• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪১

কিশোরগঞ্জে কোরবানির এক মাস পরও বিপুল চামড়া অবিক্রীত

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, কিশোরগঞ্জ

| ঢাকা , শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

কিশোরগঞ্জ : চামড়ার হাটে অবিক্রীত চামড়ার স্তূপ -সংবাদ

কোরবানির ঈদের এক মাস পেরিয়ে গেলেও কিশোরগঞ্জে চামড়ার হাটে পড়ে আছে অসংখ্য অবিক্রিত চামড়া। বিশাল বাজারের আকর্ষণে কেবল কিশোরগঞ্জ নয়, আশপাশের অন্য জেলা থেকেও ব্যবসায়ীরা কিশোরগঞ্জের বাজারে চামড়া নিয়ে এসেছেন। কিন্তু হতাশ। পরিবহন খরচ দিয়ে এখানে এসে যেন বোকা বনেছেন। কেউ কেউ বিক্রির জন্য পরিপাটি করে সাজিয়ে রেখেছেন সারি সারি চামড়ার স্তূপ। আবার অনেকেই বাজারের হাল দেখে লবন মাখিয়ে বাজারের এক কোণে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে ফেলে রেখেছেন তাদের বিপুল পরিমাণ চামড়া। গত বৃহস্পতিবার শহরের পৌর মার্কেট এলাকায় সাপ্তাহিক চামড়ার হাটে গিয়ে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে।

চামড়ার হাটে ব্যবসায়ীরা ঢাকার ট্যানারি মালিক এবং বড় ব্যবসায়ীদের আচরণে তারা যেমন ক্ষুব্ধ, তেমনি সরকারের যথাযথ ভূমিকার ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন। তাদের ভাষ্য, সরকার একটি দর নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেই দরেও ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনছেন না। এটাকে বেকায়দায় ফেলে পানির দরে চামড়া কেনার একটা কূটকৌশল বলে মনে করছেন তারা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের রাশিদ মিয়া ও রেনু মিয়া ৩০০ পিস চামড়া নিয়ে এসেছেন। নিজ এলাকায় চামড়া বিক্রি করতে না পেরে এই হাটে এসেছেন। কিন্তু এখানকার চিত্রও হতাশার। তাদের প্রতি পিস চামড়া গড়ে ৪০০ টাকার ওপরে কেনা পড়েছে। প্রতিটি চামড়ায় অন্তত ৬ কেজি লবণ মাখতে হয়েছে। কিন্তু এখানে কেউ দামই বলছেন না। তাদের একেকটি চামড়া ১৫ বর্গফুট থেকে ২০ বর্গফুট আয়তনের। সরকার এবার গরুর চামড়ার দর রাজধানীর বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বর্গফুট নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু ঢাকার ব্যবসায়ীরা এই দর দিয়ে চামড়া কিনতে নারাজ। ভাল মানের চামড়াও ঢাকার ব্যবসায়ীরা খারাপ আখ্যা দিয়ে কম দামে কেনার ফন্দি আঁটেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাও আবার অনেক চামড়া বাছাই করে বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কাটা পড়ছেন শাঁখের করাতে। একদিকে ভালো মানের চামড়ার দামও ঠিকমত পাচ্ছেন না, আবার অনেক চামড়া পরিত্যক্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে।

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনের ব্যবসায়ী মোহনলাল রবিদাস বৃহস্পতিবারের হাটে ৪০০ পিস চামড়া সাজিয়ে বসে আছেন। কিন্তু কেউ দাম বলতে আসেন না। তিনি এসব চামড়া গড়ে ৫০০ টাকা পিস দরে কিনেছেন। মোহনলাল জানিয়েছেন, তিনি ঈদের পর থেকেই এখানে প্রতি হাটে চামড়া নিয়ে বসছেন। কিন্তু বিক্রি করতে পারছেন না। বিপুল অঙ্কের পুঁজি খাটিয়ে এত এত চামড়া কিনে এখন কি করবেন, মাথায় সারাক্ষণ কেবল এই দুশ্চিন্তাই ঘোরপাক খাচ্ছে ব্যবসায়ীদের।