• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

কর্মস্থলমুখী যাত্রী থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

সংবাদ :
  • সংবাদ জাতীয় ডেস্ক

| ঢাকা , বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

image

টাঙ্গাইল : শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ডে কর্মস্থলগামী মানুষের ভিড় -সংবাদ

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বাসযাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত-

টাঙ্গাইল

ঈদ শেষে টাঙ্গাইল থেকে নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। আর এই বাসভাড়া বৃদ্ধির খপ্পরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা। ঈদ যাতায়াতের এই লাগামহীন বাসভাড়া বৃদ্ধিতে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন ঢাকায় বসবাসরত জেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এতে ক্ষুব্ধ নাড়ির টান আর প্রিয়জনের সঙ্গে উৎসব পালন করা কর্মজীবী মানুষ। তারা ভাড়া বৃদ্ধির প্রবণতামুক্ত পরিবহন আইনের দাবি করেছেন।

গত সোমবার টাঙ্গাইল নতুন বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায়, ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষদের উপচেপড়া ভিড়। তারা অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছেন। এদিকে বাস মালিক নেতাদের দাবি- বাসভাড়া কিছুটা বৃদ্ধি করা হলেও যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধায় অন্যবারের তুলনায় চলাচল করছে পর্যাপ্ত বাস। এছাড়াও টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা ভাড়া কিছুটা বেশি দিলেও ঢাকা থেকে ওই বাসগুলোই টাঙ্গাইল ফিরছে সম্পূর্ণ যাত্রীশূন্য হয়ে।

বাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল বাস কোচ ও মিনিবাস মালিক সমিতির বাস সংখ্যা ৮ শতাধিক। ঢাকার কল্যাণপুর থেকে টাঙ্গাইল এবং টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা এই সড়কে চলাচলরত এসি বাসের সংখ্যা ১২টি। এছাড়াও সরাসরি নন এসি বাস সার্ভিসের মধ্যে নিরালা সুপার সার্ভিসের বাস সংখ্যা ৫৩টি, ধলেশ্বরী বাসের সংখ্যা ৫৬টি আর ঝটিকা বাসের সংখ্যা ১৪টি। এর মধ্যে সোনিয়া পরিবহন এবং সকাল সন্ধ্যা পরিবহন নামে দুটি এসি বাস সার্ভিসের গাড়ির নির্ধারিত ভাড়া ২৫০ টাকা, নিরালা সুপার সার্ভিসের ভাড়া ১৬০ টাকা, ধলেশ্বরী ১৩০ ও ঝটিকা সার্ভিসের ভাড়া ১৩০ টাকা। অথচ ঈদের পর থেকে প্রতিটি বাস সার্ভিসের ভাড়া দ্বিগুণ নেয়া হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকার পাশর্^বর্তী জেলা টাঙ্গাইল। প্রায় ৪৫ লাখ মানুষের আবাসস্থল এই জেলা। এ জেলার উল্লেখযোগ্য নারী ও পুরুষ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চাকরি অথবা ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছেন। জীবনের তাগিদে নিজ জেলা আর পরিবার পরিজন ছেড়ে অন্যত্র কর্মস্থল নির্ধারণ করলেও বছরের অন্য মাসে পরিবার পরিজনের পাশে থাকতে না পারলেও বছরের দুই ঈদের ছুটিতে পরিবারের সংস্পর্শে আসেন জেলার এই কর্মজীবী মানুষগুলো। তবে প্রতি ঈদেই এভাবে বাসভাড়া বৃদ্ধি পেলে চরম হয়রানির শিকার হন তারা। ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষের আসার পথে ঈদ বোনাস হিসেবে বাসভাড়া কিছুটা বেশি নিলে তেমন কষ্ট না লাগলেও ফেরার পথে এই বেশি পরিমাণে ভাড়া নেয়াটা খুবই দুঃখজনক।

বাসযাত্রী সুমন মিয়া অভিযোগ করেন, এসি বাস সার্ভিস সোনিয়া ও সকাল সন্ধ্যার ২৫০ টাকার ভাড়া যাত্রীদের বেকায়দায় ফেলে আদায় করছে ৪০০ টাকা। তবে এই অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধি সত্ত্বেও নীরব ভূমিকা পালন করছে জেলার আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বশীল প্রশাসন। ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নাসরিন বলেন, যাতায়াতের উভয় সময়ই তাদের নির্ধারিত বাস ভাড়ার অধিক টাকা দেয়াটা অনেকটাই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতি রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সুধিমহলের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বাসভাড়া বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে টাঙ্গাইল জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন জানান, অন্য জেলার মতো টাঙ্গাইলে বাসভাড়া বৃদ্ধি পায়নি। এসি সার্ভিসে ১৫০ ও নন এসি সার্ভিসের নিরালা সুপারে ৯০, ধলেশ্বরী সার্ভিসে ৭০ আর ঝটিকায় বেড়েছে মাত্র ২০ টাকা। তবে এ ভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে তার দাবি, টাঙ্গাইল থেকে ঢাকাগামী বাসগুলো বেশি ভাড়ায় গেলেও ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে ফিরছে সম্পূর্ণ যাত্রীশূন্য হয়ে। এই পরিমাণে ভাড়ার টাকা বেশি যদি বাস যাত্রীরা না দেন, তাহলে দেখা যাবে ঢাকা টাঙ্গাইলের যাত্রীরা বাস সংকটে পড়বেন।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, ঈদের সময় বাস ভাড়া বৃদ্ধি না করার জন্য মালিক ও শ্রমিক সমিতিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও যদি ভাড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে যাত্রী হয়রানি করা হয়, তবে এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ৪শ’ টাকার টিকিটে এখন ৫শ’ টাকা আদায় করা হচ্ছে। যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হলেও অসহায়ের মত বাস মালিকদের জবরদস্তির কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। শহরের শেখ মুস্তাজিবুল হক নামে এক যাত্রী গত সোমবার বিকালে শহরের গাইটাল স্ট্যান্ড থেকে ‘যাতায়াত এক্সক্লুসিভ এসি কোচ’ নামে বাসের ই-৩ নম্বর আসনের ঢাকার একটি টিকিট কিনেছেন। বাসটি ছেড়েছে গত মঙ্গলবার সকাল ৭টায়। বাসের প্রতিটি টিকিটের প্রকৃত দাম ৪শ’ টাকা হলেও রাখা হয়েছে ৫শ’ টাকা। টিকিটের গায়েও ৫শ’ টাকা লেখা হয়েছে। বিষয়টি জানার জন্য টিকিটে লেখা কাউন্টারের মোবাইল নম্বরে এ প্রতিনিধি ফোন দিয়ে ঢাকার টিকিটের দাম জিজ্ঞেস করতেই অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘ঈদ পারপাসে ৫শ’ টাকা’। এ সময় ‘কেন’ জিজ্ঞেস করতেই মোবাইল সংযোগ কেটে দেয়া হয়।