• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ রবিউস সানি ১৪৪১

উপহারের ৩ গরুতে ঈদ ছয় গ্রামে

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)

| ঢাকা , রোববার, ১১ আগস্ট ২০১৯

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে ঈদ উপহার হিসেবে পাওয়া ৩টি গরু নিয়ে অভাবীদের মাঝে উচ্ছাস-উদ্দিপনা বিরাজ করছে। অর্থ কষ্টের কারণে অতীতের ঈদে কোরবানি দেবার ভাগ্য না হলেও উপজেলার ৬টি গ্রামের ১৯০টি পরিবারের এবার হচ্ছে স্বপ্নপূরণ। জানা যায়, স্থল ইউনিয়নের দুর্গম বাইশবাড়ির চরের অসুস্থ বৃদ্ধ কৃষি শ্রমিকের স্ত্রী লাল ভানু বেওয়া (৬৮)। জীবনের শেষ সময় অতিবাহিত করছেন। অভাব অনটনে ঘেরা দীর্ঘ জীবন কাটিয়ে এখন অনেকটাই হাপিয়ে উঠেছেন। প্রতিবার ঈদে অনেকের উৎসব আনন্দে পুরোদিন কাটলেও তার অবস্থা অনেকটাই থাকে নিরানন্দের। নতুন পোশাক তো গায়ে মেলা দূরের কথা। মুখে দেয়ার মতো মেলে না একটুখানি মিষ্টি সেমাই। যাও বা হয় তাও অন্যের দয়ায়। তাই এদের মতো স্বামর্থহীন মানুষের কোরবানির জন্য আস্ত পশু সে তো স্বপ্নময়। তবে এবার ঠিকই তিনি একটি পশু কোরবানি দিতে যাচ্ছেন। আমেরিকার ‘জন হপ কিং’ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রবাসী নাবিদা খানের দেয়া উপহার হিসেবে পাওয়া কোরবানির পশু নিয়ে তার উৎসাহ ও উদ্দিপনার এখন শেষ নেই। তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে জানান, আমি যে কুরবানী করমু তা কোনদিন ভাবিনাই। বিদাশী দয়ালু আফা আমাগোরে নিগা একখ্যান বড় গরু দিছে হেডাই ব্যাহে মিলা কুরমানি দিমু। এ্যার চ্যাই কি কোন আনন্দ আছে? তার মতো ঈদ আনন্দে উৎসাহে মেতেছে বরংগাইল গ্রামের রশিদ মোল্লার স্ত্রী বৃদ্ধা রহিমা খাতুন, বাইশবাড়ি গ্রামের নকির উদ্দিনের স্ত্রী বৃদ্ধ সুর্য্য বানু, হজরত আলীর স্ত্রী জহুরা খাতুন এবং স্থল নওহাটার সাইদুল ইসলামের ছেলে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র রাসেল রানা সহ কাটারবাড়ি, ফুলারা, বাইশবাড়ি, নওহাটা, তেঘুরী, বরংগাইল গ্রামের অসহায় ১৯০টি পরিবার। তারা জানান, আমাদের সবার এবার পরিপূর্ণ ঈদ-ঈদ মনে হচ্ছে। এর আগে কোন ঈদে আমরা গরু তো দূরের কথা ছোট ছাগল-ভেড়াও কিনার ক্ষমতা নেই। কিন্তু এবার সবাই মিলে ৩টি গরু কোরবানি দিচ্ছি। বিদেশি আপায় আমাদের এই গরুগুলো উপহার দেয়ায় তার প্রতি আমরা চির কৃতজ্ঞ।

এদিকে আমেরিকা প্রবাসী নাবিদা খান গরু ৩টি কেনার জন্য উন্নয়ন সংস্থা মানবমুক্তির নির্বাহী পরিচালক হাবিবুল্লাহ বাহারের কাছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা পাঠান। গত রোববার এই টাকা গরুগুলো কিনে তাদের ঈদ উপহার হিসেবে দেয়া হয়। উন্নয়ন কর্মী হাবিুল্লাহ বাহার জানান, আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাবিদা ম্যাডাম গত ৩ বছর আগে চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে গবেষণা করতে এসে তাদের প্রতি অনুপ্রাণিত হন। এজন্যই এবার ঈদে তিনি ওই গরুগুলো কিনতে আমার কাছে টাকাগুলো পাঠিয়েছিল। তিনি ঈদ উৎসবে অতি দরিদ্রদের আনন্দের মাত্রা বাড়াতে যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা অন্যের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।