• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

ক্যান্সার আক্রান্ত মুক্তিযোদ্ধা আকুব্বর বাঁচতে চান

সংবাদ :
  • সুমন খান, বোয়ালমারী (ফরিদপুর)

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

image

অর্থের অভাবে ক্যানসারে আক্রান্ত মুক্তিযোদ্ধা আকুব্বর হোসেন ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন মৃত্যুর দিকে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমিজমা, সহায়সম্বল হারিয়ে ইতোমধ্যেই নিঃস্ব হয়েছেন তিনি। মাথা গুঁজার ঘর ও ভিটা ছাড়া আর কিছু নেই তার।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের কলিমাঝি গ্রামের মৃত আবদুল হকের ছেলে আকুব্বর হোসেন (৬৯)। তার লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ০১০৮০২০৪৬৯। মন্ত্রণালয়ের সনদ নম্বর ১৩৮৬৯২, স্মারক নম্বর মু, বি, ম/দা/ফরিদপুর প্রঃ ৩/০৮/২০০২/২৭৮৭। তিনি ২০১০ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা পেয়ে আসছেন। এক সময় টেম্পো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে অসুস্থ আকুব্বরের আর আয় নেই।

মুক্তিযোদ্ধা আকুব্বর হোসেন জানান, পিত্তথলিতে পাথর দেখা দিলে ২০১৬ সালের আগস্টে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যপক ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাসের অধীন পিত্তথলির অপারেশন করা হয়। এরপর পেটের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে আবারও ডাক্তারের কাছে যান। পরে তার পেটে ক্যানসার ধরা পড়ে। এ পর্যন্ত তিনি ১৬টি রেডিওথেরাপি ও ৬টি কেমোথেরাপি নিয়েছেন। এখন প্রতিদিন তার ৬০০ টাকার ওষুধ লাগে। ডাক্তার ২ সপ্তাহ পর পর আরও ৬ থেকে ৮টি কেমো নিতে বলেছেন। ১টি কেমোর মূল্য ৩৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, চিকিৎসা নিতে গিয়ে বাড়ির ভিটাটুকু ছাড়া সহায়সম্পত্তি সব বিক্রি করে ফেলেছি। এর পাশাপাশি ব্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি। পাওনাদাররা প্রতিনিয়ত টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এক মাত্র ছেলে সবেমাত্র অষ্টম শ্রেণীতে পড়ালেখা করে। সংসারে উপার্জনক্ষম কোন ব্যক্তি আমার নেই। বাঁচার আকুতি নিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই হৃদয়বান ও মমতাময়ী নেত্রী। তিনি যদি আমার চিকিৎসার ভার বহন করেন, তাহলে হয়তো আল্লাহর রহমতে আবার সুস্থ হয়ে উঠতে পারি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অধ্যাপক আবদুর রশিদ বলেন, একজন অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা রাষ্ট্রীয়ভাবে হওয়া উচিত। উপজেলা পর্যায়ে সহযোগিতা করার মতো মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কোন তহবিল নেই। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেন।