• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মহররম ১৪৪১

চৌহালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

চিকিৎসকরা বেতন তোলেন নিয়মিত, সেবা অনিয়মিত!

সংবাদ :
  • আশ্রাফুল ইসলাম সওদাগর, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

image

চৌহলী (সিরাজগঞ্জ) : গত সোমবার কোন ডাক্তার না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কক্ষগুলোতে এভাবেই ঝুলছে তালা -সংবাদ

বেতন-ভাতা উত্তোলনে তাদের নিয়মিত হলেও তবে কর্মস্থলে নিয়মিত নন চিকিৎসকরা। সিরাজগঞ্জের অবহেলিত জনপদ চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিৎসকদের এমন দায়িত্ববোধের কারনে দুর্ভোগে রোগীরা। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে আশাহত হয়ে ফিরছে বাড়ি তারা। গত সোমবার দিনভর অফিস চলাকালীন অবস্থান কালে পাওয়া যায়নি কোন চিকিৎসক। এ কারণে চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত অসহায় রোগীদের দুশ্চিন্তা কাটছে না। মাসে কয়েকদিন এদের চোখে পড়ে এলাকাবাসীর। তাও নাকি তারা আসেন শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে।

সিরাজগঞ্জ জেলার ভুখন্ড হতে যমুনা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন জনপদ চৌহালী উপজেলার দুর্গোম চরাঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত-অসহায় মানুষকে ঝাড়-ফু ও কবিরাজের ভাওতাবাজি চিকিৎসা হতে মুক্তি দিতে ১৯৮৬ সালে সরকারিভাবে নির্মাণ করা হয় ৩১ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল। গত ২০১৪ সালে তা যমুনায় বিলীনে খাসকাউলিয়ায় স্থানান্তর করে এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে অতীতে যেভাবে চিকিৎসা সেবা পেয়েছে এখানকার মানুষ সে রকম আর নেই। রোগীদের ওয়ার্ডগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে কর্মচারীদের শোবার ঘর ও কিচেন রুম হিসেবে। বেডগুলো ঘুমানোর জন্য ব্যবহার করছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, অফিস সহায়ক, চালক ও অন্যান্য কর্মচারীরা। ইনডোর চালু না থাকায় রোগীদের এসব সেবা নিচ্ছেন এই সুবিধাবাদী কর্মচারীরা।

এদিকে হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ৬ জন এমবিবিএস ডাক্তার। এর মধ্যে নিয়মিত নন একজনও। এরা হলো আরএমও ডা. আনন্দ মোহন সরকার, ডা. আশরাফুল ইসলাম, ডা. সোনিয়া রহমান সাথী-কনসালটেন্ট (গাইনী), ডা. আনিকা ছাত্তার, ডা. সুমন ও ডা. শাহিনুল আলম। সোমবার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে ৩ ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে দেখা যায়, কোন চিকিৎসকই কর্মস্থলে নেই। এলাকাবাসী জানায়, তারা অবস্থান করেন বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে। আবার সপ্তাহে দু’একদিন আসলেও কোন রকমে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ২-৩ ঘণ্টা রোগী দেখেই চলে যায়। মূলত, তাদের তদারকিতে নিয়োজিত কর্মকর্তারা যথাযথ ভুমিকা না রাখায় এমন অবস্থা। হাসপাতালের সপ্তাহিক কার্য তালিকায় সোমবারে উল্লেখ রয়েছে, সকালে সব চিকিৎসকরা হাসপাতালে অবস্থানের কথা। এছাড়া সকাল থেকে রাতেও অবস্থান নেবেন ডা. আশরাফুল আলম। তবে তারা কেউ এদিন উপস্থিত হননি। মোবাইল ফোনে বার-বার ফোন করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে হাসপাতালে আরএমও ডা. আনন্দ মোহন সরকার জানান, ঈদের সময় আমার ছুটি থাকলেও কর্মস্থলে ছিলাম বলে এখন হাসপাতালে যাচ্ছি না।

গাইনী চিকিৎসক ডা. সোনিয়া রহমান সাথীকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসক উপস্থিতি না থাকায় ৫টি মৌলিক চাহিদার অন্যতম চরাঞ্চলের অসহায় রোগীদের চিকিৎসা পেতে চড়ম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদের বিশেষ চিকিৎসায় সুদুর টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হয়। সোমবার চিকিৎসা নিতে আসা জাজুরিয়ার খাদিজাতুল কোবরা (২৬), বৃদ্ধ আমীর হোসেন (৫২), পূর্ব খাসকাউলিয়ার আবু সাইদ (৫৫) এবং খাস পুকুরিয়ার আবুল কালাম (৫৮) জানান, আমরা সবাই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু কোন চিকিৎসক পাইনি।

এদিকে কোদালিয়া গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধ মাঙ্গন আলী মোল্লা জানান, আমার প্রেসাব সমস্যা হওয়ায় হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু ডাক্তার নেই। এখন আমাদের উপায় হবে কি। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররা একটু দেখে ওষুধ দিয়েছে।

বর্তমানে হাসপাতালটিতে ডাক্তারদের উপস্থিতি অনেকটা হ্রাস পাওয়ায় ২ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের ওপর নির্ভর হয়ে পড়েছে। তারাও পুরো উপজেলার রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে। এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. আনিসুর রহমান মামুন জানান, বর্তমানে রোগীর চাপ বেশি হলেও আমাদের হাসপাতালে সিনিয়র চিকিৎসকরা নিয়মিত সময় দিতে না পারায় আমরাও কুলিয়ে উঠতে পারছি না। তবে সাধ্যনুযায়ী আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএ ডা. আবদুল কাদের জানান, দু’একজন চিকিৎসক কিছু কারণে অনিমিত হওয়ায় আমি নিজেও অসন্তষ্ট। চিকিৎসকরা যাতে আগামীতে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে নৈতিক দায়িত্ব পালন করে সে লক্ষে আমি সচেষ্ট থাকব।