• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ জিলকদ ১৪৪১

উপজেলা প্রতিষ্ঠার ৭ বছরেও রাঙ্গাবালীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়নি!

স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত দেড় লক্ষাধিক মানুষ

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা। ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থানা থেকে উপজেলায় রূপান্তরিত হয়। ওই থেকে উপজেলা প্রশাসনের কিছু দফতরে কার্যক্রম চালু হলেও অদ্যাবদি গড়ে ওঠেনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষ।

রাঙ্গাবলী, বড়বাইশদিয়া, ছোটবাইশদিয়া, চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজ ইউনিয়ন নিয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা। এখনও গড়ে ওঠেনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। মানুষ নির্ভর করছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ওপর। প্রতি ইউনিয়নে একটি করে কেন্দ্র থাকার কথা থাকলেও উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে এখনও গড়ে ওঠেনি ওই কেন্দ্রটি। হাতুরে ডাক্তারদের ওপরে নির্ভর করছে ওখানকার মানুষ। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না তারা।

চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে আগ থেকে গড়ে ওঠা রুরাল ডিসপেনসারি (আরডি) ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। বড়াবাইশদিয়া ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ৪ ইউনিয়নে কেন্দ্র চালু থাকলেও এতে নেই কোন এমবিবিএস ডাক্তার বা পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা। ১ জন করে সাব-এসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) আর ১ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফ.ডব্লিউ.ভি) নিয়োজিত আছেন ওইসব কেন্দ্রে। একটু জটিল রোগে রোগীকে রেফার করতে হয় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। বিপাকে পরে রোগী ও অভিভাবকরা। অসাধ্য সাধন করতে হয় তাদের। ধার দেনা করে রোগী নিয়ে যায় পটুয়াখালী বরিশাল অথবা ঢাকায়। এছাড়াও ৫ ইউনিয়নে ১২টি কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের ব্যবস্থা থাকলেও তাতে নেই কোন ডাক্তার। প্রচার প্রচারণার অভাবে রোগীদের তেমন সাড়া পরে না সেখানেও। ইদানিং কিছু ছোট ছোট প্রাইভেট ডায়াগনোস্টিক সেন্টার চালু হলেও তাতে নেই কোন নিয়মিত ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার সরঞ্জাম। দেশের বিভিন্ন শহর থেকে ডাক্তাররা এসে মাইকিং করে সপ্তাহে ১দিন রোগী দেখে চলে যান তাদের কর্মস্থলে। তারা চলে গেলে রোগীদের অবস্থার উন্নতি বা অবনতির কথা চিন্তা করে হতাশায় ভোগেন অভিভাবকরা। এজন্য ওই সব সেন্টারে রোগী দেখাতে চান না তারা। উপজেলায় বিদ্যুত ব্যবস্থা না থাকায় সেন্টার চালাতে বেগ পেতে হয় মালিকদের। নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে চালাতে হয় সেন্টারগুলো তাতে খরচ হয় অনেক বেশি। এ খরচের অংশ রোগীর ওপরে উঠালে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। ইউনিক ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জোবায়ের হোসেন বলেন, আমাদের সেন্টারে কয়েক ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন জেনারেটর ব্যবহার করতে হয় যা অত্যন্ত ব্যয় বহুল। ১৯৯৬ সনের থানা বর্তমান উপজেলা। হাতুরে ডাক্তারের ওপর এখনও নির্ভর করছে উপজেলার মানুষ। এখনও হাতুরে ডাক্তারদের ওপর নির্ভর করে তারা। এমতাবস্থায় উপজেলা কমপ্লেক্সেও দাবি উপজেলাবাসীর। ১৯নং গ্রামের ৮০ বছর বয়সী আবদুল খালেক হাওলাদার বলেন, ‘ছোট কালে গুটিবসন্ত অইছিল। গ্রাম্য ডাক্তার দিয়া চিকিৎসা করাইছিলাম। এ্যাহন উপজেলা। এ্যাহনও গ্রাম্য ডাক্তার দেহাইতে অয়।’ রাঙ্গাবালী উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমেদ জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বরাদ্দ হয়েছে। অল্পদিনের মধ্যেই রাঙ্গাবালী বাসীকে সুখবর দেয়া যাবে।