• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৫, ১২ জমাউল আওয়াল ১৪৪০

কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কে সেতুর স্লিপার ভাঙা : ঝুঁকিতে যান চলাচল

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)

| ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

image

কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের ধলাই সেতুর সাইড স্লিপার ভেঙে গেছে -সংবাদ

মৌলভীবাজারের ব্যস্ততম সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে শ্রীমঙ্গল-শমশেরনগর-ব্রাহ্মণবাজার সড়কের কমলগঞ্জ উপজেলাধীন অংশের ২৬তম কি.মি. এলাকায় ভানুগাছ বাজার সংলগ্ন ধলই নদীর ওপর প্রায় ১৪ বছর আগে নির্মিত সেতুটির পূর্ব অংশের সাইড স্লিপার ভেঙ্গে পড়েছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যানবাহন চলাচল। ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল থেকেই ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে প্রথমে লাল নিশানা টাঙ্গানো হলেও পরে কোন রকম জোড়াতালি দেয়া হয় সাইড স্লিপার। ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি মজবুতভাবে মেরামত করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। মাত্র ১৪ বছরের মধ্যে ব্রিজের সাইড স্লিপার ভাঙ্গা ও ব্রিজের ওপর একাধিক খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

উল্লেখ্য, শ্রীমঙ্গল-শমশেরনগর-ব্রাহ্মণবাজার সড়কের কমলগঞ্জের ধলাই সেতুটির ১৯৯৮ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর উপস্থিতিতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন হুইপ স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ। ঢাকার রূপায়ণ নামক একটি কোম্পানি ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ধলাই সেতুর নির্মাণ কাজ পায়। রাজনৈতিক কারণে পরে কাজটি সাব কন্ট্রাক হিসাবে হাতিয়ে নেন আওয়ামী ঘরনার সিলেটের এক ঠিকাদার। সেতু নির্মাণের কাজের শুরুতেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। নির্মাণ কাজের সিডিউলের নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে সাব ঠিকাদার রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে কাজ করায় কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।

এ বিষয়ে তখন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ করলেও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট দফতরের। নানা অনিয়ম দুর্নীতির মধ্যে তারাহুড়া করে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করা হলে ২০০৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান সেতুটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের ৬ বছরের মাথায় সেতুটির পূর্ব অংশের পিচ উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হলে রাতের আধারে পাথর গালা দিয়ে তা সংস্কার করে মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ। বর্তমানে সেই সংস্কারকৃত গর্তগুলোর পিচ উঠে যাওয়ার পাশাপাশি পাশে আরও ৪-৫টি স্থানে পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় নতুন গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বড় বড় সেতুগুলোর স্থায়িত্ব ৬৫-৭০ বছর হলেও কমলগঞ্জের ধলাই সেতুটি উদ্বোধনের ৬ বছরের মাথায় একাধিক স্থানে গর্ত সৃষ্টি ও পিচ উঠে গেলেও মাথাব্যথা নেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ সোহেল বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।