• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৫, ১৮ শাবান ১৪৪০

কিশোরগঞ্জে নানা পন্থায় ছোট্ট হচ্ছে নরসুন্দা!

সংবাদ :
  • মোস্তফা কামাল, কিশোরগঞ্জ

| ঢাকা , সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

image

কিশোরগঞ্জ : গৌরাঙ্গবাজার সেতু আর পুরানথানা সেতুর মধ্যবর্তী স্থানে চলছে নদী ভরাট -সংবাদ

একদিকে রাজধানীর বুড়িগঙ্গা আর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পাড়ে চলছে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদীতে চলছে মাটি ভরাট! স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে শতকোটি টাকা ব্যয়ে ‘কিশোরগঞ্জ জেলার নরসুন্দা নদী পুনর্বাসন ও পৌরসভা সংলগ্ন এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে সরকার একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছিল। সরকার একনেকে প্রথমে ৬৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদনের পর লেকসিটির ধারণা নিয়ে তৎকালীন এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ২০১২ সালের ২২ নভেম্বর এই কর্মযজ্ঞের উদ্বোধন করেছিলেন। পরবর্তীতে বরাদ্দ উন্নীত হয় ১১০ কোটি টাকায়।

এর আওতায় নরসুন্দা সংস্কার, খনন, উন্নয়ন আর লেকসিটি করার পরিকল্পনা থেকে জেলা শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া নরসুন্দা নদীর দুই তীরে মামলার কারণে কয়েকটি স্থাপনা ছাড়া বহু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল। নির্মাণ করা হয় বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন সেতু। কোথাও কোথাও নদীর দুই পাড়ে সীমানা নির্দেশক ওয়াকওয়ে এবং গ্রীলের বেড়াও দিয়েছে। আবার কোথাও কোথাও এসব কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। আর সেই সুযোগে নদীর বিভিন্ন জায়গায় কোথাও মাটি আর পৌরসভার বর্জ্য ফেলে, কোথাও অবৈধ স্থাপনা, আবার কোথাও বাগান বানিয়ে গাছপালা রোপণ করে চলছে দখলের পাঁয়তারা।

শহরের গৌরাঙ্গবাজার সেতু আর পুরানথানা সেতুর মধ্যবর্তী স্থানে নরসুন্দার উত্তর পাড়ে নতুন করে মাটি ফেলে এবং পৌরসভার বর্জ্য ডাম্পিং করে নদীর ভেতর ভরাট করা হচ্ছে। নদীর পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে এর ভেতর শ্রমিক লাগিয়ে মাটি ফেলে এক ব্যক্তি ভরাট কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার অন্য একটি জায়গায় নদীর ভেতর বর্জ্য ফেলে ভরাট করতে দেখা গেছে। এছাড়াও একই এলাকার কয়েকটি জায়গায় দখলের আলামত দেখা গেছে। শুধু এখানেই নয়, শহরের কাচারিবাজার এলাকা এবং গাইটাল এলাকায় নদীর জায়গা দখল করে গাছপালা লাগিয়ে বাগান বানাতেও দেখা গেছে। এছাড়া, পুরো প্রকল্পের কাজে গাফিলতি আর লুটপাটের অভিযোগ তো আছেই। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট কালিবাড়ি সেতু এলাকায় তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল মালেক, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়–য়া ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায়ের উপস্থিতিতে একটি গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে তারা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বক্তব্য শুনে তদন্তেরও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে এর ১০ দিন পর ২৭ আগস্ট এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. রইছ উদ্দিন নরসুন্দা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনও করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত এই তদন্তের কোন ফলাফল জানা যায়নি।

নরসুন্দার পাড়ে মাটি ভরাটের ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দুলাল চন্দ্র সূত্রধরকে প্রশ্ন করলে বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। কেউ যদি অবৈধভাবে মাটি ভরাট করেন, তিনি যত ক্ষমতাবানই হোন, উচ্ছেদ করা হবে।