• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মহররম ১৪৪১

অবৈধ স্থাপনায় বিলীন ২০ খাল মৃতপ্রায় ৪০ : বাড়ছে জলাবদ্ধতা

সংবাদ :
  • নোমান হোসেন আখন্দ, শাহরাস্তি (চাঁদপুর)

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

শাহরাস্তি (চাঁদপুর) : খাল দখল করে এভাবেই গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা -সংবাদ

শাহরাস্তি উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ২ শতাধিক সরকারি হালটভুক্ত খাল রয়েছে। এতে উপজেলার ৪০টি প্রধান খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করছে একশ্রেণীর ভূমিদস্যুরা। বিভিন্ন বাজার ও বাড়ির ওপর দিয়ে যাওয়া ২০টি ছোট খাল ভরাট করে দখলে নিয়ে বিলীন হয়ে গেছে।

এছাড়া সড়ক ও জনপদের পার্শ¦বর্তী খালগুলোর ওপর পাকা ইমারত ও অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করে দখলে নিয়েছে ভূমিদস্যুরা। তবে বেশকিছু দোকানপাট থেকে জেলা পরিষদ বাৎসরিক সরকারি ফি আদায় করে নিচ্ছেন। এ সকল খাল দখলে নিয়ে ইমারত নির্মাণের ফলে বেশকিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে।

ইরি বোরো মৌসুমে পানির অভাবে এ সকল মাঠ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে, ফলে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। সরকারি খালগুলোর ওপর আধা-পাকা, সেমি-দালান, দোতলা থেকে পাঁচতলা ইমারত স্থাপন করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এ সকল খালগুলো পানিতে টইটম্বুর হয়ে থাকলে ও খালের ওপর ইমারত থাকায় পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।

এছাড়া ও উপজেলার বেশকিছু খাল ময়লা আর্বজনা ও পলি জমে মরে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। শাহরাস্তি উপজেলার ইমারত নির্মাণ করে দখল হয়ে যাওয়ার পথে উল্লেখযোগ্য খালগুলো হচ্ছে, ঠাকুর বাজারের ওপর দিয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক মেহার গোদা খাল, মেহারকালী বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত খাল, শাহরাস্তি পৌরসভার সামনে অবস্থিত কালীবাড়ী হয়ে ডাকাতিয়া নদী সংযুক্ত খাল, ঠাকুর বাজারের উত্তর অংশে অবস্থিত শ্রীপুর কাজিরকাপ গ্রাম সংযুক্ত খাল, কালিয়াপাড়া বাজারের ওপর দিয়ে অবস্থিত মেহার উত্তর ইউনিয়ন সংযুক্ত খাল, মেহারকালী বাড়ি হয়ে সুচীপাড়া বাজার পর্যন্ত ডাকাতিয়া নদীর পাড় ঘেষা সংযুক্ত খাল, সুচীপাড়া হয়ে আয়নাতলী ও উঘারিয়া মোল্লাদজ্জা বাজার পর্যন্ত দু’পাশের সংযুক্ত খাল, উঘারিয়া থেকে চিতোষী বাজার রাস্তার দু’পাশের খাল, ও উঘারিয়া থেকে নরিংপুর বাজার পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল, নরিংপুর থেকে সাংহাই পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল, শোরশাক থেকে রাগৈ পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল, রাগৈ থেকে লোটরা পানিয়ালা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল,খিলা বাইপাস সড়ক ও দু’পাশে অবস্থিত আহম্মদ নগর ভেরকী ও গ্রাম খিলা পর্যন্ত সংযুক্ত খাল, চিতোষী বাজার থেকে বেরনাইয়া বাজার পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল, গ্রামখিলা এলাকায় সংযুক্ত খাল ও সড়কের জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ, কাজির কামতা থেকে সাহেব বাজার হয়ে টামটা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল, দোপল্লা বাজার থেকে উয়ারুক এলাকার সড়ক জনপদ বিভাগের সড়ক পর্যন্ত দু’পাশের খাল, সেনগাঁও থেকে বলশিদ সড়কের রাস্তার দু’পাশের খাল, উয়ারুক থেকে ইছাপুরা মুড়াগাঁও পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল, সড়ক ও জনপদ বিভাগের কাকৈরতলা থেকে কালিয়াপাড়া, কালিয়াপাড়া থেকে দোয়াভাঙ্গা, উয়ারুক থেকে উয়ারুক স্টেশন পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল ভরাট করে দোকান পাট নির্মাণ ও বহুতল বাড়ি ও মার্কেট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বেরনাইয়া, চিতোষী, কালিয়াপাড়া, দোয়াভাঙ্গা, উঘারিয়া, আয়নাতলী, সহ বেশ কয়েকটি বাজারের দু’পাশের খালের ওপর দোকান পাট নির্মাণ করায় জেলা পরিষদ তাদের কাছ থেকে বাৎসরিক খাজনা আদায় করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা মীরা জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি স্থানে খালের ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা সরানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভবন ও বহুতল ভবন সরানোর ক্ষেত্রে উচ্ছেদ মামলা পরিচালনা করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হয়। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ফেলেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ পরিচালনা সহজ হয়।