• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১

গোপালগঞ্জে কবরস্থানের জায়গায় প্রভাবশালীর কিন্ডারগার্টেন স্কুল

জেলা বার্তা পরিবেশক, গোপালগঞ্জ

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯

image

গোপালগঞ্জ : কবরস্থানের জমিতে গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেন স্কুল -সংবাদ

গোপালগঞ্জে কবরস্থান দখল করে কিন্ডার গার্টেন স্কুল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে ।

জানা যায়,সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়নের পশ্চিম নিজড়া গ্রামের সরদারপাড়া জাঙ্গাল কবরস্থানের জায়গা দখল করে গড়ে তুলে ছেন রেণুকা কিন্ডার গার্টেন স্কুল । সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাত্র ১শ’ গজ এলাকার মধ্যে কিন্ডার গার্টেনটির অবস্থান। এখানে শিশু শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত মাত্র ২৬ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করানো হয়। এ স্কুলের আড়ালে কোচিং বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওই গ্রামের প্রভাবশালী ও পুলিশের এসআই শফিকুল ইসলাম সরদার (বদর) প্রায় ১৭ বছর আগে কবরস্থানের জায়গা দখল করে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে স্কুলের সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে।

কবরস্থান ব্যবস্থাপনা কমিটি বারবার কবরস্থানের জায়গা ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলেও দখলদার কবরস্থানের জায়গা ছাড়েনি।

কবরস্থান ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন মিনা বলেন, প্রায় ৩ বছর আগে কবরস্থান কমিটির পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবর কবরস্থানের জায়গা থেকে স্কুলটি উচ্ছেদের আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সদর সহকারী কমিশনার ভূমি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা স্কুল সরিয়ে নেয়ার কথা বললে, বারবার সময় নিয়েও তারা স্কুল সরিয়ে নেয়নি।

স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম সরদার (বদর) বলেন, কবরস্থানের জায়গা দখল মুক্ত হোক এটা আমি চাই। কিন্তু নিজড়া স্কুলের মধ্যে আমার জায়গা রয়েছে। সেখানে আমি ২০ বছর আগে স্কুল করতে চেয়েছিলাম। স্কুলের জায়গায় স্কুল করা যাবে না, এ অজুহাতে গ্রামবাসী বসে সে সময় আমাকে কবরস্থানের ডোবার মধ্যে স্কুল করার অনুমতি দেন। সেখানে আমি মাটি ফেলে ভিটা উচু করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করি। এখন কবরস্থানের জায়গা ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ এসেছে, আমি জায়গা ছেড়ে দেব। কিন্তু আমি স্কুল কোথায় নেব, গ্রামবাসীর সেটা ঠিক করে দিতে হবে। তারা যেখানে জায়গা দেবে সেখানেই আমি স্কুল নিয়ে যাব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান খান বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনসহ আরো অন্যান্য বিষয় স্কুলের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তবে কোন অবস্থাতেই কবরস্থানের জায়গায় স্কুল থাকতে পারবে না।