতে প্রেরণ করেছে। অপরদিকে ধর্ষিতাকে দেয়া ৫০ হাজার টাকা চেয়ে ওই মাতবররা চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানা গেছে। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ধর্ষণ ঘটনা মীমাংসা করা আমাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়।