• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মহররম ১৪৪১

কিশোরগঞ্জ শহরে কসাইখানা নেই : যত্রতত্র পশু জবাই!

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, কিশোরগঞ্জ

| ঢাকা , বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

image

কিশোরগঞ্জ : শহরের বড়বাজারে রাস্তার ওপর এভাবেই জবাই করা হয় পশু -সংবাদ

কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকায় বহু বছর ধরে কোন কসাইখানা বা জবাইখানা নেই। যত্রতত্র নোংরা অরক্ষিত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই করে কসাইরা। এতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, দূষিত হচ্ছে শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া নরসুন্দার পানি। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারিদিকে। এই পৌরসভাটি একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। যুগ যুগের অদক্ষ দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে পৌরবাসী পিছিয়ে আছে। বিশেষ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ড্রেনেজ সিস্টেমের আরো অধিকতর উন্নয়ন প্রয়োজন। শহরে সবসময় এক ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করে। কিশোরগঞ্জ শহর দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে, মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে পৌর এলাকাকে কেন্দ্র করে বনেদী প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি কাঁচাবাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশ কিছু কাঁচাবাজার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে মূল শহরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচাবাজার হলো বড়বাজার, কাচারীবাজার এবং পুরানথানা বাজার। এখন সব কাঁচাবাজারই সারাদিন খোলা থাকে। তবে তিনটি বাজার তিনটি পৃথক সময়ে বেশি জমজমাট থাকে। কাচারীবাজার জমে সকালে, বড়বাজার জমে দুপুরে, আর পুরানথানা বাজার জমে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত। এসব বাজারে বহু গরু-ছাগাল জবাই করা হয়। এক সময শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে পৌরসভার জবাইখানা ছিল। সেখানে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের উপস্থিতিতে সুস্থ পশু জবাই করে মাংসের গায়ে পৌরসভার সীল মেরে সেগুলি তিনটি বাজারে বিক্রি করা হতো। জবাইখানাটি অন্তত ২০ বছর ধরেই অকেজো, বন্ধ। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সভায় বারবার জবাইখানার দাবি উত্থাপিত হলেও নতুন কোন জবাইখানা নির্মাণ হচ্ছে না। ফলে তিনটি বাজারেই অস্বাস্থ্যকর উপায়ে পশু জবাই করা হচ্ছে। আর জবাই করা পশুর রক্তসহ অন্যান্য বর্জ্য রাস্তায় ছড়াতে থাকে। পানি ঢেলে এসব বর্জ্য পাশের নরসুন্দা নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর পানি দূষিত এবং দুর্গন্ধময় হয়ে উঠছে। বাজারের পরিবেশও সবসময় নোংরা দুর্গন্ধময় থাকে।

সোমবার শহরের প্রধান বাজার বড়বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার ওপর গরু জবাই করে চামড়া ছাড়ানো হচ্ছে। আশপাশে কুকুরও ঘোরাফেরা করছে। ভনভন করছে মাছিার পাল। রাস্তা ভেসে আছে রক্তে। এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করে অসংখ্য যানবাহন, চলাফেরা করেন বাজার করতে আসা মানুষজনসহ অসংখ্য পথচারী। কাচারীবাজারের অবস্থাও একই রকম। সেখানে বাজারের পেছনে নরসুন্দা নদীর তীরেও পশু জবাই করে রক্তসহ সমস্ত বর্জ্য ঠেলে দেয়া হয় নদীতে। অথচ এসব তদারকি করার কোন লক্ষণ দেখা যায় না।

পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মদিনা বেগমকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, পৌরসভার জবাইখানাটি অনেক বছর ধরেই পরিত্যক্ত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এখানে কোন পশু জবাই করা হয় না। যে কারণে এখন আর পৌরসভার পক্ষ থেকে পশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা এবং মাংসের গায়ে সীলও মারা হচ্ছে না। তিনিও শিগগিরই একটি জবাইখানা নির্মাণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।