• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭ মহররম ১৪৪২, ০৮ আশ্বিন ১৪২৭

কিশোরগঞ্জ কারাগারে ৯ ট্রেডে প্রশিক্ষণ

কারাজীবন শেষে উদ্যোক্তা হয়ে ফিরবেন কয়েদিরা

সংবাদ :
  • মোস্তফা কামাল, কিশোরগঞ্জ

| ঢাকা , শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০

কিশোরগঞ্জ কারাগারের কয়েদিদের দিয়ে চালানো হচ্ছে চাষাবাদ এবং বৃত্তিমূলক কাজ। দেয়া হচ্ছে কৃষি, মৎস্য, সেলাই, অ্যাব্রয়ডারি ও জুতা তৈরিসহ ৯টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ। কৃষি ও মৎস্যসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রশিক্ষকরা বিভিন্ন ট্রেডে ৭ থেকে ১৫ দিন মেয়াদের কোর্সে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। উদ্দেশ্য একটাই, কারাগারটাকে সাজা কেন্দ্রের পরিবর্তে সংশোধনাগার এবং উদ্যোক্তা তৈরির সূতিকাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। জেল সুপার মো. বজলুর রশিদ জানিযেছেন, তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরীর নির্দেশনায় জেলা কারাগারে এরকমই একটি উদ্যোগ পরিচালনা করে যাচ্ছেন। আর এ উদ্যোগের সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, গত এক বছরে কারাগারের খালি জায়গায় শাকসবজির বাগান করে এখানকার রাসায়নিক কীটনাশকমুক্ত শাকসবজি কারাবন্দিদের খাওয়ানো হচ্ছে। এই এক বছর ঠিকাদারের কাছ থেকে কোন শাকসবজি কেনা হয়নি। উপরন্তু এক বছরে সরকারের তিন লক্ষাধিক টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেল সুপার।

কিশোরগঞ্জ শহরের মাঝখানে প্রায় সাত দশক আগে ২৪৫ জন কয়েদির ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কারাগার নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্ত এখন জনসংখ্যা বেড়েছে, মামলা বেড়েছে। ফলে ওই কারাগারে ধারণ ক্ষমতার প্রায় পাঁচগুণ কয়েদিকে অমানবিক অবস্থায় রাখতে হতো। ফলে চলতি বাস্তবতার আলোকে শহরতলির মোল্লাপাড়া-খিলপাড়া এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কের পাশে ২৮ একর জায়গার ওপর সম্প্রতি দুই হাজার কয়েদির ধারণ ক্ষমতার নতুন কারাগার নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে কয়েদি আছে এক হাজার ৪০০ জন। তবে স্থাপনা নির্মাণের পরও প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জায়গা খালি রয়েছে। আর ওই খালি জায়গাতেই কয়েদীদের দিয়ে কৃষি বিভাগের সহায়তায় ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, পুঁইশাক, ডাটাসহ বিভিন্ন রকমের শাকসবজির আবাদ করা হচ্ছে। লাগানো হয়েছে বিভিন্ন জাতের ফলের চারাও। শুধু তাই নয়, কারগারে সেলাই, অ্যামব্রয়ডারি ও জুতা তৈরিসহ বিভিন্ন রকম বৃত্তিমূলক কাজও শেখানো হচ্ছে। ফলে এখান থেকে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে কয়েদীরা কারাজীবন শেষ করে নিজ বাড়িতে গিয়ে একেকজন কর্মী ও উদ্যোক্তা হয়ে পরিবার ও সমাজে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করেন। আর এ ধরনের উদ্যোগের ফলে কারাজীবন শেষে কয়েদিরা অপরাধ যাতনায় না ভুগে একেকজন উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে সমাজে মাথা উঁচু করে অন্যদের দৃষ্টান্ত হয়ে বেঁচে থাকবেন বলেও মনে করা হচ্ছে।