• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

ঈদে সরগরম কামারপাড়া

সংবাদ :
  • সংবাদ জাতীয় ডেস্ক

| ঢাকা , রোববার, ১১ আগস্ট ২০১৯

image

ঝালকাঠির : দা-বঁটি বানানোতে ব্যস্ত কামাররা -সংবাদ

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশে কামারদের ব্যস্ততা বেড়েছে। পশু কোরবানির যন্ত্রপাতি তৈরি ও সান দেওয়ায় ব্যস্ত কামারা। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে-

ঝালকাঠি

সারাবছর অনেকটা অলস সময় কাটালেও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন মহাব্যস্ততায় ঝালকাঠির কামার পাড়া। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীররাত পর্যন্ত কামারের দোকানে চলে টুং-ট্যাং শব্দ। তৈরি হচ্ছে দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি। অনেকে আবার গরু জবাই ও মাংস কাটার জন্য পুরনো অস্ত্র মেরামতের জন্য ভিড় করছেন কামারদের দোকানে। কেউ হাতুড়ি দিয়ে লোহা পেটাচ্ছে, কেউ হাপোর টানছে। কেউ দিচ্ছে ছুরি, চাপাতি ও বটিতে শান। এভাবেই কাজের মধ্যে ডুবে থাকছে ঝালকাঠির কামাররা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না তারা। জেলা সদরের কামারপট্টিসহ চার উপজেলার অর্ধশত স্থানে কামারদের দোকান রয়েছে। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য অনেক আগে থেকেই দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি তৈরির অর্ডার নিয়েছেন কামারেরা। কাজের চাপে এখন আর নতুন করে অর্ডার নিতে পারছেন না বিক্রির জন্য দোকানের সামনে সাজিয়ে রাখা হয়েছে তৈরি করা লোহার ধারালো অস্ত্র। স্প্রিং এবং সাধারণ লোহা থেকে তৈরি করা এসব অস্ত্র পছন্দমতো কিনছেন ক্রেতারা। দাম একটু বেশি হলেও বেচা-বিক্রি ভাল বলে জানালেন বিক্রেতারা। কোরবানির সময় লোহার তৈরি ধারাল অস্ত্রের চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রিও বেড়ে যায়। এক ঈদের রোজগারে সারাবছর চলতে হয় কামারদের। তাই লোহার মূল্য কমানো দাবি জানিয়েছেন তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়ে গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কামারশালাগুলোতে। সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত চলছে তপ্ত লোহাকে পিটিয়ে দা, ছুটি, কোপতা তৈরির কাজ।

জেলা শহরের কয়েকটি কামারশালা ঘুরে দেখা যায় এ চিত্র। শহরের প্রাণ কেন্দ্র অক্ট্রয়মোড় এলাকার একটি কামার শালায় কথা হয়, মালিক শ্রী মতিলাল কর্মকারের সঙ্গে। তিনি জানালেন, ঈদ আসলেই তাদের কাজের চাপ কয়েকগুন বেড়ে যায়, গত বছর বস্তা প্রতি যে কয়লা সাড়ে ৬শ’ টাকা ছিল, তা এ বছর বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২শ’ টাকা। ফলে স্বাভাবিকভাবে বেড়েছে মজুরি। তারপরও বাড়তি কাজে তার আয় ভালই হচ্ছে । আর এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত ৩ জন শ্রমিক নিয়োগ করেছেন, যারা ছুরি দা গুলো ধারাল করে তোলার কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, পুরনো দা বটি, কোপতা শান দেয়ার মজুরি প্রকারভেদে ৫০, ৮০ ও ১২০ টাকা নেয়া হচ্ছে। গতবছর লোহার দাম ছিল কেজিতে ৪শ’ টাকা, এবার বেড়ে হয়েছে ৫শ’ টাকা। ফলে পারিশ্রমিকের ওপর বেশ প্রভাব পড়েছে।

কামারশালায় কথা হয় আনারুল ও শফিকুলের সঙ্গে, পছন্দমতো ও মানসম্মত ছুরি কিংবা দা বা কোপতা যায়ই হোকনা কেন, কোরবানি ঈদের সময় কামার শালায় আসতে হয়। দাম কিছুটা বাড়তি থাকলেও তৈরিকৃত পাওয়া গেলেও মানের বিচারে নিজের পছন্দমতো ও ওজনের তৈরি করে নেয়ায় ভাল। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দোকান বসিয়ে তৈরিকৃত ছুরি, দা, কোপতা বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। অনেকেই এসব দোকানে ভিড় করছেন, দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন প্রয়োজনীয়।