• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, ১২ শাবান ১৪৪১

উদ্বোধনের আড়াই বছরেও চালু হয়নি চিলমারী নদীবন্দর

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, চিলমারী (কুড়িগ্রাম)

| ঢাকা , রোববার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

কুড়িগ্রামের চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদে নৌ-বন্দর পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্বোধনের প্রায় আড়াই বছর পার হলেও অদ্যবধি কোন কার্যক্রম শুরু করেনি কতৃপক্ষ।

জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে চিলমারী নৌ-বন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বন্দরের মাধ্যমে পণ্য সামগ্রী জাহাজে করে কলকাতা থেকে গোহাটি হয়ে আসামের ধুপড়ী পর্যন্ত পরিবহন করত। উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ার কারণে বন্দরের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়ে। ২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী চিলমারীতে ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল বিতরণ অর্থাৎ খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম চিলমারী বন্দর পুনঃপ্রতিষ্ঠানের দাবি জানালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিলমারী নৌ-বন্দর পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষনা দেন। ওই সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান উপজেলার রমনা নৌ-ঘাটে নৌ-বন্দরের উদ্বোধন করেন। বন্দর প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

জেলা পরিষদ পূর্ব থেকে জেলার সকল নৌ-ঘাট ইজারা দেয়াসহ পরিচালনা করে আসত। জেলা পরিষদ নদী-বন্দর ঘোষিত এলাকায় তাদের পন্টুন স্থাপন করে ইজারাদার ঘাটের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। একই স্থানে নৌ-বন্দর ও জেলা পরিষদের নৌ-ঘাটের কার্যক্রম পরিচালনা হওয়ায় জেলা পরিষদ ও নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ’র মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়ে মামলা পর্যন্ত গড়ায়। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান আবারও ২০১৮ সালে ৯জুন চিলমারী সফরে এসে নদী বন্দর পরিদর্শন শেষে এক মতবিনিময় সভায় তার বক্তব্যে বলেন, চিলমারী নৌ-বন্দর প্রতিষ্ঠায় সব ধরনের সমস্যা সমাধান করে অতি শীঘ্রই বন্দর প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর পরেই বন্দরের নিরাপত্তা রক্ষায় বন্দর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হলেও বন্দর প্রতিষ্ঠার তেমন কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, এ বছর বন্যায় চিলমারী উপজেলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখানকার মানুষের কর্মসংস্থানের বড় অভাব। চিলমারী নদীবন্দর চালু হলে এখানের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। জরুরি ভিত্তিতে বন্দরটি চালুর করার ব্যাপারে তিনি চেষ্টা করবেন বলে জানান।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীরবিক্রম বলেন, চিলমারী নদী বন্দর চালু হলে এখানে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু হবে। চিলমারীর মানুষের বেকারত্ব দূর হবে।

তিনি বন্দরের কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এদিকে, বিআইডাব্লিউটিএ‘র পরিচালক (বন্দর) শফিকুল ইসলাম জানান, ডিপিপি প্রধানমন্ত্রীর নিকট জমা দেয়া আছে একনেকে অনুমোদন হলে বন্দর প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হবে।