• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ৯ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, ফরিদপুর

| ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৯

আমেনা বেগম। স্বামী আমিনউদ্দিন মারা যাওয়ার পর জীবনে নেমেছে অন্ধকার। মাথা গোজার মতো নিজের একটি ঘর নেই। অসহায় এই নারী সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘরের জন্য আবেদন করেন। তিনি একটি ঘর বরাদ্দও পান। তবে এজন্য তাকে গুণতে হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এই টাকা দিতে হয়েছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইনামুল হাসানকে। ওই নারীর বাড়ি গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রামে। চেয়ারম্যানকে উৎকোচ দেয়ার জন্য এই টাকা তিনি জোগাড় করেছেন মানুষের কাছ থেকে সুদে ঋণ নিয়ে।

দুর্নীতির এমন অসংখ্য অভিযোগ আছে গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছাত্রলীগ নেতাখ্যাত ইনামুল হাসান ও তার ভাই সাবেক ছাত্রদল ও বর্তমানে যুবদল নেতা মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাইয়ের অনিয়ম ও স্বেচ্ছারিতায় দুর্নীতির আখড়া হয়েছে গোপালপুর ইউনিয়ন কার্যালয়। যেখানে টাকাই ছাড়া কোন সেবাই মিলে না সাধারণ মানুষের। সাধারণ নাগরিকত্বের সনদের জন্যও টাকা দিতে হয়। অসহায়, দুস্থদের জন্য সরকারের ভিজিডি কার্ড পেতে গেলেও চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা উৎকোচ দিতে হয়। টাকার বিনিময়ে এসব সরকারি সুবিধা নিচ্ছে অযোগ্যরা। তার ওপর ভিজিডিতে সরকারি বরাদ্দের চাল বা গম থেকেও ভাগ নেন চেয়ারম্যান। বিস্তর অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে ফরিদপুর জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগ। স্থানীয়রা বলেন, একসময় টিনের ঘর ছিল ইনামুলদের। তাও এতটা নাজুক ছিল যে, ঝং ধরে টিন ঝুরঝুরিয়ে পড়ে ফুটো বেরিয়ে থাকত। সেখানে এখন ইটের দালান উঠেছে। অথচ ইনামুল, তার ভাই মাহবুবের কোন পেশা নেই।

অবৈধভাবে ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগও আছে চেয়ারম্যান ইনামুলের বিরুদ্ধে। গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে গোপালপুর ও দিগনগর খেয়াঘাট রয়েছে। গত অর্থবছরে গোপালপুর খেয়াঘাট দেড় লাখ টাকায় এবং দিগনগর খেয়াঘাট এক লাখ টাকায় ডাকে ইজারা দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইজারার এই অর্থ সরকারি কোষাগারে পুরোটা জমা হয়নি। এখান থেকে আত্মসাৎ করেছেন চেয়ারম্যান। এছাড়া ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় গোপালপুর বাজারটির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য গত অর্থবছরে উপজেলা থেকে এক লাখ আট হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ১০ হাজার টাকার মতো। বাকি টাকা চেয়ারম্যান তসরুফ করেছেন বলে অভিযোগ আছে। যোগাযোগ করা হলে আলফাডাঙ্গার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইনামুল হাসান বলেন, ‘আমার কোনো পেশা নেই। পুরো সময় চেয়ারম্যানের কাজ করেই কূল পাই না। অন্য কাজ করবো কখন? আর এসব নিয়ে আপনাদের এত মাথা ব্যথা কেন?’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার মেঝো ভাই মাহবুব বোর্ড অফিসের কাজে সহযোগিতা করে। এতে দোষের কিছু নাই।’

এ ব্যাপারে আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল বাসার মিয়া বলেন, ‘শুনেছি ইনামুল হাসান ও তার ভাই মাহবুব গোপালপুর বোর্ড অফিসে অনেক অনিয়ম করছে। নাগরিক সনদ, বিভিন্ন কার্ড দিতেও নাকি টাকা নেয়। এগুলো বন্ধ না হলে তো সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ ফরিদপুর জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করি। গোপালপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিষয়টিও তদন্তনাধীন আছে। তদন্তে দুর্নীতি-অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’