• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৫, ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

একটি সেতু বদলে দিতে পারে দুই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা

সংবাদ :
  • সনজিৎ কুমার দাস, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী)

| ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯

image

রাজবাড়ী সদর ও বালিয়াকান্দি উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া সেতুহীন হড়াই নদী -সংবাদ

রাজবাড়ী শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের বাড়ীগ্রাম এলাকায় রাজবাড়ী সদর উপজেলা ও বালিয়াকান্দি উপজেলার সংযোগস্থল। এ দুটি উপজেলার সংযোগস্থলকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ৪৫ মিটারের একটি হড়াই নদী। এ নদীর দুই পাশেই রয়েছে পাকা সড়ক। একটি সেতু বদলে দিতে পারে দুই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে হাসি ফোটবে হাজার কৃষকের মুখে। এমন জন গুরুত্ব সম্পূর্ণ একটি সেতু নির্মাণ হচ্ছে না বছরের পর বছর।

জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাড়ীগ্রাম অঞ্চলের বাঞ্জারাম মন্ডলের ছেলে কৃষক পরিমল মন্ডল জানান, এখান থেকে পার্শ¦বর্তী বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর বাজার মাত্র ৪ কিলোমিটার, জামালপুর বাজার ৭-৮ কিলোমিটার অথচ আমাদের উৎপাদিত ফসল বহরপুর বাজারে বিক্রি করতে গেলে ১০ কিলোমিটার ঘুরতে হয় আর জামালপুর বাজারে বিক্রি করতে গেলে ঘুরতে হয় ২৩ কিলোমিটার।

আমাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে অনেক খরচ হয়। ফলে আমরা লোকশান গুনছি বছরের পর বছর। আমাদের এ সেতুটি হয়ে গেলে কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ দূর হয়ে হাসি ফুটবে প্রতিটি কৃষকের মুখে।

হড়াই নদীর পারের বাসিন্দা বালিয়াকান্দি উপজেলার পাকালিয়া গ্রামের আক্কাস শেখের ছেলে ভ্যানচালক কহিল শেখ জানান, আমরা যেখানে দাড়িয়ে আছি এ বাড়ীগ্রাম এলাকা থেকে বহরপুর বাজার ৪ কিলোমিটার, জামালপুর বাজার ৮ কিলোমিটার, বানিবহ বাজার ৪ কিলোমিটার ও মুলঘর ইউনিয়নের কুটিরহাট বাজার মাত্র ৫ কিলোমিটার। আমরা এ অঞ্চলের মানুষ এই একটি সেতুর কারণে কোনদিনও বানিবহ ও কুটিরহাটে যেতে পারিনা, আর যদি কোন কারণ বসত বানিবহ যেতে হয় তবে ঘুরে যেতে হবে ১২ কিলোমিটার আর কুটির হাট যেতে পারি দিতে হয় ১৫ কিলোমিটার। আমাদের প্রাণের দাবি এ সেতুটি নির্মাণ করে এ জনদুর্ভোগ দূর করবে সরকার।

বাস শ্রমিক ছিদ্দিকুর রহমান খান জানান, রাজবাড়ী থেকে মধুখালির দূরত্ব ৩৮ কিলোমিটার বাড়ীগ্রাম এ সেতুটি নির্মাণ হলে রাজবাড়ী থেকে মধুখালির দূরত্ব কমে ২৮ কিলোমিটার হবে। রাজবাড়ী থেকে বানিবহ হয়ে বাড়ীগ্রাম পার হয়ে মধুখালি যাওয়ার উপযোগী রাস্তা থাকলেও বছরের পর বছর এই একটি সেতু না থাকায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে আমাদের মধুখালি যেতে হয়। বানিবহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম মোস্তফা বাচ্চু জানান, ৪টি ইউনয়নের মহনাস্থল বাড়ীগ্রাম এলাকা।

এ অঞ্চল প্রকৃতির অপরুপ সাঝে সজ্জিত, হাজার হাজার একর আবাদি অনাবাদি জমি রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এখানে লক্ষ লক্ষ অতিথি পাখি আসে। এ ছাড়াও রাস্তার দু’পাশে টুই টুম্বর পানি হয়ে এক অপরুপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়।

এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে হাজার হাজার মানুষ স্বপরিবারে বেড়াতে আসে। নৌকায় ঘুরে ঘুরে যার যার বাহনে বাড়ি ফিরলেও এই একটি ব্রিজের জন্য এপারের মানুষ ওপারে মানুষের সঙ্গে দূরত্ব থাকে অনেক। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বাড়ীগ্রামে দর্শনার্থীদের বসার জন্য কয়েকটি ব্রোঞ্জ বানিয়ে দিয়েছি।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রকৌশলী স্বপন কুমার গুহু জানান, এ সেতুটি নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যেই কাজী কেরামত আলী নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা এটা ডিপিপিভুক্ত করেছি অচিরেই এ ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। সেতুটি নির্মিত হলে হাজারও মানুষের নানাবিধ উপকার হবে।