• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭, ১৩ জিলকদ ১৪৪১

ইটভাটায় বিবর্ণ বাংলাদেশ

আদালত উপেক্ষা, প্রশাসন ম্যানেজ করে চলছে ভাটা

সংবাদ :
  • শামসুর রহমান, কেশবপুর (যশোর)

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০

image

কেশবপুর (যশোর) : কাস্তা চৌরাস্তা মোড়ে ফসলি জমিতে গড়ে তোলা অবৈধ রোমান ব্রিকস -সংবাদ

হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে যশোরের কেশবপুর উপজেলার কাস্তা চৌরাস্তা মোড়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রোমান ব্রিকস ইট ভাটার সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া, হাইকোর্ট বিভাগ ভাটাটি বন্ধে প্রথমে ৬ মাস ও পরবর্তীতে ১ বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। চলতি বছর হাইকোর্টের এ নির্দেশ অমান্য করে ওই ভাটা মালিক প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পুরোদমে ভাটায় ইট পোড়ানোসহ বিকিকিনির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৩ মার্চ এলাকাবাসীর পক্ষে আব্দুস সাত্তার ওই অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে যশোরের জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের একাধিক দপ্তরে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ বলছে, আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও ফসলি জমির এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এছাড়া কোন সড়ক ও মহাসড়ক থেকে অর্ধকিলোমিটার দূরত্বে ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। কিন্তু কাস্তা চৌরাস্তা মোড়ের উচ্চ ফলনশীল কৃষি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রোমান ব্রিকস ইট ভাটার পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের কোন লাইসেন্স নেই। এ ভাটার চারিপাশে উচ্চ ফলনশীল কৃষি জমি। ভাটার কারণে নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাট। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া, শস্যহানিসহ পরিবেশ রয়েছে মারাত্মক হুমকির মুখে।

এ কারণে ভাটা স্থাপনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দেয়াসহ আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছিলেন। এতে কাজ না হওয়ায় এলাকাবাসী ২০১৮ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দারস্থ হলে লিগ্যাল নোটিস দেয়া হয় ভাটা মালিককে। কিন্তু ভাটা মালিক এ লিগ্যাল নোটিসের কোন তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভাটায় আগুন দিয়ে ইট উৎপাদন শুরু করেন। এক পর্যায়ে বেলা ওই ভাটার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করে। যার নং- ২১২১/১৮। হাইকোর্টের বিজ্ঞ বিচারক মো. আশফাকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী ভাটার কার্যক্রম বন্ধে প্রথমে ৬ মাসের ও পরবর্তীতে ১ বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এছাড়া, ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি হাইকোর্টের ৩৩নং বেঞ্চের শুনানিতে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স নিয়ে ভাটাটি পরিচালনা করবেন বলে ভাটা মালিক কোর্টে অঙ্গীকার দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। যা কৃষকদের পক্ষে রয়ে যায়। এ সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে পত্র দেয়া হয় যশোর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের একাধিক দফতরে।

যে কারণে গতবছর জানুয়ারি মাসে কেশবপুরের তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানূর রহমানের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অভিযান চালিয়ে কাস্তা চৌরাস্তা মোড়ের রোমান বিকসের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে ভাটা মালিককে ৬ মাস জেল ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এদিকে, চলতি বছরের নভেম্বরে হাইকোর্টের এ নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভাটা মালিক প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পুরোদমে ভাটায় ইট পোড়ানোসহ বিকিকিনির কাজ শুরু করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মরণঘাতক রোগ করোনাভাইরাসের জন্য সারাবিশ্ব যখন পরিবেশ বাঁচাতে সবকিছু লকডাউন করে দিচ্ছে তখন পরিবেশ দূষণকারী অবৈধ রোমান ব্রিকস বহাল তবিয়াতে ইট পোড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভাটার চারপাশে সদ্য রোপণকৃত বোরো ক্ষেত কালো ধোয়ার কারণে বিবর্ণ হয়ে গেছে। এলাকাবাসী ফসল রক্ষাসহ পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা ও মহামারী রোগ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে অবিলম্বে ওই অবৈধ ভাটার কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর পুনরায় অভিযোগটি করেছেন। ওই ভাটা স্থাপনের বিরোধিতা করায় এখনও অর্ধশত কৃষক মামলায় ঝুলছে। বর্তমান তিনি কৃষকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। যে কারণে ভাটা মালিক সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ২৪ মার্চ এলাকার মো. সাইফুল্লাহ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। যার নং- ৭৫৩। এ ব্যাপারে ভাটা মালিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার জন্যে আবেদন করা হয়েছে। এখনও পাইনি। এছাড়া ভাটার অনুকূলে অন্য সকল কাগজপত্র ম্যানেজ করে ভাটায় ইট উৎপাদন করা হচ্ছে। এরপরও প্রশাসন না চাইলে ভাটা বন্ধ করে দেব।